Thursday, 6 July 2017

বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ--- ০৬/ ০৭/ ২০১৭


বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—০৬/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পঃ বঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ মানুষ কেনো করবে--- বেদযজ্ঞ হতেই মানুষের ইষ্টপ্রাপ্তি হয় এবং অলৌকিক উপায়ে অনিষ্ট পরিহার করা যায়, এই জন্যই মানুষের বেদযজ্ঞ করে বেদকে জানা প্রয়োজন।]
নিখিল শাস্ত্রের তথা বেদ- -উপনিষদের সার হলো গীতা। অতএব বেদের যা উপযোগিতা গীতারও সেই উপযোগিতা। বেদের উপযোগিতা সম্বন্ধে বেদের ভাষ্যকার সায়নাচার্য্য বলেছেন—“ ইষ্টপ্রাপ্ত্যনিষ্টপরিহারয়োরলৌকিকমুপায়ং যো বেদয়তি স বেদঃ” – যা হতে ইষ্টপ্রাপ্তি এবং অনিষ্ট পরিহার সম্বন্ধে অলৌকিক উপায় জানা যায়, তা হল বেদ। তাই এই বেদের বিশালত্ব কারো পক্ষে মাপা সম্ভব নয়। বিশাল বেদবৃক্ষের দুটি কাণ্ড – একটি কর্ম্মকাণ্ড, অপরটি জ্ঞানকাণ্ড। অনাত্ম বস্তুর সাথে কর্ম্মকাণ্ড যুক্ত আর নিত্যবস্তু বা আত্মার সাথে জ্ঞানকাণ্ড যুক্ত। অনাত্ম বস্তুতে আসক্তিই দুঃখের কারণ অতএব এই সমস্ত মানুষের কাছে হেয় ও পরিত্যজ্য হওয়া উচিত। যতক্ষণ মানুষের বুদ্ধি অনাত্ম বস্তুর সাথে যুক্ত থাকে ততক্ষণ সে নিত্যবস্তুর সাথে বুদ্ধিকে যুক্ত করে আত্মাতে স্থির হতে পারে না। কাজেই অনাত্ম বস্তু সকল ত্যাগ করে স্বীয় আত্মস্বরূপ জ্ঞাত হওয়ার জন্য সে সতত চেষ্টা বা যোগ তাই হলো বেদযজ্ঞ বা জ্ঞানযোগ। বেদযজ্ঞ করতে করতে বেদযোগী যখন বেদের জ্ঞানকাণ্ডে অবস্থান করেন তখন অহং অভিমানাত্মক সমস্ত বস্তু থেকে নিজেকে সর্ব্বতোভাবে পৃথক জ্ঞান করে স্বীয় আত্মস্বরূপে স্থিত হন, তখনই তাঁর সংসার – বন্ধন ছিন্ন হয় এবং বেদের অমৃত লাভ হয়। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।

No comments:

Post a Comment