Thursday, 6 September 2018

কুরআন সুরা--৬ আন'আম --১১ থেকে ১৫ আয়াত

       বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—১১ থেকে ১৫ আয়াত।]
  ১১) বল, ( হে মোহাম্মদ ) তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, যারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে তাদের পরিণাম কী হয়েছিল।
       মর্মার্থঃ—সত্যের বিনাশ নেই আর মিথ্যার অস্তিত্ব নেই। মিথ্যা সাময়িক কালের জন্য সত্যের আবরণ রূপে দেখা দিলেও, সেই মোড়ক খুললেই সত্য বেড়িয়ে আসে, তখন মিথ্যাকে সকলেই আবর্জনার স্তূপে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তাই যারা অবিশ্বাসী তারা পৃথিবীর সর্বত্র পরিভ্রমণ করলেই দেখতে পাবে যারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে।
    ১২) বল, আকাশ ও ভূমণ্ডলে যা আছে তা কার? বল, আল্লাহ্‌রই। দয়া করা তিনি কর্তব্য বলে স্থির করেছেন। কিয়ামতের দিন তিনি তোমাদেরকে অবশ্যই একত্র করবেন, এতে কোনই সন্দেহ নেই। যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে তারা বিশ্বাস করবে না।
     মর্মার্থঃ--- আকাশ ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ্‌র এবং সবই তাঁর দয়ার নিদর্শন। তিনি নিজের কর্তব্য কর্ম করে চলেছেন বলেই সবার অস্তিত্ব টিকে আছে আকাশ ও ভূমণ্ডলে। তিনি সময় হলেই সকলকে একত্রিত করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। এই সত্য যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে চলেছে তারা কিছুতেই বিশ্বাস করবে না।
       ১৩) রাত ও দিনে যা কিছু থাকে তা তাঁরই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
           মর্মার্থঃ—যখন তিনি তাঁর সব সৃষ্টি গুটিয়ে নেন তখন হয় রাত্রি, আবার যখন তিনি সবায়কে সৃষ্টির আলোতে নিয়ে আসেন তখন হয় দিন। এই রাত ও দিনে যা কিছু থাকে সবই তাঁর অধীনেই সুরক্ষিত থাকে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ হয়ে দিন ও রাতেও নিজ কর্তব্য কর্মে ব্যস্ত থাকেন।
        ১৪) বল, আমি কি আকাশ ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা ব্যতীত অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করব? তিনিই জীবিকা দান করেন, কিন্তু তাঁকে কেউ জীবিকা দান করে না, এবং বল, আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আত্মসমর্পণকারীগণের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি হই, ( আমাকে আরও আদেশ করা হয়েছে) তুমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
         মর্মার্থঃ--- যাদের অন্তরে কামনা- বাসনার আগুন জ্বলে উঠে না, তারা তো আকাশ ও ভূমণ্ডলের অধীশ্বর ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করার কথা চিন্তাও করতে পারে না। তারা তো নিজের জ্ঞান চক্ষুতে দেখতে পায় আকাশ ও ভূমণ্ডলে যা কিছু ঘটছে সবই তাঁর মনের শক্তি বলেই ঘটে চলেছে। বিশ্বব্যাপী যে ভোজ চলছে তাও তাঁর দয়ায়। এত সবার জীবিকার ব্যবস্থা তিনি করে চলেছেন নিজ শক্তিবলে, অথচ তিনি নিজের জীবিকার ব্যাপারে নির্বিকার। তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করাতেই মানব জীবন ধন্য হয়ে উঠে এবং সমস্ত অন্তরের অজ্ঞতা মুছে যায়। কেউ আর অজ্ঞদের দলভুক্ত হয়ে থাকে না।
       ১৫) বল, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি তবে আমি ভয় করি যে, মহাদিনের শাস্তি আমার উপর আপতিত হবে।
    মর্মার্থঃ--- মানুষ হয়ে যখন কেউ নিজের প্রতিপালকের অবাধ্য হয়ে উঠে তখনি সে জ্ঞানহারা হয়ে যায়। জ্ঞানহারা মানুষ আর ফলহীন বৃক্ষ সমান। মহাদিনের শাস্তি তো অবাধ্য মানুষদের উপর আপতিত হবে তা তো প্রত্যেক মানুষের অন্তর সেই সংবাদ বহন করে চলেছে।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment