Thursday, 6 September 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৩৯৬ তাং ০৬/ ০৯/ ২০১৮

    বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৯৬) তারিখঃ—০৬/ ০৯/ ২০১৮  
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে যুধিষ্ঠিরের ন্যায় সত্যবাদী ও উদার হও।]
যুধিষ্ঠিরের সত্যবাদিতা জগদ্বিখ্যাত ছিল। সকলেই জানতেন যে যুধিষ্ঠির ভয় বা লোভের বশে কখনও মিথ্যা বলেন না। তাঁর এই সত্যবাদিতার ফলস্বরূপ তাঁর রথের চাকা সর্বদা মাটি থেকে চার আঙুল উঁচু দিয়ে চলতো। তিনি জীবনে একবার মাত্র মিথ্যাভাষণ করেছিলেন। অশ্বত্থামা নামক হাতির মৃত্যু হলে তিনি ছলনাপূর্বক দ্রোণাচার্যের সামনে বলেছিলেন—‘ অশ্বত্থামা হত ইতি গজ’ এই কথাটিই এমনভাবে দ্রোণাচার্যের নিকট পরিবেশন করা হয়, তাতেই অশ্বত্থামা (দ্রোণপুত্র) মারা গেছে বলে গুরু দ্রোণাচার্য বিশ্বাস করেন। এই একবার সত্যচ্যুত হওয়ার ফলস্বরূপ তাঁর রথের চাকা মাটিতে নেমে আসে এবং তাঁকে ক্ষণিককালের জন্য নরকদর্শন করতে হয়।
  যুধিষ্ঠিরের উদারতাও অলৌকিক ছিল। কৌরবেরা যখন কোনো মতেই তাঁদের রাজ্য ফিরিয়ে দিতে রাজী হলেন না, তখন মাত্র পাঁচটি গ্রাম পেলেই সন্তুষ্ট থাকবেন—একথা জানিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে দুর্যোধনের কাছে পাঠালেন যে ‘ দুর্যোধন যদি তাঁর ইচ্ছামতো পাঁচটি গ্রাম প্রদান করেন, তাহলেও আমরা যুদ্ধ করব না’। কিন্তু দুর্যোধন তাঁদের সুচাগ্র্য ভূমিও দিতে রাজী হলেন না। তখন বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করতে হয়। শুধু তাই নয়, যুদ্ধে যখন দুর্যোধনের সমস্ত সৈন্য ধ্বংস হয়ে যায় এবং দুর্যোধন একটি সরোবরে গিয়ে প্রাণভয়ে লুকিয়ে ছিলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে গিয়ে বলেন ‘ আমাদের কোনো একজনের সঙ্গে তুমি যুদ্ধ করতে পারো, তাতে যদি তুমি জয়লাভ করো, তাহলে এই রাজ্য তোমারই থাকবে’। এমন শর্ত কি কোনো মানুষ দিতে পারে? যে দুর্যোধনকে গদাযুদ্ধে, ভীমসেন—যিনি পাণ্ডবদের মধ্যে সবথেকে বলবান ছিলেন, তিনিও সম্ভ্রম করতেন, তাঁকে এই শর্ত দেওয়া যে, ‘ আমাদের কোনো একজনের সঙ্গে যুদ্ধ করে হারালে, রাজ্য তোমারই থাকবে--- এ শুধু যুধিষ্ঠিরের পক্ষেই বলা সম্ভব। শেষে ভীমের সঙ্গেই তাঁর যুদ্ধ হয় এবং দুর্যোধন ভীমের হাতেই মারা যান। ।। ম পর্ব।। জয় বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment