বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(২৯)
তারিখঃ-২৭/০৮/২০১৭ স্থানঃ- ঘোড়শালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করেই মৃতদের মধ্য থেকেই হাজার হাজার স্বামী
বিবেকানন্দকে জাগিয়ে তুলতে হবে, দেশমাতৃকার সেবা করার জন্য।]
স্বামী বিবেকানন্দের ন্যায় অসাধারণ জ্ঞানী ও
অক্লান্ত কর্মীর অভাব নেই এই ভারতের মাটিতে। কিন্তু তাঁরা সকলেই মৃতপ্রায় দেবতা
হয়ে লুকিয়ে রয়েছেন গৃহকোণে অথবা কোন এক মৃত দেবালয়ের কুটিরে। লাখ লাখ যুবক আজ
দিশেহারা ভারতের পুণ্যভূমিতে, সত্যের সন্ধান না পেয়ে। গুরুগিরির ব্যবসায় সারা
ভারতে এমনভাবে ছেয়ে গেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার আশ্রয়ে যে তাঁরা আর মানুষকে জাগিয়ে
তোলার জীবন্ত মন্ত্র দিতে পারছেন না। ফলস্বরূপ ভারতবাসী প্রত্যহিক জীবনযাত্রায়
চিত্তের বিশুদ্ধতা হারিয়ে ফেলে দুর্বল হয়ে স্বার্থপর হয়ে উঠেছে এবং দেশের জন্য যে
তাঁদের একটা দায়- দায়িত্ব রয়েছে সে কথা একেবারে ভুলে গেছে। স্বার্থপর দালাল স্বরূপ
বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক দাদা- দিদিদের হাতে দেশটাকে ছেড়ে দিয়ে কোটি কোটি ভারতবাসী
তাঁদের কৃপার প্রার্থী হয়ে থাকাটাকেই জীবনের সার্থকতা মনে করে মেনে নিয়েছেন। স্বামী বিবেকানন্দ
হিন্দুজাতির ঐতিহ্যপুষ্ট সভ্যতা যা সহস্র সহস্র বছর ধরে মৃতপ্রায় হয়েছিল, তাকে এক
ধাক্কায় জাগিয়ে তুলেছিলেন বিদেশের মাটিতে গিয়ে। ভারতের বেদের মন্ত্রে কত শক্তি আছে তা তিনি দেখিয়ে
দিয়েছিলেন চিকাগো সভায় হিন্দুধর্ম্মের বিজয়- শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে। পরাধীন ভারতবাসীর যে কণ্ঠরোধ হয়েছিল সহস্র সহস্র বছর
ধরে তা তিনি এক ধাক্কায় খুলে দিলেন এবং তাঁর আহ্বানে ঝড়ের গতিতে তাণ্ডব নৃত্য শুরু
হয়ে গেলো ভারতভূমিতে, নিজের হিন্দুধর্ম্মে সকল ভারতীয় শিক্ষিত যুব সমাজ দেখতে
পেলেন জীবন্ত দেবতাকে বেদান্তের মধ্যে। সবার কণ্ঠে নূতন মন্ত্র উচ্চারিত হল।
উচ্চারিত হল স্বাধীন ও উদাত্ত কণ্ঠে, বজ্র নিনাদে, বেদান্ত- কেশরীর সিংহনাদে—ব্রহ্মোপলব্ধিতেই
জীবনের পূর্ণতা। ইহা শাশ্বত সত্য। এই উপলব্ধির উপায় চিত্তশুদ্ধি। চিত্তশুদ্ধ হবে
সর্ব্বভূতে নারায়ণ দর্শনে। নারায়ণের দর্শন চাই। শুধু দিব্যচক্ষু দ্বারা দর্শন নয়,
দর্শন হবে বাস্তবায়িত দিব্যজীবন দ্বারা। জীবকেই শিব করে গড়ে তুলতে হবে বেদান্তের মন্ত্রের জাগরণের দ্বারা। হাজার
হাজার শিবের তাণ্ডব নিত্যে বিশ্ব কেঁপে উঠবে এবং সমস্ত অশুভ শক্তি লীন হয়ে যাবে
বাতাসের সাথে ঝড়ের গতিতে। স্বামী
বিবেকানন্দ যুবশক্তিকে সংঘবদ্ধ করে বললেন—“দেশমাতৃকা আমার জীবন্ত দেবতা। নিজেকে
বিলাইয়া এই পূজায় বলি দাও যাহা কিছু আপনার”। আজ স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজী, ঋষি
অরবিন্দের ভারতবর্ষ খণ্ড খণ্ড হয়ে দালালদের হাতে চলে গেছে। পরাধীন ভারতবর্ষে
ব্রিটিশ শাসকেরা যেভাবে যুবশক্তির কণ্ঠ রোধ করে রাখতো, যুবশক্তিকে ভয় দেখিয়ে
মৃতপ্রায় করে রাখতো, বেদান্তের জীবন্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে রাখতো, একই কায়দায়
স্বাধীন ভারতবর্ষের নেতা মন্ত্রীরাও যুব শক্তিকে দুর্বল – শক্তিহীন ও মৃতপ্রায় করে
রেখেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজী সুভাষ, ঋষি অরবিন্দের স্বপ্নের ভারতবর্ষ গড়ে
তোলার জন্য হাজার হাজার যুবক গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করেছেন, কিন্তু
দুঃখের বিষয় তাঁরাও ইট –পাথরের সভ্যতার মধ্যে ডুবে গিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে গেছেন। নিজের
নিজের দল- গোষ্ঠী – মতবাদকে প্রচার করে বড় বড় স্কুল- কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলে
সে সব কেন্দ্রকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। সেখান থেকে যারা শিক্ষা লাভ
করে আসছেন তাঁরা বড় বড় সরকারী পদে চাকুরী পাচ্ছেন ও বড় বড় দালাল হচ্ছেন নিজ
স্বার্থে। তাই আমাদের সকলকে চিন্তা করে এগিয়ে আসতে হবে মন্ত্রহীন যন্ত্র মহাদানবকে
ভারতের মাটি থেকে চিরতরে বিদায় করার জন্য। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয়
বেদমাতা, বিশ্বমাতা ও ভারতমাতার জয়।


No comments:
Post a Comment