Friday, 10 August 2018

কুরআন সুরা-- ৪ নিসা -- ১ থেকে ৫ আয়াত

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪—নিসা- ১থেকে ৫ আয়াত।]
  ১) হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে, সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দুজন থেকে বহু নরনারী (পৃথিবীতে) বিস্তার করেন, এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞা কর, জ্ঞাতি বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।
      মর্মার্থঃ—এই বিশ্বে সকলেই তোমাদের আত্মীয় কারণ আল্লাহ্‌ এক ব্যক্তি থেকেই বিশ্বে বহু নরনারীর বিস্তার ঘটান। আল্লাহ্‌কে ভয় করে তাঁর দেওয়া বিধানকে বিশ্বাস করে, মান্যতা দিয়ে অন্তর্জগৎ ও বহির্জগতকে শাসন করতে শিখো, যাতে বিশ্বের সকলেই তোমার আত্মীয় এই সত্য অন্তরে উজ্জ্বল থাকে এবং সকলকেই আপন করে নিজের প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখো। যাতে কেউ তোমাদের অন্তরকে ছিন্ন ভিন্ন করে না পালাতে পারে। তোমাদের অন্তর আল্লাহ্‌র অন্তরের সাথে সদায় যুক্ত তাই তিনি তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।
       ২) এবং পিতৃহীনকে তাদের ধন সম্পদ সমর্পণ করবে এবং উৎকৃষ্টের সাথে নিকৃষ্ট বদল করবে না, এবং তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদকে মিশ্রিত করে গ্রাস করো না; এটা মহাপাপ।
         মর্মার্থঃ—পিতৃহারাকে তাদের ধন সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার ন্যায় পাপ দ্বিতীয় নেই। তাই তাদের সম্পদ গ্রাস করার কথা মনে কোন সময় আনবে না। তাদের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব নিলে তা সর্বতোভাবে রক্ষা করবে, যাতে এব্যাপারে কোন রকম পাপ তোমার অন্তরকে স্পর্শ করতে না পারে।
        ৩) আর তোমরা যদি আশংকা কর যে, পিতৃহীনদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে (স্বাধীনা) নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে, দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে( ক্রীতদাসী অথবা যুদ্ধবন্দিনীকে)। এতেই তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার অধিকতর সম্ভাবনা।
     মর্মার্থঃ—মানব জীবন ভোগের জীবন নয়, এ জীবন সাধনার জীবন। এই সাধনা সুস্থভাবে করতে গেলে জ্ঞানীদের জন্য সাধন সঙ্গিনীর প্রয়োজন হয় অনেক ক্ষেত্রে। অনেক সময় পিতৃহারাদের উপযুক্ত মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য মাতৃস্নেহের প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। সাধনার জীবনে কর্তব্য কর্ম করতে গিয়ে মুক্তমনা নারীদের সাধক বিবাহ করতে পারে দুই, তিন অথবা চার জনকে। এক্ষেত্রে সাধক নিজের অধীনস্থ দাসীকে, অথবা ধর্মযুদ্ধে বন্দিনী নারীদেরও বিয়ে করতে পারে। যুদ্ধে বন্দিনী নারী বলতে বুঝায় যারা ধর্ম পথে নিজের জীবনকে বন্দী রেখে ভোগের জীবন থেকে মুক্ত হয়ে জীবন অতিবাহিত করছে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি বিধানের জন্য। যারা ভোগের জীবন অতিবাহিত করে তাদের জন্য আল্লাহ্‌র বিধান কেবল শাস্তি।
       ৪) এবং তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর সন্তুষ্টমনে দিয়ে দাও, পরে তারা খুশী মনে ওর ( মোহরের) কিয়দংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করবে।
        মর্মার্থঃ—যে নারীদের বিয়ে করে অর্থাৎ সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে সাধনার জীবনে নিয়ে আসবে তারা যা চায় তা (মোহর) সন্তুষ্ট মনে দিয়ে দাও, যাতে তাদের সাধন জীবনে কোন বাধা না আসে।
        ৫) আর আল্লাহ্‌ তোমাদের সম্পদকে যা তোমাদের উপজীবিকা করেছেন, তা নির্বোধদের (হাতে) অর্পণ করো না, তা হতে তাদের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সাথে মিষ্ট কথা বলবে।
    মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌র সম্পদ জ্ঞান যা তোমাদেরকে অর্পণ করা হয়েছে, তা কখনো নির্বোধদের হাতে অর্পণ করতে যাবে না। এই নির্বোধ লোকদের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সাথে মিষ্ট কথা বলবে কিন্তু সাধনার গুহ্য রহস্যের কথা বলতে যাবে না।
     জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment