[ আজ বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি
অর্থাৎ জন্মাষ্টমী। এই তিথিতে ব্রাহ্মণ,
ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চাতুর্ব্বর্ণের মানুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মুখনিঃসৃত
শ্রীগীতা শ্রবণ করে বা পাঠ করে মোক্ষ লাভ করতে পারেন। চাতুর্ব্বর্ণ মধ্যে
মনুষ্যদেহ ধারণ করে যে ব্যক্তি অমৃতরূপিণী গীতা পাঠ বা শ্রবণ করে না, সে প্রাপ্ত
অমৃত হস্ত থেকে ফেলে দিয়ে বিষ ভক্ষণ করে। সংসার- দুঃখার্ত্ত ব্যক্তি গীতাজ্ঞান লাভ
এবং গীতামৃত পান করে ভগবানে ভক্তিলাভ করে সুখী হয়ে থাকেন। জনকাদি রাজগণ গীতা আশ্রয়
করে নিষ্পাপ হয়ে পরম পদ লাভ করেছেন। গীতাপাঠে উচ্চ নীচ ইতর বিশেষ নাই, ব্রহ্ম-
স্বরূপিণী গীতা সমভাবে সকলকেই জ্ঞান দান করেন। এই ভারতের পবিত্র মাটিতে গীতার
আবির্ভাব কবে ঘটেছে তা একমাত্র বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণই জানেন, কারণ তিনিই সূর্যকে এই
গীতার উপদেশ দেন। সেই পবিত্র গীতা মানবজাতি শ্রবণ করার ও পাঠ করার সুযোগ পাচ্ছেন,
এর থেকে আর কি সুখের কথা থাকতে পারে? আজকে নবম অধ্যায় রাজবিদ্যা- রাজগুহ্যযোগের ১৬
থেকে ২০ মন্ত্র সকলের জন্য উচ্চারিত হলো।]
১৬) আমি অগ্নিষ্টোমাদি শ্রৌত যজ্ঞ, আমি
স্মার্ত যজ্ঞ, আমিই শ্রাদ্ধাদি পিতৃযজ্ঞ, আমি মন্ত্র, আমি ঔষধ, আমিই ঘৃত, আমিই
অগ্নি এবং আমিই হোম দ্রব্য।
১৭) আমি এই জগতের পিতা, মাতা, ধারক ও
পিতামহ। বিশ্বের আমিই
একমাত্র জ্ঞাতব্য বিষয় ও পবিত্র বস্তু। আমি ব্রহ্মবাচক ওঁকার এবং আমিই ঋক, সাম,
যজুঃ এই সকল বেদ।
১৮) আমি সকলের গতি,
পোষণকর্তা, প্রভু শুভাশুভের দ্রষ্টা এবং স্থিতি স্থান। আমি সকলের রক্ষক ও জগতের
বন্ধু। আমি স্রষ্টা, সংহার কর্ত্তা, আধার ও লয়স্থান। আবার আমিই অবিনাশী বীজস্বরূপ।
১৯) হে অর্জ্জুন,
আমি ( সূর্যরূপে) তাপ দান করি, আমিই বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং আমিই কিরণ দ্বারা
বৃষ্টির রোধ করি। আমিই জীবের জীবন ও মৃত্যু। আমি সদরূপী অব্যক্ত আত্মা এবং আমিই
অসদরূপী জীবজগৎ।
২০) ত্রিবেদের
অনুগামীগণ আমাকে যজ্ঞদ্বারা পূজা করে সোমরস পানে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গলোক
প্রার্থনা করেন এবং পুণ্য ফলে স্বর্গলোক প্রাপ্ত হয়ে দিব্য দেবভোগ সমূহ উপভোগ করে
থাকেন।
[ জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় বেদমাতা, ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। জয় ভগবান
শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতামায়ের জয়।]


No comments:
Post a Comment