Friday, 4 August 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযানঃ-(৬) তাং ;-- ০৪/ ০৮/ ২০১৭

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযানঃ-(৬) তারিখঃ- ০৪/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ—ঘোড়শালা* জঙ্গিপুর* মুর্শিদাবাদ* পশ্চিমবঙ্গ* ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ যত হীনাচারী মহাদুর্বৃত্ত হোক না কেন, সে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে বেদযজ্ঞ শুরু করলেই, তার অন্তরে ভক্তির ভাব জাগ্রত হবেই, ভক্তির এমনই মহাশক্তি যে, তাকে স্পর্শমাত্র দেবতা করবে।]
 যে পিতা- মাতা- গুরু বা আচার্য্য- অতিথি ও জন্মভূমিকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছে, সেই মহান। নিজ জন্মভূমিকে যে মায়ের আসনে বসিয়ে, জন্মভূমির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে সদায় প্রস্তুত হয়ে আছে, সেই বিশ্বমাতার রূপ নিজের জন্মভূমির মধ্যেই দেখতে পেয়েছে। নিজ জন্মভূমিকে বিশ্বমাতার আসনে যে বসাবার জন্য তৎপর সেই তো বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী। তার কাছে কোন দেশ ছোট- বড় নয়, কোন দেশের মানুষ বা জীবও ছোট- বড় নয়। শ্রদ্ধা- ভক্তি –প্রেমের প্রভাবে তার জীবন থেকে সর্ব্ববিধ ক্লেশ নাশ হয়েছে এবং সর্ব্ববিধ শুভের উদয় হয়েছে। এই সর্ব্ববিধ ক্লেশ বিনাশের ফলে হীনাচারী মহাদুর্বৃত্ত ব্যক্তিটিও ধর্ম্মাত্ম হয়ে উঠবেন, এটাই হলো সনাতন ধর্ম্মের শিক্ষা। এর ফলেই মানুষের অন্তরে পরম জ্ঞানের শুভোদয় হবে এবং সেই মানুষ নিত্য শান্তির অধিকারী হবে। শ্রীভগবানের চরণে আশ্রিত যে ভক্তজন, সে কখনও বিনষ্ট হবে না। তারা কখনো স্রষ্টার সৃষ্টিকে নিজের থেকে আলাদা ভাবতেই পারবে না। বর্তমানে মানুষ ভগবানের চরণে আশ্রয় না নিয়ে ভোগবাদী ধর্মীয় নেতাদের চরণে আশ্রয় নিচ্ছে, এর ফলে বিশ্বের সর্বত্র গড়ে উঠছে বিচ্ছিন্নতাবাদ- সন্ত্রাসবাদ। শান্তির বাতাবরণ মানব সমাজ থেকে উড়ে যাচ্ছে কিছু উগ্রবাদী ও ভোগবাদী ধর্ম্মীয় মুখোশধারী নেতাদের জন্য। এই উগ্রবাদী ও ভোগবাদী নেতারা কেবল নিজেরাই ঈশ্বরের রাজত্বে বিনষ্ট হয় নি, এরা অন্য সকলকেও সেই বিনষ্টির পথে আহ্বান করে চলেছে। আমরা ভারতীর সন্তান, তাই ভারতবাসী—আমরা বিশ্বমাতার সন্তান, তাই বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী। আমরা আর্য্যঋষির বংশধর তাই আমাদের দেহে তাঁদের রক্তের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। তাই আমরা সকলেই বেদযজ্ঞ করার অধিকার জন্মসূত্রেই পেয়ে থাকি। বেদযজ্ঞের দ্বারাই আমাদের অন্তঃকরণের শুদ্ধি ঘটে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়।

No comments:

Post a Comment