Monday, 11 December 2017

Gita Mahatma 11 to 20 sloke

[ গীতা সকলের আশ্রয় দাতা। তাই কোন চিন্তা না করে গীতাকে আশ্রয় করে যেকোন শুভ কর্ম্ম যারা করেন তাঁরাই জীবনে সফল হন। জীবনের শুরু- মধ্য- শেষ কর্ম্মের বার্তা বহনকারী ও পথনির্দেশক এই গীতা। গীতার প্রতিটি শ্লোক- অধ্যায়- শব্দ আলাদা আলাদা শৃঙ্গ হয়ে ঐশ্বরিক শক্তি ও মহান ঐশ্বর্যপূর্ণ অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে চলেছে মানব জাতির জন্য। যে অমৃত পান করতে চায়, সে যেমন অমৃত পাচ্ছে, যে আবার খাঁটি ঘি দিয়ে লাল-চালের ভাত খেতে চায় সে তাই পেয়ে যাচ্ছে। গৃহী- সাধক- তান্ত্রিক- রাজা- মন্ত্রী- প্রজা- পণ্ডিত- দেব- দেবতা সকলের সুখফলপ্রদায়নী এই গীতা জননী। কখনো বিশ্বমাতা, কখনো বিশ্বপিতা, কখনো বেদমাতা, কখনো দেশমাতা বা রাষ্ট্রমাতা, কখনো গর্ভধারণী মাতা হয়ে গীতা মাতা সকলের সেবা করে চলেছেন। সমগ্র বিদ্যার সার গীতা পাঠ আমরা শেষ করেছি। গতকাল থেকে গীতা মাহাত্ম্য পাঠ চলছে। আজকে আমরা গীতা মাহাত্ম্যের ১১ থেকে ২১ শ্লোক শ্রদ্ধাসহকারে পাঠ করবো ও বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপাধন্য হয়ে উঠবো।]
১১) গীতার ভক্তিমুক্তি প্রধান অষ্টাদশ অধ্যায়রূপ সোপান দ্বারা প্রেমভক্তি আদি কর্ম্মে ক্রমশঃ চিত্তশুদ্ধি হয়।
১২) সাধুগণের গীতারূপ পবিত্র সলিলে স্নান সংসার- মলনাশক, কিন্তু শ্রদ্ধাহীনের ঐ কার্য্য হস্তি- স্নানের ন্যায় নিষ্ফল হয়।
১৩) যে ব্যক্তি গীতাশাস্ত্র অধ্যয়ন বা অধ্যাপনা করে নাই, মনুষ্যলোকে সে বৃথা কর্ম্মকারী।
১৪) অতএব যে গীতাশাস্ত্র জানে না, তাহা অপেক্ষা অধম আর কেহ নাই, তাহার জ্ঞান, কুলশীল ও মনুষ্য –দেহকে ধিক।
১৫) গীতার্থ যে না জানে তাহা অপেক্ষা অধম আর কেহ নাই, তাহার মনুষ্যদেহ, সদাচার, কল্যাণ, বিভব ও গৃহাশ্রমে ধিক।
১৬) গীতাশাস্ত্র যে জানে না তাহা অপেক্ষা অধম আর কেহই নাই; তার অদৃষ্ট, প্রতিষ্ঠা, পূজা, মান, মহত্বে ধিক।
১৭) গীতাশাস্ত্রে যার মতি নাই; তার সমস্তই নিষ্ফল; তার শিক্ষাদাতাকে ধিক, তার ব্রত, নিষ্ঠা, তপস্যা ও যশে ধিক।  
১৮--১৯) যে গীতার্থ পাঠ করে নাই তাহা অপেক্ষা অধম আর কেহ নাই; যে জ্ঞান গীতা- সম্মত নহে তাহা আসুর জ্ঞান; তাহা নিষ্ফল, ধর্ম্মরহিত এবং বেদবেদান্ত- বহির্ভুত, যেহেতু ধর্ম্মময়ী গীতা সর্ব্বজ্ঞানপ্রদায়িনী। গীতা সর্ব্বশাস্ত্রের সারভূত ও বিশুদ্ধ, তার তুল্য আর কিছুই নাই।
২০) যে ব্যক্তি একাদশী বা বিষ্ণুর পর্ব্বদিবসে, গীতা পাঠ করেন, তিনি স্বপ্নে জাগরণে, গমনে বা অবস্থানে, কোন অবস্থাতেই শত্রু কর্ত্তৃক পীড়িত হন না।
২১) শালগ্রাম শিলার নিকটে, দেবালয়ে, শিবমন্দিরে, তীর্থস্থানে বা নদীতটে গীতা পাঠ করলে নিশ্চয়ই সৌভাগ্য লাভ হয়।
[ ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।]

No comments:

Post a Comment