বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ –৯১ থেকে ৯৫ আয়াত।]
৯১) শয়তান তো
মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায়, এবং তোমাদেরকে
আল্লাহ্র স্মরণে ও নামাযে বাধা দিতে চায়। অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না?
মর্মার্থঃ—মদ ও জুয়া সৃষ্টির মূলে শয়তানের
বুদ্ধি। মানুষ মদ ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লে নিজের জ্ঞান- বুদ্ধি- শক্তি হারিয়ে ফেলে।
জ্ঞানহীন- বুদ্ধিহীন ও শক্তিহীন মানুষ আর পশু সমান। এরা জানে না মদ ও জুয়া কিভাবে
মানুষকে আল্লাহ্র পথে ও সত্যজ্ঞান লাভের পথে বাধা দিতে চায়। এই সত্য জানার পরেও
যারা মানুষকে মদ ও জুয়ায় আসক্ত করার জন্য কাজ চালিয়ে যায় তারা তো নরহত্যার ন্যায়
পাপ কাজে লিপ্ত থাকে।
৯২) এবং
আল্লাহ্র অনুসরণ কর ও রসূলের অনুসরণ কর এবং সতর্ক হও, যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও
তবে জেনে রাখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রসূলের কর্তব্য।
মর্মার্থঃ—মদ
ও জুয়ার আসর থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহ্র অনুসরণ কর ও রসূলের অনুসরণ করে
সাবধানী হও। যদি তোমরা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকো তবে জীবনে কোনদিন সত্যকে জানতে
পারবে না, চিরকাল অন্ধকারময় জীবনের মধ্যেই আবদ্ধ থেকে যাবে। আল্লাহ্র রসূল আলোর
বর্তিকা হয়ে নিজের কর্তব্য কর্ম করে যাবে, এখন তোমরা যদি নিজের কর্তব্য কর্ম থেকে
মুখ ফিরিয়ে থাকো তবে কিভাবে অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে আলোর প্রদেশে যাবে?
৯২) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তারা পূর্বে
যা ভক্ষণ করেছে তার জন্য তাদের কোন পাপ নেই। যদি তারা সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে ও
সৎকাজ করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় এবং উপকার করে। আল্লাহ্
পরোপকারিগণকে ভালবাসেন।
মর্মার্থঃ—যারা নিজের স্বভাব পরিবর্তন করে পরার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে
তারা পাপ মুক্ত জীবন লাভ করেছে। এরা যত সাবধান থাকবে ততই মঙ্গল, এরা যত নিজের
অন্তরের আল্লাহ্কে বিশ্বাস করে এগিয়ে যাবে ততই মঙ্গল। আল্লাহ্ এই পরার্থে জীবন উৎসর্গকারীদের খুব ভালবাসেন।
৯৪) হে
বিশ্বাসীগণ! তোমাদের হাত ও বর্শা যা শিকার করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ তোমাদেরকে
(ইহরামের সময়) পরীক্ষা করবেন, যাতে আল্লাহ্ অবহিত হন কে তাঁকে না দেখেও ভয় করে।
সুতরাং এরপর কেউ সীমালংঘন করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্কে
না দেখেও যারা ভয় করে, তাঁর দেওয়া হাত দ্বারা সৎ কর্ম করে এবং তাঁর দেওয়া বর্শা
স্বরূপ মন দিয়ে ভাল ভাল শিকার করে তাঁকে উৎসর্গ করে, তারাই তাঁর সমস্ত পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ হয়। যারা নিজের হাত ও মনকে অসৎ কর্মে লিপ্ত রাখে তারাই সীমালংঘনকারীদের
পর্যায়ভুক্ত হয়ে শাস্তি ভোগ করে।
৯৫) হে
বিশ্বাসীগণ! ইহরাম থাকাকালে তোমরা শিকার জন্তু বধ কর না, তোমাদের মধ্যে কেউ
ইচ্ছাকৃতভাবে তা বধ করলে, যা বধ করল তার বিনিময় হচ্ছে অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু, যার
মীমাংসা করবে তোমাদের মধ্যে দুজন ন্যায়বান লোক কা’বাতে প্রেরিতব্য কুরবানীরূপে।
অথবা ওর বিনিময় হবে দরিদ্রকে অনুদান করা কিংবা সমপরিমাণ রোযা পালন করা, যাতে সে
আপন কৃতকর্মের ফল ভোগ করে। যা গত হয়েছে আল্লাহ্ তা ক্ষমা করেছেন, আর কেউ তা
পুনরায় করলে আল্লাহ্ তাকে শাস্তি দেবেন, এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, শাস্তিদাতা।
মর্মার্থঃ—এই পৃথিবী মানুষের জন্য কর্মভূমি,
জ্ঞানপীঠ ও তীর্থভূমি বা হজভূমি। মানুষকে হাতের সাহায্যে শুভ কর্ম সম্পাদন করে,
মনের সাহায্যে সত্যজ্ঞান লাভ করে ও আত্মার সাহায্যে সপ্তলোকের তীর্থভূমির পুণ্য
সঞ্চয় করে ফিরে যেতে হয়। যখন মানুষ তীর্থভূমি সকল পরিভ্রমণ করে তখন সে আত্মার উপর
ভর করে পার্থিব জগতের সমস্ত হিংসা- দ্বেষের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে, এই অবস্থায় কোন
প্রকার জীবকে শিকার করা বা হত্যা করা নিষেধ। যদি কেউ করে তবে সেই জীবের আত্মাকেও
তার তীর্থ ভ্রমণের সঙ্গী করে নিতে হবে দুজন সুবিচারক লোকের ফায়সালা মতো, এই দুজন
বিচারক হচ্ছে নিজের বিবেক ও নিজের আল্লাহ্, যারা তীর্থ যাত্রীর নিত্য সঙ্গী। মনে
রাখতে হবে আল্লাহ্ সর্বজয়ী এবং প্রতিশোধ গ্রহণের শক্তিতে শক্তিমান।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর
জয়।

No comments:
Post a Comment