বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৬ আন’আম – ১ থেকে ৫ আয়াত।]
১) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই যিনি আকাশ ও
পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আর সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো। এতদসত্ত্বেও অবিশ্বাসীগণ
তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করায় ( আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুকে পূজা করে)।
মর্মার্থঃ—আকাশ ও পৃথিবী আল্লাহ্ সৃষ্টি
করেছেন, এই আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সকলেই তাদের প্রতিপালকের প্রশংসায়
সদা রত। প্রত্যকে বস্তুর অন্তরে যে সুর স্বাভাবিকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে তা আল্লাহ্
বা স্রষ্টার উদ্দ্যেশে স্তব বা প্রশংসা। এই প্রশংসা সকলেই করে চলেছে অন্ধকার থেকে
বের হয়ে আলোর প্রদেশে যাবার জন্য। তিনিই অন্ধকার ও আলোর সৃষ্টি করেছেন আকাশ ও
পৃথিবীর সমস্ত বস্তুকে নিজের সুরের শক্তিতে ধরে রেখে, সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষা করার
জন্য। অবিশ্বাসী, অজ্ঞ, পাষণ্ডরা প্রকৃত সত্য না জেনে আল্লাহ্র সমকক্ষ ভেবে
পার্থিব জগতের সম্পদকে উপাস্য করে, নিজেদের কামনা- বাসনার উপাসনা করতে থাকে।
ফলস্বরূপ তারা সত্যজ্ঞান থেকে চিরকাল বঞ্চিত হয়েই থেকে যায়, আল্লাহ্র নিকট থেকে
সমস্ত সাধন বস্তু পাওয়ার পরেও।
২)
তিনিই তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর একটি কাল নির্দিষ্ট করেছেন।
এবং আর একটি নির্ধারিত সময়সীমা আছে যা তিনিই জ্ঞাত, এতদসত্ত্বেও তোমরা সন্দেহ কর।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ আকাশ ও পৃথিবীকে
এমনভাবে যুক্ত করেছেন যে পৃথিবীর মাটি প্রাণবন্ত হয়ে রয়েছে, সেই মাটি হতেই তিনি
মানুষকেও সৃষ্টি করেছেন এবং জন্ম মৃত্যুর ফাঁদে ফেলে রেখেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল
পর্যন্ত। জীবের এই জন্ম- মৃত্যুর লীলা খেলার কাল কবে শেষ হবে এবং আর একটি
নির্ধারিত কাল কবে থেকে শুরু হবে তা কেবল তিনিই জানেন। এত কিছু জানা ও দেখার পরেও
বুদ্ধিমান জীব তাদের প্রতিপালককে সন্দেহ করে কিভাবে?
৩) আকাশ ও পৃথিবীর তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের গোপন
ও প্রকাশ্য সব কিছু তিনি জানেন এবং তোমরা যা কর তাও তিনি অবগত আছেন।
মর্মার্থঃ—আকাশের কোন সীমা নেই, এই
আকাশের সাথে যুক্ত হয়ে কত গ্রহ নক্ষত্র রয়েছে তারও কোন সীমা সংখ্যা নেই, সবার তিনি
আল্লাহ বা স্রষ্টা। তাঁর কাছে মানুষ কি গোপন রাখবে ও আর কি প্রকাশ করবে? তিনি তো
সবার অন্তরের কথা জানেন, তাই তাঁর কাছে কিছু গোপন করতে না গিয়ে নিজের দুর্বলতার
কথা জানিয়ে কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রয়োজন, তবেই মানব জীবন সার্থক হতে পারে।
৪)
তাদের প্রতিপালকের এমন কোন নিদর্শন তাদের নিকট উপস্থিত হয় না যা থেকে তারা মুখ
ফিরায় না।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ মানুষকে এমন এক
নিদর্শন স্বরূপ করে সৃষ্টি করেছেন যে, সে যেরূপ ভাবনা করবে সেরূপই হয়ে যাবে। তা
সত্ত্বেও মানুষ নিজের স্বভাবকে উন্নত করার দিকে মুখ ফিরায় না। তাদের মুখ পশুদের
ন্যায় অধঃমুখী হয়েই থেকে যায়।
৫) সত্য যখনই তাদের কাছে এসেছে তারা তা
প্রত্যাখ্যান করেছে। যা দিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করত তার যথার্থ সংবাদ তারা অবহিত
হবে।
মর্মার্থঃ—মানুষের কাছে সত্য বিভিন্ন দিক
দিয়ে আসবেই তার জীবনের পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবন সত্যকে জানানোর জন্য তার প্রতিপালকের
কাছে থেকে। এই সত্যকে যদি মানুষ প্রত্যাখ্যান করে তবে তো সে সুযোগ হারাবে জীবন
সত্যকে জানার। সত্যকে মানুষ জীবনের সাথে যুক্ত করার জন্য যদি সাধনা না করে তবে তা
নিয়ে কেবল ঠাট্টা বিদ্রূপ করায় হয়, জীবনে তা উপকারে আসে না। এরাই দুর্লভ মানব
জীবনকে হেলায় বিনষ্ট করে এবং মহাশাস্তির পথে এগিয়ে যায়।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর
জয়।

No comments:
Post a Comment