Monday, 10 July 2017

বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ-- ১০/ ০৭/ ২০১৭




বেদযজ্ঞ সম্মেলনঃ—১০/ ০৭/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে হৃদয়ের আবদ্ধ দরজা- জানালা খুলে দাও, তবেই স্নিগ্ধ বাতাসের পরশনে হৃদয়মন্দির পবিত্র থাকবে।]
বেদযজ্ঞ করে আমাদের হৃদয়ের রুদ্ধ কপাট খোলাটির নামই বেদের সাধনা—বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাধনা। বাতাস আসা হচ্ছে ঈশ্বরের করুণা। কপাট খুলে বাতাসের অপেক্ষায় থাকাই হচ্ছে তপস্যা। আম্রবৃক্ষের গলিত আমটি পেতে হলে সেই বৃক্ষতলে অপেক্ষায় থাকতে হবে, কবে সেই আমটি পেকে একেবারে গলিত অবস্থায় পড়বে এবং কে সেইটি পাবে তাও কেউ বলতে পারবে না। সেই রূপ বেদবৃক্ষের গলিত পক্ক ফল পাবার জন্য তপস্যা করতে হবে বেদবৃক্ষের তলেই। বেদবৃক্ষের ফল লাভ হলেই মানুষ ব্রহ্মত্ব লাভ করেন এবং এই ব্রহ্মত্ব শক্তির দ্বারাই তিনি মানবত্ব লাভ করে ঈশ্বরকে নিচে নামিয়ে আনেন, মানবজাতির মঙ্গলের জন্য। তপস্যামূর্তি মহর্ষি বেদব্যাস সেই করুণা লাভ করে, মানবজাতির জন্য সাধনার সহজ পথ দিয়ে গেছেন- বেদ – উপনিষদ – ভাগবত- গীতা- মহাভারত ইত্যাদি গ্রন্থে। মানুষের যে তপস্যা তাকে বলা হয় সাধনা। শ্রীভগবানের তপস্যার নামটি হল করুণা। সাধনায় মানুষ ঊর্ধ্বে ওঠে। করুণায় ঈশ্বর নিচে নেমে আসেন। নামতে নামতে ভগবান যখন একেবারে মানুষ হয়ে “ মোর পুত্র, মোর সখা, মোর প্রাণপতি” হয়ে যান তখন শ্রীভগবান সুন্দরতম হয়ে যান। বেদযজ্ঞের মাধ্যমে শ্রীভগবানকে আপন করে, নিজের ঘরের মানুষ করে, দেবতা করে, গুরু করে, অভিভাবক করে নেওয়ার সাধনা মহর্ষি বেদব্যাসের দান। তিনিই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অর্থাৎ ভূমাকে ভূমিতে নামিয়ে আনেন এবং ভগবানের সাথে জীবের নিত্যলীলার কথা প্রকাশ করেন। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।  


No comments:

Post a Comment