Wednesday, 12 July 2017

বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ-- ১২/ ০৭/ ২০১৭

বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—১২/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে আত্মার পূজা করো তাহলেই ব্যক্তিগতজীবনে, পারিবারিক- সামাজিক- রাষ্ট্রীয় ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।]
ঋষিরা বলেছেন—বেদযজ্ঞ করে আত্মার প্রয়োজনের বস্তু কেউ খোঁজ করে না, আত্মার তৃপ্তি- দায়ক বস্তুকে কেউ কোথাও দেখতে পায় না, এই অবস্থায় শান্তিলাভের তো কোন আশাই দেখি না। তোমার ভিতরে দুইজন দাবীদার; দেহ ও আত্মা—উভয়ের দাবীর প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। কেবল দেহের তৃপ্তি ও সুখসাধনে তো জীবনের অশেষ দুর্গতি ঘুচবে না। তোমাদের একপেশে (one- sided) আচরণে দেহটি পুষ্ট হয়ে বুর্জোয়া( bourgeois) ধনী সেজেছে, আত্মা উপেক্ষিত হয়ে সর্ব্বহারার রূপ লাভ করেছে। তাই ব্যক্তি সত্তার মধ্যেই ভয়ানক বৈষম্য দেখা দিয়েছে। এই বৈষম্য সকল দুঃখের কারণ। ইহা দূর করতে না পারলে শান্তি লাভের কোন সম্ভাবনা নেই। ঐ বৈষম্য সৃষ্টি করবে বহু প্রকারের সমস্যা— এর ফলে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক- সামাজিক- রাষ্ট্রীয় –আন্তঃরাষ্ট্রীয় জীবন সমস্যা পীড়িত ও দুর্দশাগ্রস্ত হতেই থাকবে।
  মানব –জীবনে যত প্রকার অশান্তি আছে, সবেরই মূল কারণ এই দেহ ও আত্মার বৈষম্য। যত প্রকার উদ্বেগ, অশান্তি, গণ্ডগোল সবই ক্ষুধার্ত আত্মার আর্তনাদ। জাতিতে জাতিতে রাজনৈতিক কারণে যুদ্ধ, মালিক শ্রমিকে লড়াই, হিন্দু- মুসলমান ও সাদা- কালোর আত্মঘাতী কলহ, সামাজিক বর্ণবিদ্বেষ, হিংসা, ঘৃণা, পারিবারিক অশান্তি, কলহ সবকিছুর মূলে আত্মার অসন্তোষ। শরীরের রক্ত দূষিত হয়ে দেহে প্রকাশ পায় নানা ব্যাধি, অল্পজ্ঞ চিকিৎসক বাহ্যিক ঔষধ প্রয়োগে সাময়িক কিছু উপশম করতে সক্ষম হলেও ব্যাধি নিরাময় হয় না। উহা অন্য রূপে পুনরায় দেহে ব্যাধির প্রকোপ ঘটায়। সেইরূপ আমাদের সমাজ দেহে অশেষ প্রকার রোগ। রাষ্ট্রনেতা, সমাজনেতা উহা প্রতিকারের জন্য চেষ্টা করছেন। কখনও কখনও সাময়িক কিছু ফল পেলেও রোগের মূলোৎপাটন না হওয়ায় পুনরায় ঐ ব্যাধি অন্যরূপে সমাজদেহে প্রকাশ পায়। আধ্যাত্মিক তত্ত্বজ্ঞ বলেন, ক্ষুধাতুর আত্মাকে তৃপ্ত না করলে, উপযুক্ত খাদ্য না দিলে, ব্যাধির নিরাময় হবে না, পক্ষান্তরে আত্মার তৃপ্তিতেই হবে সর্ব ব্যাধির চিরতরে নিরাময়। ইহাই আর্যঋষিদের কথা। ভারতীয় সংস্কৃতির নিজস্ব কথা, আমাদের সকলের কথা। তাই আসুন আমরা সকলে বেদযজ্ঞ করে আত্মার পূজা করে মানব সমাজ থেকে সর্বপ্রকার ব্যাধিকে চিরতরের জন্য দূর করি। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।

No comments:

Post a Comment