Saturday, 1 September 2018

কুরআন সুরা--৫ মায়িদাহ-- ৮১ থেকে ৮৫ আয়াত

   বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৮১ থেকে ৮৫ আয়াত।]
  ৮১) তারা আল্লাহ্‌তে, নবীতে ও তার (মোহাম্মদের) প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করলে ওদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না, কিন্তু তাদের অনেকে সত্যত্যাগী।
      মর্মার্থঃ—মানুষ যদি নিজের প্রতিপালক, জ্ঞানী- গুণী আত্মা, নবী ও আল্লাহ্‌ প্রেরিত সত্যে বিশ্বাস করে, তবে কখনোও অন্যায়কারী ও অত্যাচারীদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে না ও তাদের সমর্থক হবে না। কিন্তু এই পৃথিবীর বুকে অনেকেই দেখা যায় সত্যত্যাগী রূপে কর্মক্ষেত্রে। এরা কেউই সত্যকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার সাধনা করে না।
     ৮২) অবশ্য বিশ্বাসীদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদী ও মুশরিকদেরকে তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখবে এবং যারা বলে ‘ আমরা খ্রিষ্টান’ মানুষের মধ্যে তাদেরই তুমি বিশ্বাসীদের নিকটতর বন্ধুরূপে দেখবে, কারণ তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসার –বিরাগী আছে, আর তারা অহংকারও করে না।
       মর্মার্থঃ—যারা পণ্ডিত সংসার – বিরাগী যাদের অন্তরে জ্ঞানের অহংকার নেই তারাই আল্লাহ্‌র প্রকৃত বন্ধু ও বিশ্বাসী আত্মা। আর যারা উগ্র স্বভাবের তাদের কোন ধর্ম নেই, তাই তারা ইহুদী ও মুশরিক। তারা আল্লাহ্‌র বন্ধু হতে পারে না।
       ৮৩) এবং যখন তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শ্রবণ করে তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে, তার জন্য তুমি তাদের চক্ষু অশ্রুবিগলিত দেখবে। তারা বলে, ‘ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস করেছি, অতএব তুমি আমাদেরকে (সত্যের) সমর্থকদের দলভুক্ত কর।
     মর্মার্থঃ—যারা বিশ্বাসী আত্মা হয়ে আল্লাহ্‌র বন্ধু হয়ে আছে, তারা আল্লাহ্‌র অবতীর্ণ আয়াত অশ্রুবিগলিত চক্ষু নিয়ে পাঠ করে। এরা সত্যের দলভুক্ত করে নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে আল্লাহ্‌র নিকট প্রার্থনা জানায়।
                   ৮৪) আর আমরা যখন প্রত্যাশা করি যে, আল্লাহ্‌ আমাদের সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করুন তখন আল্লাহ্‌তে ও আমাদের নিকট আগত সত্যে, আমাদের বিশ্বাস স্থাপন না করার কী কারণ থাকতে পারে?
        মর্মার্থঃ—মানুষ বিশ্বের যে প্রান্তেই থাক না কেন যদি তার অন্তরে আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস জন্মায় এবং সে সৎকর্মশীল হবার জন্য সাধনা শুরু করে, তবেই সে বিশ্বাসীদের বন্ধু হয়ে উঠে।
       ৮৫) অতঃপর তাদের এ কথার জন্য আল্লাহ্‌ তাদের পুরষ্কার নির্দিষ্ট করেছেন জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ পরোপকারীদের পুরষ্কার।
   মর্মার্থঃ—মানুষ যখনি পরার্থে জীবন উৎসর্গ করবে তখনি সে সবার হয়ে যাবে। আল্লাহ্‌ এই সব ব্যক্তিদের জন্য পুরষ্কার নির্দিষ্ট করেছেন জান্নাত, যার পাদদেশে প্রবাহিত আনন্দধারার নদী।
   জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।    

No comments:

Post a Comment