Sunday, 12 August 2018

কুরআন সুরা--৪ নিসা-- ২১ থেকে ২৫ আয়াত

      বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪  নিসা—২১ থেকে ২৫ আয়াত।]
     ২১) কিরূপে তোমরা তা গ্রহণ করবে, যখন তোমরা পরস্পর সহবাস করেছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছে?
     মর্মার্থঃ—সংসারে থেকে ধৈর্য সহকারে ক্ষমা করতে শেখা, নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করতে শেখা এবং নিজেকে সৎকর্মশীল চরিত্রের মানুষ তৈরী করার জন্য সংগ্রাম করায় হচ্ছে মানুষের ধর্ম। তাই কারো কাছে কিছু পাবার আশা করে কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে গেলেই সেই সম্পর্ক চিরমধুর হতে পারে না। তাই সংসারে সাবধানী হয়ে চলাটায় শ্রেয় পথ।
        ২২) নারীদের মধ্যে তোমাদের পিতৃপুরুষ যাদেরকে বিবাহ করেছ তোমরা তাদের বিবাহ করোনা, অবশ্য যা অতীতে হয়ে গেছে নিশ্চয় তা অশ্লীল, অতিশয় ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ।
          মর্মার্থঃ—ব্যভিচারগ্রস্থ মানুষ কোন দিক থেকেই সুখী হতে পারে না। সমাজ ব্যভিচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার জন্য, এবং ব্যভিচার মুক্ত মানব সমাজ গড়ে তোলার জন্যই এই আয়াত।
        ২৩) তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তোমাদের মাতা, কন্যা, ভগিনী, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগিনেয়ী, দুগ্ধ মাতা, দুগ্ধ ভগিনী, শাশুড়ী ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যা, যারা তোমার অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের ( কন্যাদের মাতার) সাথে সহবাস না হয়ে থাকে তবে তাতে তোমাদের ( বৈধভাবে সংগত হওয়া) কোন দোষ নেই। এবং তোমাদের জন্য তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী ও দুই ভগিনীকে এক সঙ্গে বিবাহ (করাকে নিষিদ্ধ) করা হয়েছে। কিন্তু যা গত, তা গত। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
         মর্মার্থঃ— দৈহিক সুখ ও কামনা- বাসনার দ্বারা যেসব সন্তান- সন্ততির জন্ম হয় তারা কেউ সত্যজ্ঞানের আধার হয়ে আসে না। তাই মানুষকে গভীর চিন্তাশীল হয়ে নিজের বংশ রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হয়। ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে যেসব সন্তান এই পৃথিবীর বুকে আসে তারা সবদিকে দুর্বল হয়ে পড়ে। যাতে এই পৃথিবীর বুকে দুর্বল নারী- পুরুষের প্রবাহ বেনোজল হয়ে না প্রবেশ করে তার শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। যা গত হয়ে গেছে তা গত। এখন জ্ঞানের মানব সমাজ গঠন করার জন্যই আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু হয়ে এই শিক্ষা মানব জাতিকে দিয়ে চলেছেন।
        ২৪) এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের জন্য এ আল্লাহ্‌র বিধান। উল্লিখিত নারীগণ ব্যতীত আর সকলকে অর্থের বিনিময়ে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। তাদের মধ্যে যাদের তোমরা উপভোগ করবে তাদের নির্ধারিত মহর অর্পণ করবে। মোহর নির্ধারণের পর কোন বিষয়ে পরস্পর রাজি হলে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
      মর্মার্থঃ—ধর্মীয় মোহর বা সাধনার মোহর না দিয়ে কোন নারীর সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা পাপ। নারী- পুরুষ উভয়কেই জ্ঞান রাখা উচিত তাদের সংসার জীবন হলো সাধনার জীবন এবং সংসার ক্ষেত্র হলো পবিত্র গৃহ। এই গৃহে আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় হয়ে তাদের সাথে বাস করছেন, তাই তাঁকে ভয় করে, তাঁকেই অভিভাবক মান্য করে চলতে হবে।
        ২৫) আর তোমাদের মধ্যে কারও স্বাধীনা বিশ্বাসী নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী যুবতী বিবাহ করবে। আল্লাহ্‌ তোমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের সমান। সুতরাং তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে তাদেরকে বিবাহ করবে এবং তারা ব্যভিচারিণী অথবা উপপতি গ্রহণকারিণী না হয়ে সচ্চরিত্র হলে তাদের মহর ন্যায়সঙ্গতভাবে দেবে। বিবাহিত হবার পর যদি তারা ব্যভিচার করে তবে তাদের শাস্তি স্বাধীনা নারীর অর্ধেক, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারকে ভয় করে এটা তাদের জন্য, আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর (তবে তাতে) তোমাদের মঙ্গল। আল্লাহ্‌ ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।
    মর্মার্থঃ—সাবধানী হয়ে চলবে যাতে কোনভাবেই তোমাদের পবিত্র সাধনার গৃহে ব্যভিচার না প্রবেশ করে। ব্যভিচার একবার প্রবেশ করলেই সেই পবিত্র গৃহ অন্ধকারে ছেয়ে যাবে, আর কোনদিন-ই সেই গৃহে পবিত্র আলো প্রবেশ করবে না। আল্লাহ্‌ ক্ষমাপরায়ণ ও পরম দয়ালু হয়ে তোমাদের সাথে রয়েছেন, তোমাদের গৃহকে পবিত্র করে তুলে ধরার জন্য, তোমরা তাই ধৈর্য ধারণ করেই ব্যভিচার মুক্ত মন নিয়ে সৎ পথের দিকে এগিয়ে যাবে।
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment