বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম – ২১ থেকে ২৫ আয়াত।]
২১) আর যে
ব্যক্তি আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা তাঁর নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে
তার অপেক্ষা আর কে অধিক যালিম (অত্যাচারী)? যালিমগণ অবশ্যই সফলকাম হয় না।
মর্মার্থঃ—যারা যালিম বা অত্যাচারী তারা কোন দিকেই সফলকাম হতে পারে না। তারা
নিজের স্রষ্টাকেও চিনে না ও জানে না, তাই তারা নিজের স্রষ্টাকে নিয়েও মিথ্যা কথা
রচনা করে ও তাঁর নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। অধিকাংশ
মানুষ জন্মান্ধ, তাই তারা নিজের স্রষ্টার আলোকিত রূপ দেখতে পায় না অথচ সেই রূপ
তাদের সাথেই থাকে।
২২) এবং (
স্মরণ কর), যেদিন তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর মুশরিকদের বলব, যাদের তোমরা (আমার)
শরিক মনে করতে তারা আজ কোথায়?
মর্মার্থঃ--- যেদিন সকলকে একত্রিত করা হবে তখন সকলেই আমার আলোকিত রূপ দেখতে
পাবে। তখন সেই অজ্ঞদের শরিকদের আর দেখা পাওয়া যাবে না। সমস্ত কামনা- বাসনা হারিয়ে
যাবে আলোর জগতে এসে।
২৩) অতঃপর
তাদের এটা ভিন্ন বলার অন্য কোন অজুহাত থাকবে না যে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্র
শপথ আমরা তো মুশরিক ছিলাম না।
মর্মার্থঃ—আলো দেখে সবার জন্মান্ধ ভাব কেটে যাবে তখন সকলেই নিজের সৎ সত্য সুন্দর
ও জ্যোতির্ময় রূপ দেখে বলে উঠবে আমরা তো মুশরিক বা অজ্ঞ ছিলাম না, আমরা আমাদের
আল্লাহ্র শপথ করে বলতে পারি। তখনি তাদেরকে পূর্ব স্মৃতিতে পুনঃ নিয়ে যাওয়া হবে।
তখন তারা লজ্জ্বায় মাথা হেঁট করবে, নিজেদের পাপের কথা মনে করে।
২৪) দেখ, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে কিরূপ মিথ্যাবাদী
প্রতিপন্ন করে এবং যে মিথ্যা তারা রচনা করত তা কিভাবে তাদের জন্য নিষ্ফল হল।
মর্মার্থঃ—সবায়
দেখতে পাবে কিভাবে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে আল্লাহ্র সামনে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন
করল এবং নিজেদের মিথ্যা রচনা করা সমস্ত কার্যসকল কিভাবে নিষ্ফল হল। এই পৃথিবী হলো
সবার জন্য কর্মভূমি, জ্ঞানপীঠ ও তীর্থভূমি, এখানে এসে যারাই নিজের কামনা – বাসনা
চরিতার্থ করার জন্য বিষয় –আশয় ইত্যাদি রচনা করেছে, তারায় মিথ্যার জাল বুনেছে, তা
দেখে মুশরিকরা দিশেহারা হয়ে পড়বে। তারা তো এখানে এসে না সৎ কর্ম করেছে, না
সত্যজ্ঞান লাভ করার জন্য সাধনা করেছে, না সপ্তলোক ভ্রমণ করে পুণ্য সঞ্চয় করেছে, এই
সব চিন্তা করতে করতেই তারা জ্ঞানহারা হয়ে কতকাল সেখানে পড়ে থাকবে তা কেউ উপলব্ধি
করতেই পারবে না। অথচ এই সব সাধন সামগ্রী সবই আল্লাহ্ তাদেরকে দিয়েছিলেন।
২৫) আর তাদের মধ্যে কিছু লোক তোমার দিকে কান
পেতে রাখে, কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না
পারে, তাদের বধির করেছি, এবং সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তারা তাতে বিশ্বাস
করবে না, এমন কি তারা যখন তোমার নিকট উপস্থিত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় তখন
অবিশ্বাসীগণ বলে, এ তো সেকালের উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।
মর্মার্থঃ—যারা
জন্মান্ধ, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ও মৃত, তাদের সব অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ থাকলেও সচেতন
অবস্থায় থাকে না। তাদের দেহে মন আছে কিনা তাই তারা জানে না অথচ সেই মন দিয়ে শিক্ষা
গ্রহণ করে জ্ঞানের জগতে যেতে হয়। এই সব লোকের কাছে সত্যজ্ঞানের কথা ও জীবনসত্যের
কথা প্রাচিনকালের উপকথা মনে হবে। আল্লাহ্, ফিরিশতা ও মানুষের ঋণ পরিশোধ করে এরা কিভাবে
অভিশাপ মুক্ত জীবন পাবে তা তারা জানে না, কেউ সেই সত্য জানালেও তারা তা বিশ্বাস
করে এই মানব জীবনটাকে সাধনার জীবনে রূপান্তরিত করার জন্য এগিয়েও আসে না। এরা শুধু
অন্যের সমালোচনা ও ভুল ধরতে যায় কিন্তু নিজের সমালোচনা করে, নিজের ভুল ধরে নিজের
জীবনকে সংশোধনের পথে নিয়ে যায় না।
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment