বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—১১ থেকে ১৫ আয়াত।]
১১) আল্লাহ্ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের অংশ দুই
কন্যার অংশের সমান, কিন্তু দুই এর অধিক থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই
তৃতীয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধাংশ। তার সন্তান থাকলে পিতা- মাতা
প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক ষষ্ঠাংশ, সে নিঃসন্তান হলে এবং শুধু পিতা
মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ, তার ভাই বোন থাকলে মাতার জন্য
এক ষষ্ঠাংশ, এ (সবই) সে যা অসিয়ত ( মৃত্যুর পূর্বে সম্পত্তি বন্টনের নির্দেশনামা)
করে তা দেবার পর ও ঋণ পরিশোধ করার পর। তোমরা তো জান না, তোমাদের মাতা পিতা ও
সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারের দিক দিয়ে অধিকতর নিকটবর্তী। এ আল্লাহ্র
বিধান। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
মর্মার্থঃ—পিতা- মাতার সম্পত্তি পুত্র –কন্যা। পুত্র ও কন্যার জান্নাত
হচ্ছে তাদের পিতা এবং জান্নাতের থেকেও বড় ও গর্বের হচ্ছে তাদের মাতা। এই সত্যজ্ঞান
অন্তরে ধরে রেখে পুত্র- কন্যাদের পিতা-মাতার সম্পত্তির পবিত্রধারা বহে নিয়ে যেতে
হবে পরম শান্তিতে, নিজের অন্তরের প্রতিপালককে সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় রূপে জেনে।
১২) তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য, যদি
তাদের কোন সন্তান না থাকে, এবং তাদের সন্তান থাকলে, তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত
সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, তারা যা অসিয়ত করে তা দেবার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যদি
কোন পুরুষ অথবা নারী পিতা মাতাহীন অবস্থায় কাউকে উত্তরাধিকারী করে এবং তার এক ভাই
ও বোন ( বৈপিত্রেয় ভাই বোন) থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য এক ষষ্ঠাংশ। তারা এর অধিক
হলে সকলে এক তৃতীয়াংশের অংশীদার হবে, যা অসিয়ত করা হয় তা দেবার পর এবং ঋণ পরিশোধের
পর, যদি এটা কারও জন্য হানিকর না হয়। এটা আল্লাহ্র নির্দেশ, বস্তুত আল্লাহ
সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
মর্মার্থঃ—স্বামীর নিকট স্ত্রীর ক্ষেত্র যা অন্তর ও বাহির জুড়ে রয়েছে তা
জান্নাতের ন্যায় পবিত্র। এই পবিত্র ক্ষেত্র বা জমির মর্যাদা রক্ষা করার জন্য নিজের
অন্তরের আল্লাহ্র পরামর্শ বা নির্দেশ মেনে সহনশীলতার ভূমিকায় থেকে তা রক্ষা করতে
হবে।
১৩) এ সব আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমা। এবং যে আল্লাহ্র ও রসূলের অনুগত হয়ে
চলবে, আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিচে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা
চিরকাল থাকবে এবং এ মহা সাফল্য।
মর্মার্থঃ—এই পৃথিবী কারো স্থায়ী বাসভূমি নয়। এখানকার সমস্ত ভূমিই আল্লাহ্র।
তাই তিনি যাকে যে টুকু দিয়েছেন বা দিয়ে চলেছেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। আল্লাহ্র
নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে গেলেই বিপদ আসবে। তাই যারা আল্লাহ্র অনুগত হয়ে সহজ-
সরল জীবন যাপন করে তারা এখানেই জান্নাতের সুখ ভোগ করে, জান্নাতের আনন্দধারা নদীর
সাথে জীবনকে যুক্ত করে দিয়ে।
১৪) পক্ষান্তরে যে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত
সীমা লঙ্ঘন করবে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর তার
জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
মর্মার্থঃ—অবাধ্য হয়ে মানুষ কেন অন্যায় কাজ করতে যাবে? প্রত্যেক মানুষের
নিজস্ব জ্ঞান- বুদ্ধি- বিবেক আছে, তাদের কাজে লাগিয়ে যা সত্য তাকে মেনে নিয়ে
সত্যের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার হচ্ছে মানুষের ধর্ম। যে অবাধ্যতার পথে গিয়ে নিজের ধর্ম
রক্ষা করতে পারে না তাকে তো সর্বত্র লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
১৫) তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা
ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চার জনের সাক্ষী নেবে, যদি তারা
সাক্ষ্য দেয় তবে তাদের গৃহে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ্
তাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করেন।
মর্মার্থঃ—যাতে কোন নারী বা পুরুষ ব্যভিচারে জীবন থাকতে লিপ্ত না হয়, সে
জন্য প্রথম থেকেই জীবন সত্যকে জানার শিক্ষার ব্যবস্থা প্রতিটি পরিবারে ও সমাজে
থাকবে। আল্লাহ্কে ভয় করে পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ
সত্যজ্ঞানের দ্বারা শাসিত রাখবে ও কোন অন্যায় কাজকর্মে লিপ্ত থাকবে না। যে চার
জন্য নারীদের ব্যভিচার বিষয়ে সাক্ষী দিবে তাদেরকে অবশ্যই পবিত্র সত্যজ্ঞানের আলোতে
আলোকিত হয়ে বিরাজ করতে হবে। তা- না-হলে আল্লাহ্ অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment