Wednesday, 16 August 2017

গীতা রাজবিদ্যা- রাজগুহ্যযোগঃ ২৬ থেকে ৩৪ শ্লোক

[  শ্রীগীতার রাজবিদ্যা শিখে নিলেই মানুষ রাজার মতো হৃদয় পেয়ে রাজা হয়ে সংসারের সিংহাসনে অবস্থান করেন।  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতাতে বলেছেন—‘ মানুষের মধ্যে আমি রাজা’ তাহলে আমরা সবায় রাজা, রাজার রাজত্বে। যদি আমরা রাজ হৃদয়ের অধিকারী হতে পারি গীতাকে আশ্রয় করে। তিনি গীতা মাহাত্মে বলেছেন---হে পাণ্ডব, আমি গীতার গুহ্য নামসমূহ বলছি শোন; ঐ নামসকল কীর্ত্তন করলে তৎক্ষণাৎ সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়ে যায়। গঙ্গা গীতা সাবিত্রী সীতা সত্যা পতিব্রতা ব্রহ্মাবলি ব্রহ্মবিদ্যা ত্রিসন্ধ্যা মুক্তিগেহিনী অর্দ্ধমাত্রা চিদানন্দা ভবগ্নী ভ্রান্তিনাশিনী বেদত্রয়ী পরানন্দা ও তত্ত্বার্থজ্ঞানমঞ্জরী। যে ব্যক্তি স্থিরচিত্তে প্রত্যহ এই সকল নাম জপ করেন, তিনি ইহলোকে নিত্য জ্ঞানসিদ্ধ ও অন্তে পরমপদ প্রাপ্ত হন। [ গীতা মাহাত্মাম ৪৭ থেকে ৫১]
আজকের সকলের জন্য পাঠ রাজবিদ্যা- রাজগুহ্যযোগঃ ২৬ থেকে ৩৪ শ্লোক।
২৬) যিনি আমাকে তুলসীপত্র, পুষ্প, ফল, জল প্রভৃতি যা কিছু শ্রদ্ধা পূর্ব্বক দান করেন, আমি শুদ্ধচিত্ত ভক্তের সেই ভক্তিপূর্ব্বক প্রদত্ত উপহার গ্রহণ করে থাকি।
২৭) হে কৌন্তেয়, তুমি যা কিছু কর, যা কিছু ভোজন কর, যা কিছু হোম কর, যা কিছু দান কর এবং যা কিছু তপস্যা কর, সে সমস্তই আমাকে অর্পণ করবে।
২৮) এইভাবে সর্ব্বকর্ম্ম আমাতে অর্পণ করলে শুভাশুভ কর্ম্ম বন্ধন থেকে মুক্ত হবে। আমাতে সর্ব্বকর্ম্ম সমর্পণরূপ যোগে যদি তুমি যুক্ত হও, তা হলে কর্ম্মবন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে আমাকে প্রাপ্ত হবে। [ শ্রীভগবান সবার রাজা, তাঁকে যিনি প্রাপ্ত হন তিনিও রাজা হয়ে যান।]
২৯) আমি সর্ব্বভূতে সমদর্শী। আমার কেহ প্রিয়ও নাই, অপ্রিয়ও নাই। কিন্তু যারা ভক্তিপূর্ব্বক আমাকে ভজনা করেন তাঁরা আমাতে অবস্থান করেন এবং আমিও তাঁদের অন্তরে থাকি। [ যার অন্তরে ভগবান থাকেন তিনিই তো তাঁর সকল সম্পদের অধিকারী এবং সকলের রাজা।]
৩০) যদি অতি দুরাচার ব্যক্তিও অনন্যচিত্ত হয়ে আমাকে ভজনা করে তাকে সাধু বলে মনে করবে। কারণ তার সংকল্প অত্যন্ত শুভ ও পবিত্র।
৩১) এই জাতীয় দূরাচার ব্যক্তি অতি শীঘ্র ধর্ম্মাত্মা হন এবং চিরশান্তি লাভ করেন। হে কৌন্তেয়! তুমি সর্ব্ব সমক্ষে দৃঢ় প্রত্যয়ের সহিত বলতে পারো যে আমার ভক্তের কখনো বিনাশ নাই।
৩২) হে অর্জুন, একান্ত নীচকূলে যাদের জন্ম, যারা শাস্ত্র- জ্ঞানহীন, স্ত্রীলোক, বৈশ্য অথবা শূদ্র, আমার আশ্রয় নিলে তারাও পরম গতি লাভ করেন।
৩৩) এ বিষয়ে পুণ্যবান ব্রাহ্মণ, ভক্ত ও ক্ষত্রিয়দের কথা আর কি বলবো? তাঁরা যে আমার উপাসনায় পরাগতি লাভ করবে এতে তো কোন সন্দেহ নাই। অতএব যখন এই অনিত্য দুঃখদায়ক মনুষ্যলোকে এসে জন্মগ্রহণ করেছ, তখন সদ্গতি লাভের জন্য আমাকে ভজনা কর।
৩৪) হে অর্জুন, আমাতে মন দাও, আমার ভক্ত হও, আমার প্রীতির নিমিত্ত পূজা পার্ব্বন যোগ- যজ্ঞাদি কর এবং কায়মনোবাক্য হয়ে আমাকে প্রণাম কর। এই ভাবে মৎপরায়ণ হয়ে আমাতেই নিজ আত্মা যোগ কর। তাহলেই আমাকে পাবে। [ ইতি রাজবিদ্যা- রাজগুহ্যযোগ নামক নবম অধ্যায়।]

No comments:

Post a Comment