বিশ্বমানব শিক্ষা
ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৫) তারিখঃ- ১৩/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোড়শালা* জঙ্গীপুর*
মুর্শিদাবাদ* ভারত*
আজকের আলোচ্য
বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে তোমরা পরাভক্তির রাজ্যের শেষ
সীমান্তে গিয়ে তোমাদের ভগবানের মুর্ত্তি গড়ো, দেখবে সেই বিশ্বরূপের মধ্যেই তোমরা
অবস্থান করছো।]
ভারতের মাটি
আধ্যাত্মিক মহাভাবের মিলন ভূমি। এই মহাভাব ভূমিতে ভক্ত ভগবানে, ভগবান ভক্তে
নিবিড়তমভাবে অনুস্যুত হয়ে যায়। ভক্ত ভগবানে প্রেমপুর্ণ মিলন ঘটে এই ভারত ভূমিতে,
যা বিশ্বের আর কোথাও অনুস্যুত হয় না। অথচ রসভেদের জন্য ভেদ থাকে। এই ভূমিতেই
ভেদাভেদবাদ জীবন্ত হয়। পূর্ণতমভাবে প্রকটিত হয়। শ্রীগৌরাঙ্গদেব একাধারে রাধা ও
কৃষ্ণ, এই কথার নিগূঢ় তাৎপর্য ইহাই। মহাভাবময়ী শ্রীরাধার সঙ্গে রসরাজ শ্রীকৃষ্ণ,
উভয়ে উভয়ে সর্ব্বতোভাবে অনুপ্রবিষ্ট। একত্বে পৌছেও দ্বৈতের আস্বাদনে ভরপুর।
পরাভক্তির রাজ্যের শেষ সীমান্তের এই সব কথা। ভারতের মুনি- ঋষিরা কত অঙ্গরাগ দিয়ে
সনাতন সৃষ্টির ধারাকে রক্ষা করে ঈশ্বরের মুর্ত্তি গড়েছেন, বিশ্বমানব সন্তানদের
মুক্তির জন্য। তাঁরাই দেখিয়ে গেছেন—কর্ম্ম চরিতার্থ হয় জ্ঞানে ও যোগে। যোগযুক্ত
সার্থক হয় ভক্তিতে। ভক্তির পরিপূর্ণতা পরাভক্তিতে। কর্ম্ম জানিয়ে দেয়—ঈশ্বর
সৎস্বরূপ হয়ে ভক্তের হৃদয়ে বিরাজ করছেন। তাই তিনি সত্যস্বরূপ। জ্ঞান জানিয়ে দেয়—তিনি
অনন্ত, বিশ্বব্যাপী চৈতন্যসত্তা। যোগ জানিয়ে দেয়—তিনি চিদঘন আত্মান্তর্য্যামী।
ভক্তি জানিয়ে দেয় – তিনি পুরুষোত্তম ভগবান লীলাবিগ্রহ। পরাভক্তি রসে ডুবিয়ে
আস্বাদন করিয়ে দেয় ভক্তকে—তিনি প্রাণ- প্রিয়তম আনন্দরসঘন সর্ব্বস্বধন। জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় বেদমাতা, ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। জয়
বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।

No comments:
Post a Comment