Monday, 25 December 2017

গীতা প্রথম অধ্যায় ২৪ থেকে ২৮ শ্লোক

[  পবিত্র গীতা হলো সকল জীব ও বস্তুর আত্মার গুরু। তিনিই আত্মাকে সত্যের পথ দেখিয়ে পরমাত্মার সাথে যুক্ত করার জন্য তৎপর। আমরা এই পবিত্র গীতাকে পরম গুরুর পদে বসিয়ে তাঁকে পূজা না করলে তাঁর রহস্য জানতে সক্ষম হবো না।  গুরু শিষ্যের জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচন করেন তত্ত্বজ্ঞান দ্বারা অন্তরের অজ্ঞানস্বরূপ অন্ধকার দূরীভূত করে, হৃদয়ের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মন্দিরকে আলোক উজ্জ্বল করে তোলার জন্য। আজকে প্রথম অধ্যায়ের – শ্রীশ্রীগীতার অর্জ্জুন- বিষাদযোগঃ শ্লোকের ২৪ থেকে ২৮ পর্যন্ত প্রদত্ত হলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা সহ সকলের মনোযোগ সহকারে পাঠ করার জন্য। হরি ওঁ। ]
২৪—২৫)সঞ্জয় উবাচঃ- এবমুক্তো হৃষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত। সেনয়োরুভয়োর্ম্মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমম।।২৪।। ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্ব্বেষাঞ্চ চ মহীক্ষিতাম। উবাচ পার্থ পশ্যৈতান সমবেতান কুরূনিতি।।২৫।। অনুবাদঃ- সঞ্জয় বললেন—হে ভারতপ্রবর! অর্জ্জুন শ্রীকৃষ্ণকে এরূপ বললে তিনি উভয় পক্ষের সেনার মধ্যভাগে ভীষ্ম দ্রোণ প্রভৃতি সকল রাজগণের সম্মুখে উত্তম রথখানি স্থাপন করে অর্জ্জুনকে বললেন—পার্থ, এই সমবেত কুরুগণকে দর্শন কর।
২৬) তত্রাপশ্যৎ স্থিতান পার্থঃ পিতৃনথ পিতামহান। আচার্য্যাম্মাতুলান ভ্রাতৃন পুত্রান পৌত্রান সখীংস্তথা। শ্বশুরান সুহৃদশ্চৈব সেনয়োরুভয়োরপি।।২৬।। অনুবাদঃ-- তখন অর্জ্জুন উভয় সেনার মধ্যেই পিতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ, পিতামহগণ, আচার্য্যগণ মাতুলগণ ভ্রাতৃগণ পুত্রগণ পৌত্রগণ মিত্রগণ শ্বশুরগণ ও সুহৃদগণকে দেখতে পেলেন।
২৭) তান সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্ব্বান বন্ধুনবস্থিতান। কৃপয়া পরয়াবিষ্টো বিষীদন্নিদমব্রবীৎ।।২৭।। অনুবাদঃ-- কুন্তীনন্দন অর্জ্জুন সেই সকল স্বজনকে যুদ্ধার্থে উপস্থিত দেখে পরম --করুণায় অভিভূত হয়ে বিষণ্ণচিত্তে এই কথা বললেন।
২৮)  দৃষ্টেমান স্বজনান কৃষ্ণ যুযুৎসূন সমবস্থিতান। সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখং চ পরিশুষ্যতি।।২৮।। অনুবাদঃ--অর্জ্জুন বললেন--- হে কৃষ্ণ! এই সব স্বজন এখানে যুদ্ধ করার জন্য অবস্থিত হয়েছেন দেখে আমার শরীর অবসন্ন হয়ে পড়েছে ও আমার মুখ শুকিয়ে যাচ্ছ।
[ সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে এখানে ভারতপ্রবর বলে সম্বোধন করেছেন, ভারত কথাটির অর্থ যিনি জ্ঞান আহরণে রত এবং প্রবর কথটির অর্থ ঋষি। দিব্য জ্ঞানপ্রাপ্ত সঞ্জয় এই গীতার গুহ্যজ্ঞানের বার্তা কেবল ঋষি সুলভ ব্যক্তির কাছেই বলতে পারেন। অর্জ্জুন উভয় সেনার মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে রথ রাখতে বললেন কারণ তিনি দেখতে চান যারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে যুদ্ধ করবেন তাঁদের সেই শক্তি আছে কিনা—তা দেখার জন্য। তিনি একে একে সবায়কে দেখলেন, দেখে তিনি অনুতপ্ত হয়ে পড়লেন। যে সমস্ত রথী- মহারথী ধর্মযুদ্ধ করতে এসেছেন তাঁদের অধিকাংশের মধ্যে ধর্ম সমন্ধে সামান্যতমও জ্ঞান নেই বললেও চলে। অহংকারে মত্ত হয়ে তাঁরা কেবল পার্থিব জগতের সুখের আশায় ধর্মযুদ্ধ করতে এসেছেন। সকলেই তাঁর আত্মীয়- স্বজন কিন্তু কেউ আত্মজ্ঞানী নন। কাদের সাথে তিনি যুদ্ধ করবেন এই চিন্তা করে তাঁর দেহ- মন অবসন্ন হয়ে পড়লো। সেই সাথে নিজের প্রতিও এক ধিক্কারজনক ভাব এলো যে তিনি সর্ব্বজয়ী হয়েও অধিকাংশ মানব সন্তানকে সত্যকে দর্শন করাতে পারেন নি। এইরূপ অমানুষের পৃথিবী জয় করে কি লাভ হবে? প্রকৃতপক্ষেই দুর্যোধনের রাজত্বে অমানুষে পরিপুর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাই অর্জুনের অন্তর বার বার কেঁপে উঠছিল। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। ]

No comments:

Post a Comment