Sunday, 9 September 2018

কুরআন সুরা--৬ আন'আম -- ৩৬ থেকে ৪০ আয়াত

     বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—৩৬ থেকে ৪০ আয়াত।]
     ৩৬) যারা শ্রবণ করে শুধু তারাই ডাকে সাড়া দেয়, আর মৃতকে আল্লাহ্‌ পুনর্জীবিত করবেন, অতঃপর তাঁর দিকেই তারা প্রত্যানীত হবে।
             মর্মার্থঃ—যারা কেবল সচেতন হয়ে আল্লাহ্‌র আশ্রয়ে সদায় থাকে তারাই কেবল তাঁর ডাক শুনতে পায় এবং তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে থাকে। আর বাকীরা সকলেই মৃত, তারা ডাক দিলেও শুনতে পায় না, এদেরকে আল্লাহ্‌ পুনর্জীবিত করবেন এমন আঘাত দিয়ে যে তখন তারা সব শুনতে পাবে এবং তাঁর ডাক শুনামাত্র সবায় তাঁর দিকে ছুটে যাবে।
       ৩৭) তারা বলে, তার প্রতিপালকের নিকট হতে তার নিকট কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন? বল, নিদর্শন অবতারন করতে আল্লাহ্‌ সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
          মর্মার্থঃ—মানুষ চোখে যা দেখছে, কানে যা শুনছে সবই তো আল্লাহ্‌র নিদর্শন জ্ঞানীদের কাছে। তিনি সদায় সকলের কাছে নিজের দয়া পৌঁছে দিচ্ছেন নিদর্শন স্বরূপ। অধিকাংশ মানুষ জন্মান্ধ, তাই তারা জাগতিক মহাসত্যের কিছুই জানে না।
        ৩৮) ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন জীব নেই, অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কোন পাখি উড়ে না যা তোমাদের মত এমন একটি দল নয়। কিতাবে ( কুরআনে) কোন কিছু লিপিবদ্ধ করতে ত্রুটি করিনি, অতঃপর তারা সকলে স্বীয় প্রতিপালকের দিকে একত্র হবে।
             মর্মার্থঃ—ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল জীবই মানুষের ন্যায় এক একটা দল বা জাতি। সমস্ত সত্য কুরআনে আলোকিত হয়েছে মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য। সকলকেই নিজ নিজ কর্ম শেষে ফিরে যেতে হবে, তখন সকলকে একত্রিত করা হবে।
      ৩৯) যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে, তারা বধির ও মুক, (এবং তারা) অন্ধকারে রয়েছে। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ্‌ বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি সরল পথে স্থাপন করেন।
       মর্মার্থঃ—যারা অন্ধকারে রয়েছে তারাই আল্লাহ্‌র বাণীকে মিথ্যা বলে, এবং সেই উপদেশ মতো নিজের চরিত্র গড়ে তোলে না। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন আবার যাকে ইচ্ছা সরল পথে স্থাপন করেন। তাঁর প্রিয় হয়ে তাঁর শুভ ইচ্ছাশক্তি, ক্রিয়াশক্তি ও জ্ঞানশক্তির সাথে নিজের শুভ ইচ্ছাশক্তি, ক্রিয়াশক্তি ও জ্ঞানশক্তিকে মিলিত না করলে কিভাবে মানুষ তাঁর লীলা দেখবেন?
৪০) বল, তোমরা ভেবে দেখ যে, আল্লাহ্‌র শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হলে অথবা তোমাদের নিকট কিয়ামত উপস্থিত হলে তোমরা কি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কাউকেও ডাকবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
  মর্মার্থঃ—মানুষ সত্যবাদী হলেই সত্যকে মেনে নিবে তর্ক না করে। মানুষের জীবনে যখন চারদিক থেকে শাস্তি নেমে আসে তখন তো মানুষ নিজের প্রতিপালক ছাড়া কাউকে ডেকে পায় না। তাই মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন না হলে তারা কিছুতেই স্থায়ীভাবে নিজের প্রতিপালকের আশ্রয়ে থেকে নিজেকে পবিত্র করবে না।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment