Saturday, 4 August 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৩৬৩ তারিখঃ-- ০৪/ ০৮/ ২০১৮



  বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৬৩) তারিখঃ—০৪/ ০৮/ ২০১৮ আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ-- [ বেদযজ্ঞের মাধ্যমেই মানুষকে দুঃখের হাত থেকে মুক্তির উপায় বের করতে হবে এবং সার্বিক কল্যাণের পথে দেশের মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে।]
আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পথে আমরা গোটাকয়েক বস্তু সংগ্রহের জন্য প্রতিনিয়ত যত্নপরায়ণ হই। স্বাস্থ্য চাই, অর্থ চাই, বিদ্যা চাই, ভাল চাকুরী চাই, সুন্দরী স্ত্রী চাই, পারিবারিক স্নেহপ্রীতি চাই, সামাজিক সম্প্রীতি চাই, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রে স্বাতন্ত্র্য চাই, শিল্পকলা চাই, খেলাধুলা চাই ইত্যাদি আমাদের জীবনের চাহিদা। এই কয়েকটি প্রয়োজনীয় বস্তুকে আমরা আমাদের জীবনের সাধনীয় বস্তু বলে মনে করি এবং তাদের পিছনেই ছুটে সময় নষ্ট করি। সেই সাথে আমাদের সকলের ধারণা এগুলি লাভ করলেই আমাদের জীবনে সুখ- স্বাচ্ছন্দ- আনন্দ নেমে আসবে। কিন্তু কি আশ্চর্য! ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত চেষ্টায় এ পর্যন্ত কেউই এই কয়টি বস্তু সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ করে উঠতে পারে না। স্বাস্থ্যনীতি অথবা অর্থনীতির পরীক্ষায় পাশ করা যত সহজ, স্বাস্থ্যরক্ষা ও অর্থ সমস্যার সমাধান করা জীবনে তত সহজ নয়। অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য গেল, স্বাস্থ্যের অভাবে সংসারের কর্তব্য কর্ম করা হল না। অর্থের অভাবে বিদ্যা হল না, বিদ্যার অভাবে অর্থ এলো না। অর্থাৎ বাঞ্ছিত বস্তুগুলি পরস্পর বিরোধী, একটিকে পেতে গেলে আর একটি ছুটে যায় বা পাওয়া যায় না। এই বিরোধই মানুষের জীবনের অন্তরে দুঃখ আনে। এই দুঃখ থেকেই আসে অপরের প্রতি বিদ্বেষ। তাই আমাদেরকে দুঃখের হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য সত্যের পথকেই বেছে নিতে হবে।
   সত্যের আশ্রয়ে থাকতে গেলে মানুষের স্বরূপবিজ্ঞানের শিক্ষার একান্ত প্রয়োজন, যে শিক্ষা পেলেই মানুষের স্বভাব পবিত্র হয়ে উঠবে। মানুষের অভাব কোথায়? মানুষের দুঃখ কোথায়? এগুলো সব-ই আসে একে অপরের সাথে মিথ্যা প্রতিযোগিতার খেলা খেলতে গিয়ে। আমার যা প্রয়োজন নেই তা সংগ্রহ করে আবর্জনার বোঝা বইবার জন্যই মানুষের দুঃখ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় করা মানুষের সবথেকে বড় রোগ এবং এই রোগেই বেশীর ভাগ মানুষ ভুগছে। ধনী হবার প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক নিয়মে এক শ্রেণির মানুষকে দরিদ্র করবে। সার্বিক চিন্তা করে মানুষকেই পথ বের করতে হবে দুঃখের হাত থেকে মুক্তির উপায় কি? জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযানের জয়।

No comments:

Post a Comment