বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযানঃ—(৩) তাং—০১/
০৮/ ২০১৭ স্থানঃ—মথুরাপুর* মানিকচক* মালদা* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ হৃদয়ের শুদ্ধাভক্তি নির্ম্মলপ্রীতি এক মহাসম্পদ জেনে
বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে বেদযজ্ঞ করে যাও, সামাজিক যত প্রকারের ভেদ ভিন্নতা
আছে তা দূর করার জন্যে।]
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জ্জুন তথা মানব জাতিকে
শিক্ষা দিচ্ছেন, “মাং নমস্কুরু”। অর্থাৎ মাথাটা সতত নীচু করে রাখো আমার পায়ে।
সর্ব্বজীবে আমি আছি জেনে সকলের নিকট ধীর বিনীত অবনত হতে শিক্ষা করো। সকল কার্য্যের
কর্ত্তা, ভোক্তা, ফলদাতা, সকলই আমি—ইহা অন্তরে নিবিড়ভাবে বিশ্বাস করে অবনত হয়ে
চলতে শিখো। বিশ্বমানব শিক্ষার কর্ম্মী হয়ে বিশ্বমানবের কল্যাণে নিজের মনের দ্বার
উন্মুক্ত করে দাও। জাগতিক সমস্ত ধর্ম্ম ত্যাগ করে কেবল আমার আশ্রয়ে থাকো, বিশাল মন
নিয়ে। ভাগবতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন—“ শিরঃ তব নিবাসজগৎপ্রণামে”। জগন্নিবাস
শ্রীহরি, এই সত্য অনুভব করে অর্থাৎ সর্ব্বজীবে তাঁর বাস ইহা প্রত্যক্ষ করে শিরটি
সকলের নিকট বিনয়ে অবনত করে রাখাই ভক্ত বা বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মীর জীবনে শ্রেষ্ঠ
আচরণ। বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী ভক্তই গোবিন্দের সর্ব্বাধিক প্রিয়। ভক্ত ব্রাহ্মণ
হক, শূদ্র হক, স্ত্রী হক বা যে কোন বর্ণের হোক, সকলেই শ্রীভগবানের পরম প্রিয়।
সামাজিক যত প্রকারের ভেদ ভিন্নতা, ভক্তির কাছে সকলেই বিদূরিত। ভক্তিতে অধিকারীর
বিচার নেই। “ যেই ভজে সেই বড় অভক্ত হীন ছাড়। শ্রীকৃষ্ণ ভজনে নাই জাতিকুলাদি
বিচার”।। ভক্তিপথের এই উদারতা ও সার্ব্বজনীনতা নিরুপম। হৃদয়ের শুদ্ধাভক্তি
নির্ম্মল প্রীতি মানব জাতির এক মহাসম্পদ। এই সম্পদই মানবজাতিকে বিশ্বমানব শিক্ষার
কর্ম্মী করে তোলে। এই সম্পদ সকল জীবের হৃদয়েই রয়েছে। মানব জাতি এই সম্পদ লাভ
করলেই, তার হৃদয় থেকে জাতি- সম্প্রদায়- উঁচু –নীচু- বিভিন্ন ধর্ম্মের ভেদ- পণ্ডিত –মূর্খ
– ধনী –দরিদ্র ইত্যাদির অহংকার মুছে যায়। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:
Post a Comment