বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—২৬ থেকে ৩০ আয়াত।]
২৬) আর তারা
অন্যকে তা শ্রবণে বিরত রাখে এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে, এবং তারা নিজেরাই শুধু
নিজেদেরকে ধ্বংস করে, অথচ তারা উপলব্ধি করে না।
মর্মার্থঃ—জগতে একশ্রেণির মানুষ আছে যারা মানুষকে ধর্মকথা বা সত্যবার্তা
শুনতে নিষেধ করে এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে বাধা দেয়, সেইসাথে নিজেরাও তা শ্রবণ
করে না এবং সেই সত্য থেকে নিজেদের অনেক দূরে সরিয়ে রাখে। এরা নিজেরাই নিজেদেরকে
ধ্বংস করে এবং সংকীর্ণ হয়ে নিজের জীবন সত্যকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না।
২৭) তুমি
যদি দেখতে পেতে যখন তাদেরকে আগুনের পাশে দাঁড় করান হবে এবং তারা বলবে হায়! যদি
আমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটত তবে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনকে মিথ্যা বলতাম না
এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
মর্মার্থঃ—এরা
যখন অবশেষে নিজের আগুনে নিজে জ্বলবে, তখন তাদের আফসোসের শেষ থাকবে না। এরা পুনঃ
পৃথিবীর বুকে ফিরে আসার আশা করতে থাকবে এবং আল্লাহ্র সৃষ্টি পৃথিবী ও আকাশ
মণ্ডলের সাথে নিজের জীবনের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁর নিদর্শনকে বিশ্বাস করে জীবনকে বিশ্বাসীদের
অন্তর্ভুক্ত করতে চাইবে। কিন্তু এখানে তারা জ্বলন্ত আগুন ছাড়া কিছুই পাবে না
নিজেদের কর্মের দোষে।
২৮) বরং পূর্বে
তারা যা গোপন করত তা এখন তাদের নিকট প্রকাশ পেয়েছে এবং তারা প্রত্যাবর্তিত হলেও যা
করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল পুনরায় তারা তাই করত এবং তারাই মিথ্যাবাদী।
মর্মার্থঃ—তারা নিজেদের অন্যায় কাজকর্মের বিষয়গুলি যা গোপন করে রেখেছিল, তা
সবই এখানে প্রকাশ পেতে থাকবে। এই সব লোকদের যদি পুনঃ মানব দেহ দান করে পৃথিবীতে
পাঠানো যায়, তবুও তাদের স্বভাবের কোন পরিবর্তন ঘটবে না। এরা আবার এসে নিজের স্বভাব
অনুযায়ী সত্যকে প্রত্যাখ্যান করবে ও অত্যাচারী দলের সাথে যুক্ত হয়ে বিষয় বাসনার
কাজে লিপ্ত হবে, প্রকৃতপক্ষে এদের চরিত্রের কোন পরিবর্তন হবে না, এরা মিথ্যাবাদী
হয়েই থেকে যাবে।
২৯) এবং
তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন এবং আমরা পুনরুত্থিতও হব না।
মর্মার্থঃ—এরা এই পার্থিব জীবনের সুখ ভোগকেই নিজেদের ধর্ম মনে করে। এর পরেও
যে একটা জীবন আছে তা বিশ্বাস করতে চায় না। জন্মান্ধময়, রোগাক্রান্ত্র ও মৃত জীবন
নিয়ে এই মৃত্যুলোক থেকে পুনরুত্থিত হবার জন্য সংগ্রাম- সাধনা করাকে তারা বিশ্বাস
করে না।
৩০) তুমি যদি তাদের দেখতে পেতে যখন তাদের
প্রতিপালকের সম্মুখে দাঁড় করার হবে এবং তিনি বলবেন, এটা কি প্রকৃত সত্য নয়? তারা
বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ, নিশ্চয় সত্য। তিনি বলবেন, তবে তোমরা যে অবিশ্বাস
করতে তার জন্য তোমরা এখন শাস্তি ভোগ কর।
মর্মার্থঃ—জেনে
–শুনে- বুঝে যারা পাপ ও অন্যায় কাজ করে তাঁদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যায়, তাদের
অবস্থা হয় অতি করুণ। তারা নিজের প্রতিপালকের কাছে এসে আর মিথ্যাও বলতে পারে না, আর
জানি না বা কারও মারফৎ শুনিনি এই কথাও বলতে পারে না। তখন তারা নিজেদের শাস্তি
নিজেরাই মাথা পেতে নিতে বাধ্য হয়। তাই মানুষ হয়ে কেন নিজের শাস্তি ভোগের পথ খোলা
রাখবে?
জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment