[ গীতার জ্ঞান অনুসারে মানুষ মাত্রই ঈশ্বরের
অংশ। প্রত্যেক মানুষের-ই শ্রীভগবানের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করে দ্রব্য অর্পণ করার অধিকার
আছে। যা শুদ্ধ তাই ঈশ্বরকে অর্পিত হতে পারে। শুদ্ধ বস্তু শুদ্ধ চিত্তে ঈশ্বরকে
অর্পণ করা হলেই তা সত্ত্বগুণময় হয়। সেই বস্তুই গ্রহণ করা এবং সেই খাদ্যই মহাপ্রসাদ
রূপে আহার করার পথই সুসঙ্গত। শুদ্ধ বস্তু গ্রহণ করলে দেহ- মন- প্রাণ- চিত্ত শুদ্ধ
থাকে। পবিত্র আহার গ্রহণ করলে
দেহ- মন পবিত্র ও নিরোগ থাকে। মানুষের উচিত সর্ব্বাগ্রে
নিজের স্বভাবকে সত্ত্বগুণময় করে তোলা। আহার, যজ্ঞ ও তপস্যা এই তিনটি মানব জীবনের
শ্রেষ্ঠ কার্য্য। যা বাইরের জগত থেকে ভিতরের জগতে বিভিন্ন ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রহণ
করা হয় তাই আহার। যা ভিতর থেকে বাইরে দিই, অন্যের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করি তাই যজ্ঞ।
নেওয়া আহার, দেওয়া যজ্ঞ। আর বিশেষ কোন লক্ষ্যবস্তু প্রাপ্তির জন্য যে উদ্যম তা তপঃ
বা তপস্যা। এই তিনটির মধ্যে জীবনের সমগ্র কর্ম্মকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এজন্য
আহার, যজ্ঞ ও তপঃ এই তিনের ত্রিবিধ ভেদের কথা এই শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগে ভগবান
আলোচনা করেছেন ২৭ টি মন্ত্রে অর্জ্জুনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। আজকে এই
অধ্যায়ের ১ থেকে ১০ মন্ত্র আমরা উচ্চারিত করে নিজেদের দেহ- মন- প্রাণকে
সত্ত্বগুণময় করে তোলার প্রয়াস গ্রহণ করবো।]
১) অর্জ্জুন বললেন—হে কৃষ্ণ, যারা
শাস্ত্রবিধি লঙ্ঘন করে শ্রদ্ধাযুক্তভাবে যজ্ঞ পূজা প্রভৃতি করে থাকেন, তাদের
নিষ্ঠা কিরূপ? ইহা সাত্ত্বিকী, রাজসিকী না তামসিকী?
২) শ্রীভগবান বললেন—দেহীর নিষ্ঠা তিন
প্রকার, সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসী। উহা স্বভাবজাত। উহা কি প্রকার, তা শ্রবণ কর।
৩) হে ভারত, সকলেরই শ্রদ্ধা নিজ নিজ
অন্তঃকরণ প্রবৃত্তির তারতম্য অনুসারে হয়ে থাকে। জীব স্বভাবতঃ শ্রদ্ধাময়। যিনি
যেরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত, তিনি সেই প্রকারেরই হন।
৪) সাত্ত্বিক ব্যক্তিগণ দেবগণের পূজা করেন,
রাজসিক ব্যক্তিগণ করেন যক্ষ- রক্ষদের পূজা এবং তামসিক প্রভৃতির ব্যক্তিগণ
ভূতপ্রেতের পূজা করে থাকেন।
৫--৬) যারা দম্ভ, অহংকার, কামনা ও
আসক্তিযুক্ত এবং বলগর্বিত হয়ে শাস্ত্রবিরুদ্ধ কঠোর তপস্যা করে, তারা শরীরস্থ
ভূতগণকে কষ্ট দেয় এবং দেহ মধ্যে অন্তর্য্যামিরূপে অবস্থিত আমাকেও কষ্ট দেয়। এই সকল
বিবেক- বর্জিত ব্যক্তিকে আসুর- বুদ্ধি- বিশিষ্ট বলে জানবে।
৭) প্রকৃতিভেদে মানুষের তিন প্রকার আহার
প্রিয় হয়। সেই রূপ যজ্ঞ, দান ও তপস্যাও তিন প্রকার। এদের মধ্যে যে প্রভেদ, তা
বলছি, শোন।
৮) যা আয়ু, উৎসাহ ও বল বৃদ্ধি করে,
স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, চিত্তের প্রসন্নতা ও রুচি বর্ধন করে এবং যা সরস,
স্নেহযুক্ত, সারবান ও প্রীতিকর—এইরূপ আহার সাত্ত্বিক ব্যক্তিগণের প্রিয়।
৯) অতি কটু, অতি অম্ল, অতি লবণাক্ত, অতি
উষ্ণ, তীক্ষ্ণ, দাহকর, রুক্ষ এবং দুঃখ –শোক- রোগ উৎপাদনকারী আহার, রাজস
ব্যক্তিগণের প্রিয়।
১০) যে খাদ্য বহুপূর্ব্বে পক্ক বলে শীতল,
যার রস শুকিয়ে গিয়াছে বলে শুষ্ক, যা দুর্গন্ধযুক্ত, বাসি, উচ্ছিষ্ট ও অপবিত্র, তা
তামস ব্যক্তিদিগের প্রিয়।
[ জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। জয় শ্রীগীতা
মায়ের জয়।]

No comments:
Post a Comment