Sunday, 9 September 2018

কুরআন সুরা--৬ আন'আম-- ৪১ থেকে ৪৫ আয়াত

       বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের জয়।[ সুরা—৬ আন’আম—৪১ থেকে ৪৫ আয়াত।]
       ৪১) না শুধু তাঁকেই ডাকবে, ইচ্ছা করলে তিনি তোমাদের দুঃখ দূর করবেন এবং যাকে তোমরা তাঁর শরিক  করতে তা তোমরা বিস্মৃত হবে।
    মর্মার্থঃ—মানুষ বিপদকালে কেবল তাঁকেই ডাকে এই জাগতিক সম্পদের মোহ থেকে মুক্ত হয়ে, কিন্তু বিপদ কেটে গেলেই আবার সেই ভাবমূর্তিতে ফিরে যায়, যাকে আল্লাহ্‌র পরিবর্তে শরিক করে জীবন অতিবাহিত করছিল। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে মানুষের দুঃখ দূর করতে পারেন, যখন তিনি এই দুঃখ দূর করবেন তখন আর মানুষ নিজের এই কালিমালিপ্ত ভাবমূর্তিতে থাকবে না, সম্পূর্ণ নিজের ভাবমূর্তির কথা বা আল্লাহ্‌র পরিবর্তে শরিক করার কথা ভুলে যাবে।
       ৪২) আর তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট রসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর তাদেরকে অর্থসংকট ও দুঃখ দারিদ্র্য দ্বারা পীড়িত করেছি, যাতে তারা বিনীত হয়।
       মর্মার্থঃ—দুঃখ দারিদ্র আল্লাহ্‌র কৃপা। যারা বুদ্ধিমান তারা এই দুঃখ দারিদ্র বিনম্র চিত্তে মেনে নিয়ে বিনীত স্বভাবের মানুষ হয়ে উঠে। এই পৃথিবীর বুকে কত রসূল এসেছে এবং কতভাবে কষ্ট সহ্য করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম করেছে, তার ইতিহাস মানুষ আজ বিস্মৃত। 
        ৪৩) আমার শাস্তি যখন তাদের উপর আপতিত হল তখন তারা কেন বিনীত হলনা? অধিকন্তু তাদের হৃদয় কঠিন হয়েছিল এবং তারা যা করছিল শয়তান তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল।
          মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌র দিক থেকে মানুষের উপর শাস্তি নেমে আসে তাদেরকে বিনম্র স্বভাবের করে তোলার জন্য। মানুষ এই সত্য জেনেও যদি বিনীত না হয় তবে তো আরও মহাশাস্তির পথেই তারা এগিয়ে চলে। শাস্তি পাবার পরেও যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে যায়, তারা নিশ্চয় শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে। পাষাণ হৃদয়ের মানুষ কোনদিন আল্লাহ্‌র প্রিয় হতে পারে না, তারা শয়তানের দৃষ্টিতে বড়ই শোভনীয় চরিত্রের লোক হয়ে এই জগতের সুখ- সম্পদ দখল করে জাহান্নামের পথে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যায়।
     ৪৪) তাদের যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল, তখন তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম, অবশেষে তাদের যা দেয়া হল যখন তারা তাতে মত্ত হল তখন অকস্মাৎ তাদের ধরলাম, ফলে তখনি তারা নিরাশ হল।
      মর্মার্থঃ—ভাল পথে ডাক দিয়েও যখন মানুষ না আসে তখন তাদেরকে বিপরীত পথে নিয়ে যাওয়া হয়। এই জগতের ধন- দৌলত সহ মত্ত থাকার জন্য যত রকম উপকরণ দেয়া হয়। তারপর একদিন সুযোগ মতো তাদেরকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়, তখন তারা চারদিকে হতাশা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না।
   ৪৫) অতঃপর যালিম সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং প্রশংসা আল্লাহ্‌রই যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
  মর্মার্থঃ—অত্যাচারীদের আরও অত্যাচারী এবং বিনীতদের আরও বিনীত করা হয়। অবশেষে অত্যাচারী সম্প্রদায়ের বীজ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রশংসায় যারা সদায় রত থাকে তারাই এই জগতের সমস্ত কাজের মূলে কেবল তাঁকেই দেখতে পায়।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment