Monday, 14 August 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান - ১৬ তাং ১৪/ ০৮/ ২০১৭

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(১৬) তারিখঃ—১৪/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* জঙ্গীপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিসয়ঃ—[ জীবনের যাবৎ ব্যাপারই যজ্ঞ, যদি তা ঈশ্বরের প্রীতির জন্য করা হয়।]
মানব জাতির জন্য সনাতন ধর্ম্মে দ্বাদশ প্রকার কর্ম্মযজ্ঞের কথা বলা হয়েছে। সেই সব যজ্ঞগুলি যথাক্রমে --১) দৈবযজ্ঞ ২) ব্রহ্মযজ্ঞ ৩) ইন্দ্রিয়- সংযম- যজ্ঞ ৪) অনাসক্তিযজ্ঞ ৫) আত্মসংযমযজ্ঞ ৬) দ্রব্যযজ্ঞ ৭) তপোযজ্ঞ ৮) যোগযজ্ঞ ৯) স্বাধ্যায়যজ্ঞ ১০) জ্ঞান বা বেদযজ্ঞ ১১) ব্রতযজ্ঞ ১২) প্রাণায়ামযজ্ঞ নামে ভূষিত। এই সব যজ্ঞের মধ্যে ব্রহ্মযজ্ঞ ও জ্ঞানযজ্ঞ বা বেদযজ্ঞ মূলতঃ একই কথা। ইহা স্বরূপতঃ কর্ম্মযজ্ঞ নহে। সকল কর্ম্মযজ্ঞের পরিসমাপ্তি জ্ঞানযজ্ঞে বা বেদযজ্ঞে। জ্ঞানযজ্ঞ বা বেদযজ্ঞের শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করার লক্ষ্যেই অন্যান্য যজ্ঞ করা হয়ে থাকে। ১) দৈবযজ্ঞ দেবতার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত করা হয়ে থাকে। ২) ব্রহ্ম যজ্ঞ ‘ বিজ্ঞানমানন্দং ব্রহ্ম’ “ সত্যং জ্ঞানমনন্তং ব্রহ্ম” ব্রহ্ম না সত্যকে জানার জন্যই এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। ৩) ইন্দ্রিয়সংযম- যজ্ঞ চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়কে সংযত করে সমাধিতে ডুবে থাকার আনন্দানুভুতিই হল ইন্দ্রিয়সংযম যজ্ঞ। ৪) অনাসক্তিযজ্ঞ—এই যজ্ঞের কর্ত্তা গৃহস্থাশ্রমীরা। অনাসক্তি যজ্ঞকারী ব্যক্তি অহংকার- বিমূঢ় হয়ে নিজেকে কর্ত্তা মনে করেন না। তিনি জানেন প্রকৃতির গুণসকলই সমস্ত কর্ম্মের কর্ত্তা, আত্মা দ্রষ্টা মাত্র। ৫) আত্মসংযমযজ্ঞের আচার্য্য হচ্ছেন ধ্যাননিষ্ঠ যোগীগন। ৬) দ্রব্যযজ্ঞ হচ্ছে তীর্থাদিতে গিয়ে দান, অনাশ্রয়িকে আশ্রয় দান, জীবের মঙ্গলে কর্ম্মই হচ্ছে দ্রব্যযজ্ঞ। ৭) তপোযজ্ঞ তপস্যাকেই বলা হয়ে থাকে। প্রকৃতির সব কিছু অত্যাচার সহ্য করে লক্ষ্যে পৌঁছানোই তপোযজ্ঞের ব্যাপার। ৮) চিত্তের বৃত্তিসমূহকে নিরোধ করার নাম যোগ। বৃত্তি নিরোধই যাঁদের যজ্ঞ তাঁরাই যোগযজ্ঞাঃ। ৯) স্বাধ্যায়যজ্ঞ হচ্ছে ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বনপূর্ব্বক গুরু সেবাপরায়ণ হয়ে শ্রদ্ধার সাথে বেদাভ্যাসের নাম বেদযজ্ঞ বা স্বাধ্যায়যজ্ঞ। ১০) জ্ঞানযজ্ঞ বা বেদযজ্ঞকারী গভীর যুক্তিবিচার অনুশীলন- পূর্ব্বক বেদার্থের নিশ্চয়াবধারণ যিনি যজ্ঞবুদ্ধিতে করেন, তিনি জ্ঞানযোগী। ১১) ব্রতযজ্ঞ হচ্ছে যে কোনও কার্য্যের বা নিয়মের কিছুমাত্রও ত্রুটি- বিচ্যুতি না করে নিত্য নিয়মিত অনুষ্ঠানের নাম দৃঢ় ব্রতযজ্ঞ। ১২) প্রাণায়ামযজ্ঞ বলতে পাতঞ্জল যোগ অনুসারে প্রাণায়াম করাকেই বুঝায়। এই সব যজ্ঞের মধ্যে গীতাতে জ্ঞানযজ্ঞ বা বেদযজ্ঞকেই শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছেন। বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। স্বাধ্যায় অর্থ বেদপাঠ, এই বেদের আশ্রয়ে থেকেই জ্ঞানযজ্ঞ বা বেদযজ্ঞ করে জীবনকে যজ্ঞময় করে তুলতে হয়। যজ্ঞকর্ম্ম বন্ধনের কারণ হয় না। তাই গীতার লক্ষ্য—মানবের সমগ্র জীবনটিকে যজ্ঞময় করে তোলা। গীতার সংবিধান হলো মানব জাতির সংবিধান—এই সংবিধান মেনে জীবন অতিবাহিত করলে মানব সমাজে সত্য- শান্তি- সাম্য ও ঐক্য সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় বেদমাতা, ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। জয় বেদ্ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতা মায়ের জয়।

No comments:

Post a Comment