বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৮৬ থেকে ৯০ আয়াত।]
৮৬) এবং যারা
অবিশ্বাস করেছে ও আমার আয়াতকে (বাক্যকে) অগ্রাহ্য করেছে তারাই জাহান্নামবাসী।
মর্মার্থঃ—বার
বার একই উপদেশ দিয়ে অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে
হবে বিশ্বাসী ও সত্যজ্ঞানীদের। তারপরেও যদি আল্লাহ্র আয়াতকে কেউ অগ্রাহ্য করে
নিজের জীবনকে সৎ- সত্য- সুন্দর ও জ্যোতির্ময় রূপে গড়ে তোমার সাধনা না করে তবে
অবশ্যই সে জাহান্নামবাসী হবে।
৮৭) হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ্ তোমাদের জন্য যে সব
উৎকৃষ্ট বস্তু বৈধ করেছেন সে সবকে তোমরা অবৈধ করো না, সীমালংঘনকারীদের আল্লাহ্
মোটেই ভালবাসেন না।
মর্মার্থঃ—মানব
জীবনকে সৎ- সত্য- সুন্দর ও জ্যোতির্ময় রূপে গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই মানুষকে কিছু
কিছু উৎকৃষ্ট বস্তু গ্রহণ করতে হয়। আল্লাহ্ এই পৃথিবীর বুকে সেসব বস্তুর ব্যবস্থা
করে রেখেছেন মানব জাতির জন্য। সেই জ্ঞানকে অবজ্ঞা করে মানব জাতি যখনই বৈধ কাজকে ও
অবৈধ করে, তখনি তারা পথভ্রষ্ট হয়ে সীমালংঘনকারীদের পর্যায়ভুক্ত হয়, এদের আল্লাহ্
মোটেই ভালবাসেন না।
৮৮) এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে বৈধ ও উৎকৃষ্ট
জীবিকা দিয়েছেন তা হতে ভক্ষণ কর এবং আল্লাহ্কে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা সকলে
বিশ্বাসী।
মর্মার্থঃ—জীবন
ও জীবিকাকে পবিত্র করে গড়ে তোলার সাধনা যারা না করে তারা কিছুতেই নিজের
অন্তর্জগতের আলো দেখতে পায় না। আল্লাহ্কে ভয় করে, তাঁর আশ্রয়ে থেকে নিজের
অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ পবিত্র করে রাখতে না পারলে কেউ দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে
না। বিশ্বাসী হয়ে পবিত্র খাদ্য, পবিত্র
কথা, পবিত্র পরিবেশের মধ্যে যারা থাকে, তারাই জীবনসত্যকে জানতে পারে।
৮৯)
আল্লাহ্ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য, কিন্তু যে সব শপথ
তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কর সেগুলোর জন্য তিনি তোমাদেরকে দায়ী করবেন। অতঃপর এর
প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরণের খাদ্য দান করা, যা তোমরা তোমাদের
পরিজনদের খেতে দাও, অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করা, কিংবা একজন দাস মুক্ত করা, এবং
সামর্থ্য নেই তার জন্য তিন দিন রোযাব্রত পালন করা। তোমরা শপথ করলে এটাই হল তোমাদের
শপথের প্রায়শ্চিত্ত, তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা কর। এভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য
তাঁর নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
মর্মার্থঃ—বাইরের
জগতের পবিত্র কর্ম দ্বারা যত প্রায়শ্চিত্ত করতে থাকবে ততই অন্তর্জগৎ পবিত্র হয়ে
চিত্ত সুবুদ্ধিতে স্থির হতে থাকবে। কৃতজ্ঞতা চিত্তে নিজের শপথ রক্ষা করে যাওয়ায়
মানুষের ধর্ম। আল্লাহ্ মানুষকে যে পথ প্রদর্শন করেছেন সেই পথ ধরে যারা এগিয়ে যায়
তারাই কেবল লক্ষ্যে পৌঁছায়।
৯০) হে
বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের
কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
মর্মার্থঃ—মদ,
জুয়া, জাগতিক সম্পদের চিন্তা-ভাবনার বেদী বা আসর ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর বস্তু,
শয়তানের কাজ। তাই জ্ঞানের আশ্রয়ে থেকে তা বর্জন না করতে পারলে মানুষ তাতেই ডুবে
পথভ্রষ্ট হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এখানে মূর্তিপূজার বেদী বলতে মানুষের অহেতুক পার্থিব
জগতের কামনা- বাসনার পূজার বেদীকে বুঝানো হয়েছে। জ্ঞানীরা কখনো কামনা- বাসনার
মূর্তি গড়ে সেই মূর্তিপূজার বেদী নির্মাণ করে না। মদ খেলে যেমন মানুষের কোন হুঁশ
থাকে না, তেমনি কামনা- বাসনার মূর্তি কেউ একবার গড়তে শুরু করলে তা গড়ার আর শেষ হয়
না।
জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।


No comments:
Post a Comment