Thursday, 3 August 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ঃ--(৫) তাং -- ০৩/ ০৮/ ২০১৭

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযানঃ-(৫) তারিখঃ—০৩/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ ঈশ্বরমুখী হয়ে বেদযজ্ঞ করবে তবেই ভোগবাদী ক্ষণিক সুখের মোহ থেকে মুক্ত থাকবে, পশ্চিমের দুয়ার যারা খুলে দিয়েছে ভোগবাদী সুখের জন্য, তারা কেউ পিছনের দুয়ার দিয়ে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে না।]
 ভোগবাদীদের কথা—জীবনের উদ্দ্যেশ্য বহুজনের কল্যাণসাধন, ঈশ্বর নামক কোন কাল্পনিক বস্তুর লাভ করা নহে। কল্যাণ –সাধন কথাটি আমাদের কাছে অস্পষ্ট। কল্যাণ কি? দেহেন্দ্রিয়ের ভোগ্যবস্তুর মাত্রা বাড়ানোই কি কল্যাণ? কল্যাণ অর্থ যা হবার তাই হোক না কেন—একথা নিশ্চিত যে জীবনে কল্যাণ আসলে শান্তি আসবে। শিব আসলেই আনন্দ আসবে। মানব সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় দুঃখ ও অশান্তির মাত্রা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। মানব জীবনে শান্তি আনার জন্যই ভারতীয়েরা পশ্চিমের দুয়ার খুলে দিয়েছিল এবং তাদের প্রবর্তিত ধর্ম্মকেও মান্যতা দিয়েছিল। মানব জীবনে শান্তির প্রতিষ্ঠা করা ধর্মের একটা বিশেষ কার্য্য। এই কার্য্য যদি বিজ্ঞান সমাধা করতে পারতো, তাহলে ধর্ম্ম আপনা থেকেই সরে পড়তো মানব সমাজ থেকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মানব সমাজে এই ধর্ম্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞান মানুষকে যত ভোগবাদের দিকে নিয়ে চলেছে ততই মানুষ অজ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে নিজ নিজ ধর্ম্মের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। এর ফলে মানব সমাজে অশান্তির মাত্রা হাজার গুণ বেড়ে গেছে। তাই এখন ধর্ম্মের মঞ্চে প্রকৃত সত্যের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ভোগবাদী সুখের জন্য যে সব ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে, সে সব ধর্ম্মের মঞ্চ থেকে শান্তির বাণী মানব সমাজকে দিতে পারবে না। ভোগবাদী সুখ বলতে দেহের সুখই বোঝে, আর দেহের সুখের জন্যই সেসব ধর্ম্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেহ ছাড়া আত্মা বলে আর একটি বস্তু আছে—তাঁকে জানার জন্য যে ধর্ম্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কেবল সেই ধর্ম্মের ঋষিরাই বিশ্বমানবের জন্য শান্তির বার্তা রেখে গেছেন। আমরা তাঁদেরকে উপেক্ষা করে বলি দেহের সুখের জন্য আমাদের বিপুল ভোগ- সম্ভার বেড়েছে, অতএব তাঁদের বাণী এই বিজ্ঞানের যুগে মানব জীবনে কোন প্রয়োজন নেই। তাই পশ্চিমের পথ অনুসরণ করে আমাদের শিক্ষা- দীক্ষার মঞ্চ থেকে আত্মার সুখকে মর্ম্মান্তিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে মানব সমাজ কৃত্রিম ভোগ- সম্ভারের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সমস্ত ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছ, এর ফলেই এত অশান্তি। এই ভারসাম্য স্থির করে রাখতে হলে আত্মতত্ত্ব, আত্মার প্রয়োজন ও আত্মার আস্বাদন সম্বন্ধে মানব সমাজকে বিশেষভাবে অবহিত করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment