বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—২৭/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা*
মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে যে কোন একটি মন্ত্র নিয়ে সাধনা করে নিজের
মনন –শক্তির পরিচয় দাও।]
বেদযজ্ঞে যে কোন মন্ত্র আহুতি দেওয়া যায়।
সনাতন ধর্ম্মে যত মানুষ তত মন্ত্র, আর যত মন্ত্র তত দেবতা। যারা নিজ আত্মাকে রথী
করে, নিজ দেহকে রথ করে, নিজের বুদ্ধিকে সারথি করে এবং মনকে রথের অশ্ব করে নিয়ে,
দেহরথে চেপে মন্ত্রের সাধনা করেন, তাঁরাই সেই রথে পরমাত্মাকে দর্শন করেন। গীতার
বাণীকে শ্লোক না বলে আমি মন্ত্র বলায়, একজন আমার পথকে ভুল বলে মন্তব্য করেন।
শ্লোকের অর্থ বুঝিলেই বুঝা হয়—আর কিছু বাকী থাকে না। আর যেটি মন্ত্র তা শুধু পাঠ
করে বুঝা যায় না। বুঝিলেও অনেক কিছু বাকী থেকে যায়। গীতার প্রতিটি বাণী মন্ত্রের
ন্যায় রহস্যময় ও মননের বস্তু। তাই গীতার বাণী মনন করতে করতে নিদিধ্যাসন হয় এবং তখন
সত্যের দর্শন হয়। গীতার এক একটি বাণী বা মন্ত্র নিয়ে কত মহান মনন শক্তির পরিচয়
দিয়েছেন ও সিদ্ধিলাভ করে সত্যের দর্শন করেছেন, তার তালিকা বিশাল। শ্রীকৃষ্ণ তথা
শ্রীকৃষ্ণ – দ্বৈপায়নের বিশেষ করুণা ছাড়া এরূপ গভীর মনন সম্ভবপর নয়। যারা কেবল
তাঁকেই নিজের বুদ্ধি বা চেতন শক্তি জেনে, তাঁকেই গুরু পদে বরণ করে সনাতন ধর্মের যে
কোন মন্ত্রের উপর ভর করে সাধনা চালিয়ে যান, তাতেই সিদ্ধিলাভ করেন। নদী সাগরে গিয়ে
মিশে গেলে আর যেমন নদীর কোন অস্তিত্ব থাকে না তেমনি সাধক পরমাত্মার সাথে মিশে গেলে
সব মন্ত্রই এক হয়ে যায়, আর কোন মন্ত্রের অস্তিত্ব থাকে না। জয় বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment