[ পবিত্র গীতা
কামধেনু। এর উৎস অফুরন্ত। দোহনকর্ত্তা
নিজের শক্তি ও সামর্থ্য অনুসারে যত ইচ্ছা অমৃত, এই পবিত্র গীতা মাতার
পবিত্র অঙ্গ থেকে দোহন করতে পারে। কিন্তু এমন কথা কখনই বলা যাবে না, গীতা-
গাভীমাতার সমস্ত দুদ্ধই নিঃশেষে দোহন করা হয়ে গেছে। গীতা শুধু বেদভগবান
শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ বাণী নয়। গীতাতত্ত্ব—ভগবত্তত্ত্ব—যা নিত্যই নব-কলেবর নিয়ে
প্রকাশিত হয়েই চলেছে যুগ-যুগ ধরে—এর রূপ ও গুণের কখনই শেষ নাই। গীতা নিখিল
শাস্ত্রের তথা বেদ- উপনিষদের সার। অতএব বেদের যা উপযোগীতা গীতারও সেই উপযোগীতা। যা
হতে ইষ্টপ্রাপ্তি এবং অনিষ্ট পরিহার সম্বন্ধে অলৌকিক উপায় জানা যায়, তা হলো বেদ।
গীতামাতাও সহজ পদ্ধতিতে ইষ্টপ্রাপ্তি এবং অনিষ্ট পরিহারের সম্বন্ধে যে উপায়, তার
নির্দেশ করেছেন মানবজাতিকে। আমরা এই পৃথিবী মায়ের কোলে সকলেই জীবন- পথের যাত্রী। যাত্রীদের
যতপ্রকার সুযোগ- সুবিধা, খাওয়া- দাওয়া ও স্বচ্ছন্দে পথ চলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন
তাঁর সন্তানদের জন্য গীতামাতা। তাই আমরা যত গীতামায়ের আশ্রয়ে থেকে জীবন পথে চলতে
অভ্যস্থ হবো, ততই আনন্দে পথ চলতে সক্ষম হবো, এতে কোন সন্দেহ নেই। আজকে আমরা
শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগের ১১ থেকে ২২ মন্ত্র উচ্চারিত করে আমাদের জীবন-পথে চলার পাথেয়
সংগ্রহ করে নিবো মায়ের কাছ থেকে।]
১১) ফলের
আকাঙ্ক্ষা না করে, যজ্ঞ করা অবশ্য কর্তব্য মনে করে, একাগ্রমনে শাস্ত্রবিহিত যে
যজ্ঞ করা হয়, তার নাম সাত্ত্বিক যজ্ঞ।
১২) হে
ভারতকুলশ্রেষ্ঠ, কোন ফল কামনা করে বা নিজের মহত্ত্ব ও দম্ভ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে
যে যজ্ঞ করা হয়, তার নাম রাজসিক যজ্ঞ।
১৩) শাস্ত্রবিধি
অনুসরণ না করে, অন্নদান না করে, মন্ত্রপাঠ না করে, যথাবিহিত দক্ষিণা না দিয়ে, মনে
শ্রদ্ধা না রেখে যে যজ্ঞ হয়, তার নাম তামসিক যজ্ঞ।
১৪) দেব, দ্বিজ,
গুরু ও জ্ঞানী ব্যক্তির পূজা, শৌচ, সরলতা ও ব্রহ্মচর্য্য, এই সকলকে শারীর তপস্যা
বলে।
১৫) যা কারো
উদ্বেগকর হয় না, যা সত্য, প্রিয় ও হিতকর--- এরূপ কথা বলা এবং যথাবিধি
শাস্ত্রাভ্যাস—এগুলিকে বাচিক তপস্যা বলে।
১৬) চিত্তের
প্রসন্নতা, সৌম্যভাব, বাকসংযম, মনঃসংযম এবং অন্যের সহিত ব্যবহারে অকপটতা—এই সকলকে
মানসিক তপস্যা বলে।
১৭) পূর্বোক্ত
এই তিন প্রকার তপস্যা যদি ফলাকাঙ্ক্ষাশূন্য ও ঈশ্বরে একাগ্রচিত্ত ব্যক্তিগণ
কর্ত্তৃক পরম শ্রদ্ধা সহকারে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাকে সাত্ত্বিক তপস্যা বলে।
১৮) লোকের কাছ থেকে প্রশংসা, ব্যাবহারিক সম্মান ও পূজা পাওয়ার জন্য
দম্ভসহকারে যে তপস্যা করা হয় এবং ইহলোকে যার ফল অনিত্য ও অনিশ্চিত, তাকে রাজসিক
তপস্যা বলে।
১৯) অবিবেচনাপূর্ব্বক নিজের শরীরকে কষ্ট দিয়ে অথবা পরের ক্ষতিসাধন করার
জন্য যে তপস্যা করা হয়, তাকে তামসিক তপস্যা বলে।
২০) দান করা কর্ত্তব্য—এই ভেবে স্থান- কাল- পাত্র বিবেচনা করে, যার কাছ
থেকে কোন উপকার পাওয়ার প্রত্যাশা নাই এমন ব্যক্তিকেও যে দান করা হয়, তাকে
সাত্ত্বিক দান বলে।
২১) প্রত্যুপকার পাওয়ার আশায় অথবা স্বর্গাদি ফলকামনায় অতি কষ্টের সহিত যে
দান করা হয় তাকে রাজসিক দান বলে।
২২) অনুপযুক্তস্থানে, অনুপযুক্তকালে ও অনুপযুক্তপাত্রে যে দান অথবা
শিষ্টাচারশূন্য ও অবজ্ঞা- সহকারে যে দান করা হয় তাকে তামস দান বলে।
[ জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। জয় গীতামাতার জয়। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
বেদযজ্ঞের জয়।]

No comments:
Post a Comment