Tuesday, 19 December 2017

গীতা জতীয় গ্রন্থ

[জাতীয় পতাকার ন্যায় জাতীয় গ্রন্থ রূপে শ্রীশ্রীগীতাকে মর্যাদা দেওয়া হউক ]
প্রায় এক  বছর ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলা, হিন্দি ও ইংরাজী ভাষায় শ্রীশ্রীগীতার ১৮টি অধ্যায়ের ৭০০ টি শ্লোক অনুবাদ করে বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে এই পবিত্র গীতাযজ্ঞ সম্পূর্ণ হয়েছে। আশা করি লাখ লাখ মানুষ এই যজ্ঞে অংশ গ্রহণ করে গীতা পাঠ সম্পূর্ণ করেছেন। যারা এখনো পড়েন নি তাঁদের কাছে অনুরোধ বিশ্ব গীতা সংঘ কিংবা যে কোন গ্রুপে গিয়ে এই গ্রন্থ পাঠ করুন ও নিজের জীবন রহস্য জেনে জ্ঞানী হয়ে উঠুন – মানব সমাজকে গীতার জ্ঞানের আলোতে আলোকিত করুন। গীতা কোন সঙ্কীর্ণ ধর্মগ্রন্থ নয়—এটা হচ্ছে সার্বজনীন এক জীবন গ্রন্থ। যার কবে সৃষ্টি কেউ বলতে পারবে না। সূর্য এই জ্ঞান ঈশ্বরের নিকট থেকে পান তারপর সূর্যের মাধ্যম দিয়ে এই জ্ঞান মনুষ্যলোকে আসে। এই জ্ঞানের পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে। এই ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে কোটি কোটি মানুষ ছিলেন কিন্তু সবায় এই গীতার জ্ঞান পেলেন না—পেলেন কেবল মহাত্মা অর্জুন, মহাত্মা সঞ্জয় ও মহাত্মা ধৃতরাষ্ট্র। মহাত্মা ধৃতরাষ্ট্র গীতার জ্ঞানের কথা শ্রবণ করলেন কিন্তু অন্ধ থাকায় তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শনের সৌভাগ্য লাভ করতে পারলেন না। এই বিশ্বরূপ দর্শন না করলে তো কেউ সর্বভূতে তিনি বিরাজ করছেন তা উপলব্ধি করতেই পারবেন না। স্বামী বিবেকানন্দ ঈশ্বরের বিশ্বরূপ দেখেছিলেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের কৃপায়—তারপরেই তিনি বলে উঠলেন –
শুন বলি মরমের কথা, জেনেছি জীবনে সত্য সার
তরঙ্গ আকুল ভবঘোর একতরী করে পারাবার
মন্ত্র তন্ত্র প্রাণ নিয়মন মতামত দর্শন বিজ্ঞান
ত্যাগ ভোগ বুদ্ধির বিভ্রম প্রেম প্রেম এই মাত্র ধন।।
ব্রহ্ম হতে কীট পরমাণু সর্বভূতে সেই প্রেমময়—
মন প্রাণ শরীর অর্পণ কর সখে সে সবার পায়-
বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছো ঈশ্বর
জীবে প্রেম করে যেই জন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।।
আজ সারা বিশ্বে যেভাবে সন্ত্রাসবাদ- মৌলবাদ- আতংকতাবাদ মাথা চাঁড়া দিয়েছে তাতে দুর্যোধনের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে—আর তাঁদের দলে পদলোভে ভীষ্ম –দ্রোণ – কৃপাচার্য – প্রভৃতি মহৎ ব্যক্তিগণ যোগদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাণ্ডব পক্ষে একা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কিভাবে তিনি তাঁদের রক্ষা করবেন তাই তারা ভয়ে সত্যকে স্বীকার করে নিয়ে পাণ্ডব পক্ষের হয়ে একটা কথাও উচ্চারণ করছেন না। এই অবস্থায় বিশ্ববাসীকে একমাত্র রক্ষা করতে পারে এই গীতার জাতীয় জ্ঞান। বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ আপনারা অন্তত একবার গীতা পাঠ করে দেখুন এবং আপনার সত্য মতামত স্বাধীনভাবে পেশ করুন মানব সমাজে – দেখুন এই গ্রন্থ মানব জাতীর জাতীয় গ্রন্থ কিনা—আরও দেখুন গীতার ন্যায় মানুষের কল্যাণকারী দ্বিতীয় গ্রন্থ আছে কিনা?

No comments:

Post a Comment