বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৫ মায়িদাহ—১১৬ থেকে ১২০ আয়াত।]
১১৬) আরও ( স্মরণ কর) যখন আল্লাহ্
বলবেন, হে মারইয়াম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত
আমাকে ও আমার জননীকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর? সে বলবে, তুমিই মহিমান্বিত! যা বলার
অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়। যদি আমি তা বলতাম, তবে তুমি তো তা
জানতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি অবগত আছ, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা আমি অবগত নই,
নিশ্চয় তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত।
মর্মার্থঃ--- এই মৃত্যুলোকে প্রত্যেক মানুষ নিজের মৃতদেহ বহন করে চলেছে
জন্মান্ধ হয়ে ও সেই পচনশীল দেহে কুষ্ঠ রোগকে সাথে নিয়ে। মৃত, জন্মান্ধ ও
রোগাক্রান্ত মানুষ কিভাবে নিজের প্রতিপালক আল্লাহ্কে দেখবে- চিনবে ও তাঁর কথা
শুনবে? তাই এই জন্মান্ধ লোকেরা সত্যকে না জেনে রসূলদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে এবং
তাদেরকেই আল্লাহ্র সিংহাসনে বসায়। কিন্তু রসূলগণ আল্লাহ্কে ছাড়া অন্য কাউকে
উপাস্য করতে নিষেধ করেন এবং তাঁরা কারো উপাস্য হন না। তাঁরা কেবল আল্লাহ্
তাঁদেরকে যে অধিকার দেন বলার জন্য তাই বলেন, নিজেরা কারও দেওয়া অর্ঘ্য গ্রহণ করেন
না। কিন্তু দেখা যায় তাঁদের অনুপস্থিতে মানুষ আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে তাঁদেরকে ও
তাঁদের নিকটতম আত্মীয়- স্বজনকে নিজদের উপাস্য করে ফেলে। এর যথযথ উত্তর মানুষকে
দিতে হয় পরলোকে গিয়ে, তখন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু সংশোধন করার কোন পথ
থাকে না।
১১৭) তুমি আমাকে যে আদেশ করেছ তা ব্যতীত তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি। ( এবং)
তা এই, “ তোমরা আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর’ এবং যতদিন আমি
তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী, কিন্তু যখন তুমি
আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী।
মর্মার্থঃ—মারইয়াম পুত্র ঈসা নবী আল্লাহ্র আদেশ ব্যতিরেকে কোন কথায় বলতেন
না। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিতেন, “ আল্লাহ আমারও যেমন একমাত্র উপাস্য দেবতা, তেমনি
তোমাদেরও একমাত্র উপাস্য দেবতা, তোমরা কেবল তাঁরই উপাসনা কর”। তিনি যতদিন এই ধরায় দেহের মধ্যে আবদ্ধ ছিলেন
ততদিন তিনি মানব জাতির ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী ছিলেন, তারপর তাঁকে আল্লাহ্ নিজের ঘরে
তুলে নেওয়ার পর মানবজাতির ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী একমাত্র আল্লাহ্।
১১৮) তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদের
ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
মর্মার্থঃ—সব জানার পরেও আল্লাহ্ যদি তাদের শাস্তি দেন, এখানে নবী ঈসার
কিছুই ক্ষমতা নেই তাদেকে বাঁচাবার। তিনি তাঁর বান্দাদের ক্রিয়াকলাপের জন্য শাস্তি
দিবেন কি পুরষ্কার দিবেন সবই নির্ভর করবে তাঁর করুণার উপর। তিনি তো পরাক্রমশালী ও
প্রজ্ঞাময়।
১১৯) আল্লাহ্ বলবেন, এটা সেই দিন ( শেষ বিচারের দিন) সেদিন সত্যবাদীগণ
তাদের সত্যতার জন্য উপকৃত হবে, তাদের জন্য আছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত,
তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাতে সন্তুষ্ট,
এটি মহাসাফল্য।
মর্মার্থঃ—শেষ বিচারের দিন সত্যবাদীরা নিজেদের সততার জন্য জান্নাতে প্রবেশ
করবে, যার পাদদেশে প্রবাহিত হতে থাকবে আনন্দধারার নদী। আল্লাহ্ তাদের প্রতি যেমন
প্রসন্ন হবেন তেমনি তারাও আল্লাহ্র প্রেমে মশগুল হয়ে উঠবে, এটাই মানব জীবনে সৎ
কর্ম করার মহাসাফল্য।
১২০) আকাশ ও ভূমণ্ডল এবং তাদের মধ্যে যা কিছু
আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহ্রই এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
মর্মার্থঃ—আকাশ ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে তাদের সকলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহ্র।
মানুষ,রসূল, ফিরিশতা, জিন কারো অধিকারে এখানে কিছুই নেই। তিনি কৃপা করে যাকে
যেটুকু দেন তাতেই যে সন্তুষ্ট হয়ে কেবল তাঁর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য কর্ম করে সেই
তাঁর অতি প্রিয় বান্দা। তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান, তাই তাঁকে ফাঁকি দিয়ে যারা তাঁর
সম্পত্তি নিজের বলে ভোগ করে, তারা তাঁর মহাশাস্তি থেকে কোন কিছুর বিনিময়ে নিজেকে
মুক্ত করতে পারবে না।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।

No comments:
Post a Comment