Wednesday, 1 August 2018

কুরআন সুরা--৩ আলে-- ইমরান-- ১১১ থেকে ১১৫

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে- ইমরান—১১১ থেকে ১১৫ আয়াত।]
  ১১১) সামান্য ক্লেশ দেয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, তখন তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
    ভাবার্থঃ—যারা সৎ পথে সকলের কল্যাণের জন্য কর্ম করে এবং সকলের মঙ্গলের জন্য জীবন উৎসর্গ করে, তাদেরকে শয়তানী বুদ্ধিযুক্ত লোকেরা হয়রাণ করতে পারে, বিভিন্ন প্রকারে ক্লেশ দিতে পারে, কিন্তু কোন ক্ষতি করতে তারা পারবে না। এমন কি তারা যদি যুদ্ধও করে তবে পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে বাধ্য হবে, কারণ আল্লাহ্‌ কখনো অন্যায়কারীদের সাহায্য করেন না। ধর্মের জয় ও সত্যের জয় শেষে ঘোষিত হয়।
     ১১২) আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতির বাইরে যেখানেই তাদের পাওয়া গেছে সেখানেই তারা লাঞ্ছনাগ্রস্থ হয়েছে। তারা আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং দারিদ্রগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্য যে, তারা আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করত এবং অন্যায়রূপে নবীগণকে হত্যা করত, এটা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালংঘন করেছিল।
   ভাবার্থঃ—যারা অন্যায়কারীর দল তারা আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি অথবা মানুষের প্রতিশ্রুতি ছাড়া, যেখানেই থাকে সেখানেই লাঞ্ছিত হয়। মানুষ তাঁর স্রষ্টার ক্রোধে পড়লে দারিদ্রগ্রস্ত হয়ে সবদিকে হীন হয়ে যায়। মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির দারিদ্রতা মানুষকে এতই নরকগামী করে যে তারা জ্ঞানী- গুণী- নবী- রসূলদেরও চিনতে পারে না, তাদেরকেও হত্যা করতে তাদের হাত কাঁপে না। এরা আল্লাহ্‌র সব নিদর্শনকে অস্বীকার করে অন্ধকার জগতে বাস করে, এরাই অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী।
       ১১৩) তারা সকলে এক রকম নয়, আসমানী গ্রন্থধারীদের মধ্যে একদল আছে অবিচলিত; তারা রাত্রিকালে নামাযে রত অবস্থায় আল্লাহ্‌র আয়াত পাঠ করে এবং সিজদা করে।
          ভাবার্থঃ—অন্যায়কারীদের সাথে বাস করেও একদল লোক তাদের চরিত্রের বিপরীত চরিত্র গঠন করে ধর্মগ্রন্থের জ্ঞানের আশ্রয়ে থেকে। তারা দিনমান সৎ পথে উপার্জন করে, রাত্রকালে নামায অন্তরে প্রতিষ্ঠা করে এবং স্রষ্টার অবতীর্ণ হওয়া আয়াত পাঠ করে সত্যজ্ঞান লাভের পথে এগিয়ে যায়। তারা নিজেদের অন্তরের শ্রদ্ধা- ভক্তি- বিশ্বাস দিয়ে বার বার তাদের প্রতিপালকে প্রণাম করে। এরা কখনো অন্যায়কারী দলভুক্ত নয়।
      ১১৪) তারা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে, সৎকার্যের নির্দেশ দেয়, আর অসৎ কার্য ( করা থেকে) নিষেধ করে এবং তারা সৎকার্যে প্রতিযোগিতা করে। তারাই সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
        ভাবার্থঃ—কে কোন ধর্মের আশ্রয়ে আছে অথবা কে কোন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে সত্যজ্ঞান লাভ করে অন্তরকে নির্মল করে, সেটা দেখার কারোও অধিকার নেই। যারা নিজের প্রতিপালক বা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে সৎ কর্ম করে ও সৎ কর্মের নির্দেশ দেয় তারাই সফলকাম। এই সব লোক সৎ কাজের প্রতিযোগিতা করে অসৎ কাজকে বন্ধ করার ব্যবস্থা করে এবং নিজ প্রতিপালকের প্রিয় হয়ে উঠে। এরাই সজ্জনদের অন্তরভুক্ত।
     ১১৫) তারা যা কিছু উত্তম কাজ করেছে তার প্রতিদান হতে কখনও বঞ্চিত করা হবে না। বস্তুত আল্লাহ্‌ সাবধানীদের সম্বন্ধে অবহিত।
    ভাবার্থঃ—যে যেমন কাজ করবে সে তেমন ফল পাবে। তবে সজ্জন ব্যক্তিরা ফলের আশা করে উত্তম কাজ করে না। তারা নিজের স্বভাব বা ধর্ম অনুসারেই উত্তম কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করে। আল্লাহ্‌ জ্ঞানীদের অতি প্রিয় ও জ্ঞানীরাও আল্লাহ্‌র অতি প্রিয়।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।  

No comments:

Post a Comment