[ গীতার চতুর্থ
অধ্যায়ের নাম জ্ঞানযোগ। এই জ্ঞানযোগ অতি প্রাচীন। এই গীতা কত প্রাচীন তা ভগবান নিজ
মুখে ব্যক্ত করেছেন। এই গীতার উপদেশ তিনি সূর্যকে দিয়েছিলেন। ভগবানের জন্ম- কর্ম
সবই দিব্য। তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হয়ে অর্জ্জুনের রথের সারথি হয়েছেন, কেবল
শ্রীগীতার জ্ঞান দান করার জন্য ধর্ম্মক্ষেত্রে – কুরুক্ষেত্রে। তিনি কেবল
অর্জ্জুনের জীবনরথের সারথি নন, তিনি জীবমাত্রেরই জীবনরথের নিত্য সারথি। যিনি
অর্জ্জুনকে গীতার উপদেশ দিচ্ছেন, তিনি প্রত্যেক জীবেরই অন্তরে অন্তর্য্যামী
পরমাত্মারূপে থেকে অন্তররাজ্য সংযমন করে বুদ্ধিবৃত্তি চালনা করছেন। এই সত্য তত্ত্ব
জানলেই জীবের জন্ম কর্ম বন্ধন থেকে মুক্তি। আজকে সকলের পাঠের জন্য শ্রীগীতার
চতুর্থ অধ্যায় জ্ঞানযোগের ১ থেকে ১০ শ্লোক প্রদত্ত হলো।
১) শ্রীভগবান
বললেন—এই অব্যয় যোগ আমি সূর্যকে বলেছিলাম। সূর্য বলেছিলেন স্বীয় পুত্র মনুকে এবং
মনু ইক্ষ্বাকুকে ইহা বলেছিলেন।
২) এই প্রকারে
রাজর্ষিগণ পুরুষপরস্পরা প্রাপ্ত এই যোগ বিদিত ছিলেন। হে পরন্তপ, ইহলোকে এই যোগ
দীর্ঘ কালবশে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
৩) তুমি আমার
ভক্ত ও সখা। এজন্য সেই পুরাতন যোগই অদ্য তোমাকে বললাম। কারণ, এই তত্ত্ব অতি উত্তম
ও অতি গুহ্য।
৪) অর্জ্জুন
বলেন, তোমার জন্ম অল্পকাল পূর্বে আর সূর্যের জন্ম বহু পূর্বে। সুতরাং তুমিই যে আগে
একথা বলেছিলে তা কিরূপে বুঝব?
৫) শ্রীভগবান
বলেন, হে অর্জ্জুন, আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে। হে পরন্তপ, আমি সে সব জানি,
কিন্তু তুমি তা জান না।
৬) আমার জন্ম
নাই, বিনাশও নাই। আমি সর্ব্বেশ্বর হয়েও আমার ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতিতে আশ্রয় করে
নিজ মায়াবলে দেহধারণ করি।
৭) হে অর্জ্জুন,
যে কোন সময়েই ধর্ম্মের গ্লানি দেখা দেয় অথবা অধর্ম্মের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখনই
আমি দেহ ধারণ করে অবতীর্ণ হই।
৮) সাধুদিগের
রক্ষার জন্য, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশের জন্য এবং ধর্ম্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে
যুগে অবতীর্ণ হই।
৯) হে অর্জ্জুন,
যিনি আমার দিব্য জন্ম ও কর্ম্মের কথা স্বরূপতঃ জানেন, তিনি আমাকে লাভ করেন।
দেহত্যাগের পর তাঁর আর পুনর্জ্জন্ম হয় না।
১০) সংসারে
আসক্তি, ভয়, ক্রোধ প্রভৃতি পরিত্যাগ পূর্ব্বক মন আমাতে সমর্পণ করে, আমার শরণাগত
হয়ে এবং আমার জন্ম- কর্ম্মের আলোচনা রূপ জ্ঞানতপস্যা দ্বারা পবিত্র হয়। বহুতর জন
আমার ইচ্ছায় আমার লীলার সঙ্গী হয়, আমার ভাব বা প্রকৃতি প্রাপ্ত হন।
[ যিনি বলেন গীতা
জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার কথা মাত্র--- তিনি কিন্তু তত্ত্বতঃ দেখেন না। যিনি বলেন
গীতা বিশিষ্টক্ষেত্রে সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক ঘটনা মাত্র—তিনিও তত্ত্বতঃ জানেন না।
যিনি জীবাত্মা পরমাত্মার নিত্য আলাপন কুরুক্ষেত্র – ধর্ম্মক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে
প্রকট দেখেন তিনিই তত্ত্বতঃ দ্রষ্টা। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।]


No comments:
Post a Comment