Thursday, 6 September 2018

কুরআন সুরা--৬ আন'আম -- ৬ থেকে ১০ আয়াত

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—৬ থেকে ১০ আয়াত।]
    ৬) তারা কি দেখে না যে, তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করেছি, তাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যা তোমাদের করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, আর তাদের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম, অতঃপর তাদের পাপের জন্য তাদের বিনাশ করেছি এবং তাদের পরে নতুন মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি।
       মর্মার্থঃ – এই পৃথিবীতে কত উন্নত মানবগোষ্ঠী রাজত্ব করেছে এবং পরিশেষে নিজেদের পাপের ফলে ধ্বংস হয়েছে, তার ইতিহাস সামান্যই মানব জাতির কাছে জানা। আল্লাহ্‌ সবই জানেন। এই পৃথিবীতেই ছিল মানুষের জন্য স্বর্গীয় সুখ, কত নদ-নদী, বৃষ্টির অভাব হত না, তারা ছিল ফিরিশতাদের ন্যায় শক্তিধর। তারাও নিজেদের পাপের জন্য বিনাশ হয়েছে। তাদের পরে পুনঃ মানবগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাবেই মানবজাতির সৃষ্টি ও ধ্বংসলীলা চলছে ও চলবে।
     ৭) যদি তোমার প্রতি কাগজে লিখিত কিতাবও (গ্রন্থ) অবতরণ করতাম, আর তারা যদি তা হাত দিয়ে স্পর্শও করতো, তবুও অবিশ্বাসীগণ বলত, এ স্পষ্ট যাদু ব্যতীত আর কিছুই নয়।
      মর্মার্থঃ—মানুষের অন্তরের অবিশ্বাস এমনি একটা রোগ, সেই রোগের চিকিৎসা নিজেকেই করতে হয়, নিজের স্বভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে।  তোমার কাছে যে সত্য অবতীর্ণ হচ্ছে তা অবিশ্বাসীরা যদি গ্রন্থ আকারেও আমার কাছ থেকে পেত তবুও বিশ্বাস করতো না। কারণ তারা সকলেই জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত। এই মৃত্যুলোকে তারা কেবল শবদেহ বহন করে এবং এই শবদেহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে মৃতদের মধ্যে থেকে জেগে উঠার কৌশল জানে না। সেই সাথে নিজের প্রাণের রোগ সারাতেও আগ্রহী নয়। তাই তারা আল্লাহ্‌র অদৃশ্যজনিত কার্যকলাপকে যাদু বলেই মনে করে।
      ৮) তারা বলে, তার নিকট কোন ফিরিশতা কেন প্রেরিত হয় না? যদি আমি ফিরিশতা প্রেরণ করতাম তা হলে তাদের কর্মের চুড়ান্ত মীমাংসাই তো হয়ে যেত। আর তাদের কোন অবকাশ দেয়া হত না
        মর্মার্থঃ—মৃত, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগগ্রস্ত মানুষদের কাছে ফিরিশতাদের পাঠালেও কি তারা তাঁদেরকে চিনতে পারবে? ফিরিশতারা এলে তো সমস্ত আগাছা মুহূর্তের মধ্যে আমার নির্দেশে পুড়িয়ে ফেলবে এবং চূড়ান্ত মীমাংসা করে পুনঃ নতুন মানবগোষ্ঠীকে এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করবে। কেউ আর নিজেকে সংশোধন করে পাপমুক্ত জীবন লাভের অবকাশ পাবে না।
      ৯) যদি তাকে ফিরিশতা করতাম তবে তাকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম, আর তাদের সেরূপ বিভ্রমে ফেলতাম যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন রয়েছে।
       মর্মার্থঃ—ফিরিশতারাও এই পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করেছে মানুষের আকৃতি নিয়েই। রসূলদের যদি আল্লাহ্‌ ফিরিশতা করেই পাঠান তবুও তো তারা মানুষের মাঝে মানুষের রূপ ধরেই আল্লাহ্‌র নির্দেশে জন্ম নিবে মানব কুলে। এতেও তো অবিশ্বাসীরা একই প্রকার বিভ্রমে পড়বে।  তাই অবিশ্বাসীদের আত্মা অবিশ্বাসী হয়েই থেকে যাবে নিজেকে রোগমুক্ত না করা পর্যন্ত।
           ১০) তোমার পূর্বেও অনেক রসূলকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করা হয়েছে, পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করেছিল তা বিদ্রূপকারীগণকে পরিবেষ্টন করেছে।
      মর্মার্থঃ—পৃথিবীতে মানব জাতির ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যায়, যখনি এখানে কোন রসূল সত্যজ্ঞান নিয়ে এসেছে তখনি তাকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করা হয়েছে। পরিশেষে ঠাট্টা বিদ্রূপকারীরাই মানুষ, ফিরিশতা ও আল্লাহ্‌র কাছে পরিহাসের পাত্র হয়ে উঠেছে ও বিভিন্ন দিক থেকে তারা শাস্তিভোগ করেছে।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।

No comments:

Post a Comment