বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—০৮/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পঃবঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[বেদযজ্ঞ
করেই সকলকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে, সকলকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে শিখাতে হবে, এক সঙ্গে
চলতে শিখাতে হবে, সকলকে এক মনের অধিকারী করে তুলতে হবে এবং সকলকে এক প্রেমের মঞ্চে
দাঁড় করাতে হবে।]
ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু অশুভ শক্তির ছায়া এ দেশের সর্বত্র থেকে
গেছে। তাই আমাদের কৃষ্টি, ধর্ম ও জাতীয় ঐতিহ্যের উপর আঘাৎ মাঝে মাঝেই বিভিন্ন দিক
থেকে আসতেই থাকছে। ভারতীয়দের ধর্মের নাম হিন্দু ধর্ম। নামটা শাস্ত্রীয় নয়, সংস্কৃত
নয়; ইহা একটি ডাক নাম( nick name ) মাত্র। কী হেতু কে
প্রথম এই নামে আমাদের ডেকেছিল তা অনুসন্ধিৎসা সাপেক্ষ। এই ধর্মের শাস্ত্রীয় নাম
সনাতন ধর্ম। বাহির হতে দেখলে এই ধর্মকে খুব জটিল মনে হতে পারে কিন্তু ভিতরের দিক হতে, নীতি বা principle এর দিক হতে দেখলে ইহা একটি সহজ উদার মানবীয় ধর্ম। তিনটি মাত্র তত্ত্ব জানলে
এই ধর্মের মূল রহস্য বোধগম্য হবে। ১) মানুষকে মনুষ্যত্ব লাভ করতে হবে। ২)
মনুষ্যত্ব লাভের পর দেবত্ব লাভ করতে হবে। ৩) দেবত্ব লাভের পথে কোন দেবমানবকে
আচার্য্য করে তাঁর নির্দেশ ও আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। দেবত্ব ঘুমিয়ে আছে মানুষের
মধ্যে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণ শক্তি সব জাতির মানুষের অন্তরে ঘুমন্ত অবস্থায়
রয়েছে। সেই শক্তি বুদ্ধ, নানক, শঙ্কর, ছত্রপতি শিবাজী, বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দ,
নেতাজী প্রমুখ ব্যক্তির অন্তরে দেবত্ব শক্তি নিয়ে জেগে উঠেছিল। সেই দেবত্ব শক্তিই
মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করে এক সঙ্গে চলতে শিখিয়েছিল, এক কণ্ঠে কথা বলতে শিখিয়েছিল, এক
মন নিয়ে চিন্তা করতে শিখিয়েছিল, বেদের মন্ত্রকে কেন্দ্র করে। এই দেবত্বশক্তি
প্রত্যেক মানুষের অন্তরে প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে ঘুমিয়ে আছে, এই আগ্নেয়গিরির একবার
জাগরণ ঘটলেই দেশ থেকে সব অশুভশক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে। জয় বেদযজ্ঞের জয়। জয় ভারতমাতার
জয়।


No comments:
Post a Comment