[শ্রীগীতা হচ্ছেন মানবজাতির অন্তরের সূর্য।
পবিত্র এই গীতা প্রথম সূর্য লাভ করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট থেকে। এই সত্যকে জেনে
যারা গীতা পাঠ করেন, তাঁদের অন্তরে অচিরেই বেদসূর্য উদিত হন আলোর বর্তিকা নিয়ে। বিশ্বমানবের জীবন দর্শন ও সত্যপথ প্রদর্শক হচ্ছেন
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মুখনিঃসৃত শ্রীগীতা। প্রতিদিন যে গৃহে শ্রীগীতার একটি শ্লোকও পাঠ
করা হয় সেই গৃহ শ্রীভগবানের মন্দির হয়ে যায়। আজ বিভূতিযোগঃ এর ১ থেকে ১০ শ্লোক
সকলের পাঠের জন্য প্রদত্ত হলো।]
১) শ্রীকৃষ্ণ বললেন—হে মহাবীর, আমার পরম তত্ত্বের কথা আবার শুন। তুমি আমার
অতিশয় প্রিয়। এজন্যই তোমার কল্যাণ কামনায় তোমাকে এই কথা বলছি।
২) আমার জন্মের কথা দেবতারাও জানেন না, মহর্ষিগণও জানেন না। কারণ আমি
মহর্ষিদের এবং দেবতাদের পূর্ব্বেও বিদ্যমান ছিলাম।
৩) আমার জন্ম নাই, আদি নাই, আমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রভু। আমার এই স্বরূপ
যিনি জানেন তাঁকে মোহ স্পর্শ করতে পারে না। তিনি এই জগতের সকল পাপ থেকে মুক্ত হন।
৪—৫) বুদ্ধি, জ্ঞান, ভাল- মন্দ বিচার পূর্ব্বক স্থির ভাবে কর্ম্মে প্রবৃত্ত
হওয়ার ক্ষমতা, ক্ষমা, সত্য, বাহ্য ইন্দ্রিয়ের সংযম, মনের সংযম, সুখ, দুঃখ, জন্ম,
মৃত্যু, ভয়, সাহস, অহিংসা, সকলের প্রতি সমত্ববুদ্ধি, সন্তোষ, তপস্যা, দান, সুনাম,
দুর্নাম—প্রাণীদের এই সকল ভিন্ন ভিন্ন ভাব আমা হইতে জন্মে।
৬) সপ্তর্ষি নামে খ্যাত সাতজন এবং তাঁদের
পুর্বেকার সনক প্রভৃতি চারজন মহর্ষি, চৌদ্দজন মনু আমার বৈষ্ণব শক্তি নিয়ে আমার মন
থেকে জন্মলাভ করেছেন। এই পৃথিবীর সমস্ত লোক এদের সন্তান সন্ততি।
৭) আমার এই বিভূতি ও শক্তির কথা যিনি
ভালরূপে জানতে পারেন তিনি যে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করে থাকেন এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।
৮) সমস্ত জগৎ আমা থেকেই জন্মে আবার আমিই
সকলকে কাজে প্রবর্ত্তিত করি। এই তত্ত্ব জেনে পণ্ডিতগণ শ্রদ্ধাভরে আমার পূজা করেন।
৯) যারা আমাকে তাঁদের মন ও প্রাণ অর্পণ
করেছেন, তারা নিজেদের মধ্যে আমার কথা আলোচনা করতে করতে ও আমার গুণকীর্তন করতে করতে
সর্ব্বদা পরস্পরের সন্তোষ বিধান করেন এবং পরম আনন্দে জীবনযাপন করেন।
১০) আমাতে মনঃপ্রাণ অর্পণ করে যারা আমাকে
শ্রদ্ধার সহিত ভজনা করেন সেই ভক্তগণকে আমি এমন জ্ঞান দেই যার ফলে তাঁরা আমাকে লাভ
করেন।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয়
বেদমাতা, বিশ্বমাতা ও ভারতমাতার জয়। জয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতা মাতার জয়।

No comments:
Post a Comment