Friday, 11 August 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ১৩

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযানঃ-(১৩) তারিখঃ- ১১/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ- ঘোড়শালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ- [ বেদযজ্ঞ করে চলো অগ্নি, চন্দ্র, সূর্য, সোম প্রভৃতি দেবতা জাগ্রত হয়ে তোমাদের সাথেই আছেন, যজ্ঞ সম্পূর্ণ করে করুণা ধারা বর্ষণ করার জন্য।]
অগ্নি, চন্দ্র, সূর্য, সোম, ইন্দ্র, বরুণ, যম এই সকল বৈদিক দেবতা। এঁরা বস্তুতঃ আলাদা কোন দেবতা নহেন। পরম পুরুষরেই এই একটি ভাবের রূপ এঁরা। সূর্য তাঁর জ্ঞান শক্তি, চন্দ্র তাঁর অনুভবশক্তি, অগ্নি তাঁর ইচ্ছাশক্তি, সোম তাঁর করুণা শক্তি, ইন্দ্র তাঁর রাজশক্তি, বরুণ তাঁর ধন্বন্তরিশক্তি, যম তাঁর দণ্ডশক্তি। এইভাবে সকল দেবদেবীই ক্ষর- পুরুষের বিভিন্ন ভাবের অভিব্যক্তি। ঈশ্বর বেদে ক্ষর পুরুষের পরেও অক্ষর- পুরুষের কথা বলেছেন। তিনি সর্ব্বপ্রাণীর হৃদয়ে সন্নিবিষ্ট আছেন অন্তর্য্যামী রূপে। তিনি বলেছেন—আমি আত্ম- চৈতন্য। জীবের মধ্যে যে আত্মজ্ঞান, স্মৃতিবিস্মৃতি, তা আমার জন্য হয়। আমার এই স্বরূপটি অক্ষর বা অপরিবর্ত্তনীয়, আমি কুটস্থ। জীব ও জগতের আমি নাগালের বাইরে। অক্ষরই যে ব্রহ্ম এবং তিনিই যে কূটস্থ তা তিনি বার বার শ্রীগীতাতে উল্লেখ করেছেন নিজ মুখে। সকল গতির মূলে ক্ষর অর্থাৎ অগ্নি, চন্দ্র, সূর্য, সোম, ইন্দ্র, বরুণ, যম প্রভৃতি দৈবশক্তি। সকল স্থিতির মূলে অক্ষরব্রহ্ম বা তারকব্রহ্ম। এই গতি ও স্থিতির ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া--- জড় ও চৈতন্যের ক্রীড়াই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। যে মহাচেতনায় বিশ্বচৈতন্য বিধৃত, অপৌরুষেয় জ্ঞানভাণ্ডার বেদের যিনি লক্ষ্য, বেদের যিনি বেত্তা, রহস্যবিদ্যার যিনি মূল রহস্য তিনিই অক্ষর- পুরুষ। বেদযজ্ঞ করলেই তিনি মানুষের হৃদয় মন্দিরে জেগে উঠেন বিভিন্ন দৈবীশক্তির ভাব নিয়ে। তারপর করুণার ধারা বর্ষণ করেন জগতের সবার কল্যাণের জন্য। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় বেদমাতা, ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। হরি ওঁ তৎ সৎ।

No comments:

Post a Comment