বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—২৮/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা*
মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে বেদযজ্ঞ করবে তবেই লোক-
সংগ্রহের আসরে অবস্থান করে ধর্ম্ম- জাতি- সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে দর্শন
করতে পারবে।]
পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম- জাতি- সম্প্রদায়ের শাস্ত্রগ্রন্থের
নাম বেদ, জ্যোতি, আলো বা জ্ঞান। এই সব শাস্ত্রগ্রন্থের মর্মার্থ বা সত্য উপলব্ধি
করতে হলে মানুষকে আগে সঙ্কীর্ণ ধর্ম- জাতি- সম্প্রদায়ের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বমানব
শিক্ষার কর্মী হতে হবে। তবেই বিশ্বমানবশিক্ষার কর্মীর কর্ম্ম যজ্ঞভূমিতে আরোহণ করে
জ্ঞানযজ্ঞে বা বেদযজ্ঞে পরিসমাপ্তি লাভ করবে। সব ধর্মের সাধারণ নরনারী সকলেই সৎ অসৎ
কর্ম করে। কর্ম না করে কেউই এক দণ্ড তিষ্ঠতে পারে না। বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী বা
জ্ঞানীও যদি সেই কর্ম্মই করে তাহলে সাধারণ জীব অপেক্ষা তাঁর তফাৎটা কোথায় থাকলো?
গরীবের ছেলে মাথায় বোঝা বয়, বড়লোকের ছেলে বা রাজার ছেলেও তা করলে তাঁর বিশেষত্ব
রইবে কোথায়? উত্তরে সব ধর্মের শাস্ত্র বলেন, জ্ঞানটা ভাবরূপ, সুতরাং তফাৎ থাকবে
ভাবনার রাজ্যে, বিশেষত্ব থাকবে অনুভূতিতে – মানসিক ধ্যানে। বিশ্বমানব শিক্ষার
কর্মী হচ্ছেন সেই রাজার ছেলে, তিনি বোঝা বইবেন পরের কল্যাণের জন্য। গরীবের ছেলে
বোঝা বইবে নিজের জন্য, নিজের স্বার্থে। সাধারণ লোক কর্ম্ম করছে ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তির
জন্য। আর বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী কর্ম্ম করবে আত্মারাম হয়ে পরমাত্মার প্রীতির
জন্য, লোক- সংগ্রহ বা লোক- শিক্ষার জন্য। সাধারণ নরনারী সে যেকোন ধর্ম – জাতি বা
সম্প্রদায়েরই হোক না কেনো, সকলেই অন্ধের ন্যায় ভালমন্দ না বুঝে কেবল নিজের হিতের
কথা চিন্তা করে কাজ করে চলেছে কিংবা পুত্রকন্যাদিদের প্রতি আসক্ত হয়ে কেবল তাদের
হিতের জন্যই কর্ম্ম করে চলেছে। পক্ষান্তরে তাঁরাই যখন বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে
জ্ঞানের ভাবরাজ্যে বিরাজ করছে তখন অনাসক্তভাবে সর্ব্বভূতের হিতের জন্য কর্ম্মে রত
হচ্ছে। অজ্ঞান, জ্ঞানী, অবিদ্বান, বিদ্বান, ইহাদের ভেদ ঐ ব্যবধানের দ্বারাই
সুস্পষ্ট থাকবে। কর্মের মহত্ত্বেই জ্ঞানীর শ্রেষ্ঠত্ব ব্যক্ত হবে—কর্ম্মহীনতায় নয়।
বৃহৎ কর্ম্মের প্রতিও অজ্ঞানীর দৃষ্টি সংকীর্ণ, পক্ষান্তরে আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও
জ্ঞানীর কর্ম অনুভবের বিশালতায় এবং তাৎপর্যের গভীরতায় মহৎ ও ব্যাপক। তাই যে কোন
জাতি- ধর্ম- সম্প্রদায়ের মানুষ যখনি নিজেকে বিশ্বমানব শিক্ষার মঞ্চের কর্মী ভেবে
কর্ম করবে তখনি তাঁর কাছে শাস্ত্রজ্ঞান বা সত্যজ্ঞান জ্যোতি হয়ে ফুটে উঠবে, আর তখন
তাঁকে কোন জাত- ধর্ম- সম্প্রদায় স্পর্শ করতে পারবে না। তাঁর ক্ষুদ্র সংসার
বিশ্বসংসারে পরিণত হবে। তাঁর ইন্দ্রিয়ারাম জ্ঞান আত্মারাম জ্ঞানে পরিণত হবে। জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment