বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—২৯/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—মথুরাপুর*
মানিকচক* মালদা*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে বেদযজ্ঞ করে চলো
ভগবদ্ধামে ফিরে যাবার জন্য।]
জীব ঈশ্বরের সনাতন অংশ। ঈশ্বর সচ্চিদানন্দ-
ঘন কিন্তু জীব তাঁর অংশ হওয়ায় সচ্চিদানন্দ- কণ হয়ে রয়েছেন। ঈশ্বরের সত্তা পূর্ণ,
চেতনা পূর্ণ, আনন্দও পূর্ণ। জীবের সত্তা সীমাবদ্ধ, চেতনাও সীমাবদ্ধ ও অপূর্ণ,
আনন্দ অংশও মায়া দ্বারা সমাবৃত। মায়া দ্বারা জীব সত্তা সমাবৃত থাকার জন্য নিজের
বিশালত্ব সে অনুভব করতে পারে না, মানুষ হয়েও নিজেকে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মীরূপে
অনুভব করতে পারে না। ঈশ্বর গোলকে স্ব-স্বরূপে নিত্যস্থিত। জীব তাঁর অংশ হয়েও
জীবলোকে স্বরূপচ্যুত হয়ে সতত গতিশীল হয়ে এক দেহ থেকে আর এক দেহে ভ্রমণ করেই চলেছে।
ভগবদ্ধাম গতিহীন অচল। এখান থেকেই সবার সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখানেই ফিরে আসতে হবে।
জীবলোক থেকে শিবলোকে ফিরে যাবার জন্য চেষ্টা – সাধনা যদি না থাকে, জীব যদি
ঈশ্বরমূখী না হয় তবে সে কিভাবে সেই ধামে ফিরে যাবে? এই জীবলোক গতিমান সদা চঞ্চল এক
গাড়ী। এই গাড়ীতে প্রচুর হকার, কামনা- বাসনা – লোভকে বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রচারে
ব্যস্ত। তাই এই গাড়ীতে চেপে সবায় পরাধীন হয়ে পড়ে। নিজের হাতে গাড়ীর গতি কম- বেশী
করার ক্ষমতা থাকে না, সবকিছুই ইঞ্জিনের অধীনে। এখন আমরা গাড়ীর পরিবর্তন করে, যে
গাড়ীতে চাপলে ভগবদ্ধামে পৌঁছানো যায়, সেই গাড়ীতে যদি চাপি, তবে সেখানে পৌঁছানোর
ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারি। এই গাড়িতে যতই হকার থাক না কেন তাঁরা সকলেই সাহায্য
করবে, সুষ্ঠুভাবে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এই গাড়ীর ইঞ্জিনের চালক স্বয়ং
পরমেশ্বর, তাই এই গাড়ীতে চাপার জন্য তাঁর সাহায্য- করুণার একান্ত প্রয়োজন। তিনি
নিশ্চয় তাঁর গাড়ীতে কোন আবর্জনা বইবেন না এবং নিজের ধামে কোন আবর্জনা বহে নিয়ে
যাবেন না। জয় বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment