Sunday, 1 July 2018

কুরআন সুরা--২ আল- বাকারা ১০৪ থেকে ১০৮ আয়াত

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—২ আল- বাকারা ১০৪ থেকে ১০৮ আয়াত।]
১০৪) হে বিশ্বাসীগণ! রা’য়েনা বলো না বরং উনজোরনা বল, ( অর্থাৎ আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন এ কথা বল), এবং শুনে রাখ, অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
  মর্মার্থঃ—বিশ্বাসী মানুষ হয়ে উঠার জন্য কঠিন সাধনার মাধ্যমে কঠিন কঠিন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সত্যকে সুন্দর রূপে প্রকাশ করতে না পারলে অহংকার সত্যজ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে রাখে। নিজের আচরণ দিয়ে অন্যকে শিক্ষা দিতে হয় বিশ্বাসী বা আল্লাহ্‌র ভক্তদের। এই আচরণের মধ্যে যেন সামান্যতমও জ্ঞান- ভক্তি- প্রেম-বিশ্বাসের অহংকারের ছোঁয়া না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যই এই আয়াত অবতীর্ণ হয় মানবজাতির জন্য। নিজের সততার প্রতি যাদের আস্থা থাকে না তারাই অবিশ্বাসীর ভূমিকা পালন করে জগৎসংসারে। আর এমন উপদেশ পাওয়ার পরেও যদি কেউ অবিশ্বাসী, অজ্ঞ হয়ে বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকা গ্রহণ করে এ পৃথিবীতে জীবন কাটায় তবে তার কঠিন শাস্তি রয়েছে, এতে তো কোন ভুল নেই।
  ১০৫) গ্রন্থধারীদের মধ্যে যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে তারা এবং মুশরিকগণ এটা চায় না যে, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। অথচ আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা বিশেষ ভাবে দয়ার পাত্র রূপে মনোনীত করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
  মর্মার্থঃ—শাস্ত্রজ্ঞানে পণ্ডিত অথচ জীবন সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে যাদুখেলা বা ভাঁওতাবাজির খেলা দেখিয়ে যারা পার্থিব জগতের সুখ সম্পদ ক্রয় করে তারা এবং মুশরিক অর্থাৎ অজ্ঞরা হয় পরশ্রীকাতর ও হিংসাপরায়ণ। তারা নিজের মঙ্গল চায় কিন্তু অপরের মঙ্গল হোক এটা মনে-প্রাণে চায় না। এমনকি যারা সত্যমুখী হয়ে জীবন অতিবাহিত করছে তাদের প্রতি কোন কল্যাণ বা অনুগ্রহ আসুক, সেটাও চায় না।সদায় হিংসা পরায়ণ মন- বুদ্ধি- অহংকার তাদের অন্তরে কাজ করে। কিন্তু আল্লাহ্‌র কৃপা, অনুগ্রহ, সাহায্য কে পাবার উপযুক্ত তা একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি উপযুক্ত পাত্র ছাড়া তাঁর জ্ঞান- ভক্তি-বিদ্যা- শক্তি-প্রেম,  যা ঐশীসম্পদ স্বরূপ তা দান করেন না। তিনি এব্যাপারে মহা অনুগ্রহশীল এবং অন্তর্যামী।
   ১০৬) আমি কোন আয়াত (বাক্য) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত হতে দিলে তা থেকে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
   মর্মার্থঃ--এই আয়াতে আল্লাহ্‌ পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েছেন তিনি নূতন কোন শাস্ত্র বাক্য অবতীর্ণ করছেন না, যা ছিল তাই তিনি সত্যরূপে প্রকাশ করছেন সর্বশক্তিমান হয়ে তাঁর প্রতিনিধির অন্তরে। তাহলে প্রত্যেক মানুষের জানা উচিত মানুষের  জন্যে সৎ- সত্য-সুন্দর সরল পথ, যা আলোর পথ, তা ছিল- আছে ও থাকবে, কেবল নিজ অন্তরাত্মাকে জাগ্রত করে তা জেনে নিতে হবে। মানুষের অন্তরাত্মা জাগ্রত হলেই সর্বশক্তিমান এর সাথে যুক্ত হয়ে যায়, তখনি অন্তরে সত্যজ্ঞানের উদয় হয়। মানুষের অন্তরে এই সত্যজ্ঞান দিয়েই মহা জাগতিক শক্তি সৃষ্টি করে চলেছেন মানব সন্তানকে অমৃতের সন্তানরূপে। এই মহাজাগতিক শক্তিকেই সকলে উপাসনা করে চলেছে বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন নাম দিয়ে।    
 ১০৭) তুমি কি জান না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ্‌রই? এবং আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই।
  মর্মার্থঃ— আল্লাহ্‌ বা ঈশ্বর মানব জাতির অন্তরে পূর্ণ মহাজাগতিক শক্তির জ্ঞান দান করেই তিনি সৃষ্টি করেন এই জাতিকে। আকাশমণ্ডলী ও এই পৃথিবীর পূর্ণ জ্ঞান ও শক্তি তাঁর অধীনে। আকাশমণ্ডলীতে কত কোটি গ্রহ- নক্ষত্র রয়েছে এবং তাঁরা সকলেই তাঁকে ঘিরে কাজ করে চলেছেন, তিনি এবিষয়ে জ্ঞাত। তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ এই মহাবিজ্ঞানের রহস্য জানেন না। মানুষ এই মহাজাগতিক শক্তির অধীনে অণু-পরমাণুর ন্যায় ক্ষুদ্র জীবন্ত সত্তা মাত্র। তিনিই তাঁর জ্ঞান ও শক্তির পরিমণ্ডলে সকলকে ধরে রেখে সকলের অভিভাবক হয়ে রয়েছেন। তাঁর কাছে যে যেমন ভাব- ভাবনা নিয়ে নিজের জীবনকে গড়ে তুলছে চাইছে, সে তেমনি সাহায্য পেয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক নিয়মে।তাঁর সাহায্যকারী কত কোটি সত্তা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অদৃশ্য ও দৃশ্য শক্তি ও সম্পদের ভাণ্ডার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দ্রুতগামী যানে চেপে তা দেখার শক্তি বিশ্বাসীদের ছাড়া অন্য কারো নেই। তাঁর অভিভাবকত্বের বিশালতা মাপার শক্তি কারও নেই। কেবল সৎ বুদ্ধির মানুষেরা তাঁর অধীনে কাজ করেই পরাশান্তির জগতে অবস্থান করেন।
   ১০৮) তোমরা কি তোমাদের রসূলগণকে সেরূপ প্রশ্ন করতে চাও, যেরূপ পূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? এবং যে বিশ্বাসের পরিবর্তে অবিশ্বাসকে গ্রহণ করে নিশ্চিতভাবে সে সরল পথ ( জান্নাতের পথ) হারায়।
  মর্মার্থঃ—মহাজাগতিক শক্তির অধীনে কত পবিত্র জ্ঞানীসত্তা কাজ করে চলেছেন দৃশ্য ও অদৃশ্য শক্তি নিয়ে তা সকলের অগম্য। যারা এই সত্যকে বিশ্বাস করে, জানার আগ্রহ নিয়ে সত্যজ্ঞানীর সান্নিধ্যে যান, তাঁরা তাঁদের অন্তরের প্রশ্নের উত্তর সহজেই পেয়ে যান। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে মূসাকে( সত্যজ্ঞানী সত্তাকে) প্রশ্ন করেন, তাঁদের প্রশ্নের উত্তর মিলে না। অবিশ্বাসীরা মিথ্যার আশ্রয়ে থাকার জন্য সত্যকে বিশ্বাস করতে পারে না, তাই তারা সহজ সরল পথ যা জান্নাত, স্বর্গ বা আলোর পথ তা হারিয়ে অন্ধকার কারাগার বা নরকেই থেকে যায়। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।  

No comments:

Post a Comment