বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—৩১
থেকে ৩৫ আয়াত।]
৩১) যারা
আল্লাহ্র সম্মুখীন হওয়াকে মিথ্যা বলেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এমনকি
অকস্মাৎ তাদের নিকট যখন কিয়ামত ( শেষ বিচারের দিন) উপস্থিত হবে তখন তারা বলবে,
হায়! একে ( কিয়ামতকে) আমরা অবহেলা করেছি তার জন্য আক্ষেপ! তারা তাদের পৃষ্ঠে
নিজেদের পাপ বহন করবে, দেখ, তারা যা বহন করবে তা অতি নিকৃষ্ট।
মর্মার্থঃ—মানুষের জন্ম যখন হয়েছে মৃত্যুকে কেউ রোধ করতে পারবে না। এই
মৃত্যুটাকেই বুদ্ধিমান লোকেরা কিয়ামতের দিন মনে করে তার আগমনের অপেক্ষায় সৎ কাজ
করে চলে এবং মনে মনে নিজের প্রতিপালকের স্মরণ করতে থাকে। আল্লাহ্র নিকট থেকে যদি
অঙ্গীকার বদ্ধ হয়ে মানুষ এসে থাকে তাঁর কাছে ফিরে যাবে তাঁর নির্দেশিত কিছু কাজ
করার পর, কিন্তু যদি কেউ সেই অঙ্গীকার মতো কাজ না করে তবে কি ভাবছে সে ছাড়া পেয়ে
যাবে? পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য এসে পুনঃ যদি মানুষ পিঠে পাপের বোঝা নিয়ে তাঁর
কাছে ফিরে যায়, তবে কি যে পাপের বোঝা নিয়ে যাবে সেটা অতি নিকৃষ্ট হবে না?
৩২) আর পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া কৌতুক বই আর
কিছুই নয় এবং যারা সাবধানতা অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেয়, তোমরা কি
(তা) অনুধাবন কর না?
মর্মার্থঃ—এই জগতের জীবন স্বপ্নবৎ দুদিনের জন্যও নয়, আর সম্পূর্ণ ক্রীড়া
কৌতুকময় ছাড়া কিছুই নয়, বুদ্ধিমানদের কাছে। তাই তারা এই জীবনের সুখ- দুঃখকে তুচ্ছ
মনে করে কেবল পরকালের জীবনের কথা চিন্তা করে এবং সেই পরকালের জীবনের প্রস্তুতি
গ্রহণের জন্য সদায় এই জগতের আবর্জনা থেকে মুক্ত থাকে।
৩৩) অবশ্য
জানি যে, তারা যা বলে তা তোমাকে নিশ্চিতই কষ্ট দেয়, কিন্তু তারা তো তোমাকে
মিথ্যাবাদী বলে না, কিন্তু অত্যাচারীগণ আল্লাহ্র আয়াতকেই (বাক্য বা বাণীকে)
অস্বীকার করে।
মর্মার্থঃ--- যারা আল্লাহ্র বাক্যকে মান্য করে জীবন পথে চলে তারা
রসূলদেরকে নানারূপ প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে কষ্ট দেয়, তাদের এই অজ্ঞানতা দেখে
রসূলদের মনে কষ্ট হয়, কিন্তু তারা কখন তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী বলে না। কিন্তু যারা
অত্যাচারী তাঁরা আল্লাহ্র বাক্যকে মান্যতা দেয় না, বরঞ্চ তারা সেই সব সত্যকে জীবন
থেকে মুছে ফেলে পাপের বোঝা বইতেই ভালবাসে।
৩৪) তোমার
পূর্বেও অনেক রসূলকে অবশ্যই মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলা
ও ক্লেশ দেয়া সত্ত্বেও, যে পর্যন্ত না আমার সাহায্য তাদের নিকট এসেছে তারা ধৈর্য
ধারণ করেছিল। আল্লাহ্র আদেশ কেউ পরিবর্তন করতে পারে না, এবং সত্য সত্যই প্রেরিত
পুরুষগণের সম্বন্ধে কিছু সংবাদ তো তোমার নিকট এসেছে।
মর্মার্থঃ—সত্য চিরকাল সত্য রূপেই প্রকাশিত হয়। আল্লাহ্র আদেশ কেউ
পরিবর্তন করতে পারে না। পৃথিবীতে যখনি সত্যের উপর বিভিন্ন দিক থেকে আঘাত আসে তখনি
আল্লাহ্ প্রেরিত পুরুষের আবির্ভাব ঘটে মানব সমাজের মানুষদের মধ্য থেকেই। তাই সেই
প্রেরিত পুরুষকে অধিকাংশ মানুষ মান্যতা দিতে চায় না।
৩৫) যদি
তাদের উপেক্ষা তোমার নিকট কষ্টকর হয় তবে পারলে ভূগর্ভে সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে সোপান
অন্বেষণ কর এবং তাদের নিকট কোন নিদর্শন আন। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদের সকলকে অবশ্য
সৎপথে একত্র করবেন। সুতরাং তুমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্র
শক্তি ও জ্ঞান কোথায় নেই? মানুষকে সেই জ্ঞান ও শক্তি আল্লাহ্ দিয়েছেন ভূগর্ভ ও
আকাশে তাঁর যেসব নিদর্শন আছে গবেষণা করে তা
বের করার জন্যে। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে ভূগর্ভ- আকাশ- পৃথিবীর উপরের সকলকে একত্র করে
সৎপথে নিয়ে আসতে মুহূর্ত মাত্র সময় নিবেন না। তাই মানুষ বুদ্ধিমান জীব হয়ে কেনো
মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে?
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment