বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৭৬ থেকে ৮০ আয়াত।]
৭৬) বল, তোমরা
কি আল্লাহ্ ভিন্ন এমন কিছুর ইবাদত কর, যার তোমাদের ক্ষতি ও উপকার করার কোন ক্ষমতা
নেই; বস্তুত আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
মর্মার্থঃ—বস্তুত
আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। তাহলে তাঁর ইবাদত করতে হলে তাঁকে কোথায় পাওয়া যাবে?
এখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—তোমরা কি আল্লাহ্ ভিন্ন এমন কিছুর ইবাদত কর, যার
তোমাদের ক্ষতি ও উপকার করার কোন ক্ষমতা নেই? মানুষের ক্ষতি ও উপকার কে করে? আমরা
গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাবো আমরা সকলেই প্রকৃতির সন্তান, এই প্রকৃতিই আমাদের
উপকার ও ক্ষতির সাথে যুক্ত। আর এই প্রকৃতিকে পরিচালনা করে এমন এক অদৃশ্য শক্তি
যাকে অনুভব করা গেলেও দেখা যায় না। এই শক্তি সবার মধ্যে সক্রিয় থাকলেও সবার তা
উপলব্ধি করার ক্ষমতা নেই। এই শক্তিই সবার ক্ষতি ও উপকার করতে সক্ষম এবং আমরা জানতে
বা অজানতে কেবল বিভিন্নভাবে তাঁরই উপাসনা করে চলেছি। তাছাড়া সরাসরি আমাদের জীবনের
ক্ষতি ও উপকারের সাথে যুক্ত রয়েছে পঞ্চভূত অর্থাৎ মাটি, জল, বাতাস, তেজ ও আকাশ। আর
যুক্ত আছে মানুষের মন, বুদ্ধি ও অহংকার।
৭৭) বল, হে আসমানী গ্রন্থধারীগণ! তোমরা তোমাদের
ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করোনা, এবং যে সম্প্রদায় ইতোপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে ও
অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়েছে তাদের খেয়াল- খুশির অনুসরণ
করো না।
মর্মার্থঃ—কেউ
আল্লাহ্র বিধানকে উপেক্ষা করে কোন ধর্মের সৃষ্টি করতে পারে না। যারাই সৃষ্টি করে
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে, নিজেদের খেয়াল- খুশীকে অনুসরণ
করতে গিয়ে। যারা ধর্মগ্রন্থকে ধারণ করে আছে তারা যদি চিরন্তন সত্যকে বাদ দিয়ে
ধর্মদাস হয়ে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি সৃষ্টি করে তবে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়ে অন্যদের
পথভ্রষ্ট করবে এবং সহজ –সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়ে নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই ডেকে আনবে।
৭৮) বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল
তারা দাউদ ও মারইয়াম পুত্র কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা তারা ছিল অবাধ্য ও
সীমালংঘনকারী।
মর্মার্থঃ—সত্যকে
অস্বীকার করলেই মানুষের জীবনে নেমে আসে বিভিন্ন দিক থেকে অভিশাপ। অবাধ্য ও
সীমালংঘনকারীরা চিরকাল অভিশপ্ত হয়েই থাকে আলোর বর্তিকা স্বরূপ রসূলদের তরফ থেকে
তাদের অবিশ্বাসী অন্তরের জন্য।
৭৯)
তারা যে সব গর্হিত কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত
নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।
মর্মার্থঃ—অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়ের কার্যকলাপ নিকৃষ্ট, তারা এই
কার্যকলাপ থেকে একে অপরকে নিষেধ করে না এবং নিজেদের এই অন্যায়, অপরাধমূলক কাজ
কারবার বন্ধ করার জন্য শুভ বুদ্ধির আশ্রয়ে যাবারও উদ্যোগ গ্রহণ করে না।
৮০) তাদের অনেককে তুমি অবিশ্বাসীদের সাথে
বন্ধুত্ব করতে দেখবে। তাদের কৃতকর্ম কত নিকৃষ্ট-যে কারণে আল্লাহ্ তাদের উপর
ক্রোধান্বিত হয়েছেন! এবং তারা চিরকাল শাস্তিভোগ করবে।
মর্মার্থঃ—এই
কর্মভূমি, জ্ঞানপীঠ ও তীর্থভূমিতে এসে যারা অন্যায় কাজ কারবার করবে, তারা আল্লাহ্র
ক্রোধের আগুনের মধ্যেই থাকবে ও চিরকাল শাস্তিভোগ করবে।
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।


No comments:
Post a Comment