বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(২৮)
তারিখঃ- ২৬/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে মাতৃশক্তির আরাধনা করো, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
নারীগণের মধ্যে শ্রী, বাক, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি ও ক্ষমা হয়ে বিরাজ করেন এবং সেই গুণ
ও শক্তির দ্বারাই লোকরক্ষা করেন।]
দেবী মহামায়া সুখদা ও মোক্ষদা। তিনি
শ্রীকৃষ্ণ শক্তির আধার হয়ে মাতৃজাতির মধ্যে শ্রী, বাক, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি ও ক্ষমা
হয়ে বিরাজ করছেন এবং সৃষ্টিলীলা চালিয়ে যাচ্ছেন। চণ্ডীর দুইজন শ্রোতার রহস্য ইহাই।
বিষয় সুখ ও মোক্ষ ছাড়া আর একটি পরম সম্পদ মহাশক্তি মহাদেবী প্রদান করতে পারেন তাঁর
সন্তানদের। তা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ চরণে প্রেমভক্তি (সুখদা মোক্ষদা দেবী
বিষ্ণুভক্তিপ্রদায়িণী)। যার যে অভাব এবং যে অভাবের জন্য যে আর্তি—প্রার্থিত সম্পদ
দান করে তিনি তা তৎক্ষণাৎ দূর করেন। দেবগণ মাতৃস্তবে যথার্থই বলেছেন—“
সর্ব্বস্যার্তিহরে দেবি” সকলের সকল প্রকার আর্তি বা বেদনা হরণ করাই মায়ের
করুণাশক্তির কাজ। ভোগী ব্যক্তির ভোগ্যবস্তুর অপ্রাপ্তিজনিত যে আর্তি, বৈরাগ্যবান
সাধকের মুক্তিলাভের জন্য যে আর্তি এবং শ্রীকৃষ্ণ চরণে শুদ্ধাভক্তির প্রয়াসী
নির্মলচিত্ত ভক্তজনের যে আর্তি—সকলই দূর করেন মাতা প্রার্থিত বস্তু দান করে।
সাক্ষাৎ করুণার প্রকট বিগ্রহ সন্তানের সকল বেদনা দুঃখ-তাপ মুছে দিতে মা অভয়-
বরদারূপে নিয়তই আমাদের শিয়রে প্রতীক্ষমানা।
মানবসভ্যতা আজ ভোগমুখী। ভোগ-সুখের প্রতি
অতিরিক্ত অভিনিবেশই সকল দুঃখের কারণ। বিষয়-সুখের কামনা হতে ক্রোধ, ক্রোধ হতে
সন্মোহ এবং সন্মোহ হতে স্বরূপবিস্মৃতি আনয়ন করে। মা মহামায়াকে ভুলে জীব মহাদুঃখে
নিপতিত হয়। অপরদিকে মাতৃস্বরূপে স্থিত হলে সকলই লাভ হয়ে থাকে, কিছুই হারাতে হয় না।
বিশ্বমাতার পূজায় বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রসার ঘটে বিশ্বজুড়ে। বিশ্বভ্রাতৃত্ব সকলকে
মহৎ করে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী করে তোলে। সকলেই বেদযজ্ঞে রত হয়ে সর্ব্বভূত হিতে
রত হলেই বিশ্বের পরম কল্যাণ। আজ সমস্যাবহুল দেশের চরম দুর্দিনে বিপদ থেকে মুক্তির
জন্য ভক্তিবিনম্র চিত্তে মাতৃচরণে আমাদেরকে স্তুতি ও প্রণতি জানাতেই হবে—“ শরণাগত
দীনার্ত –পরিত্রাণপরায়ণে। সর্ব্বস্যার্তিহরে দেবি! নারায়ণি নমোহস্ত তে”।। জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment