বিশ্বমানব শিক্ষা
ও বেদযজ্ঞ অভিযানঃ—( ৯ ) তারিখঃ—০৭/ ০৮/ ২০১৭ স্থানঃ—কল্যাণী* নদীয়া* পশ্চিমবঙ্গ*
ভারত*
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ আর্য্য ঋষিদের ন্যায়
বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে মানব সমাজের ক্ষত স্থান পূরণ করে কর্ত্তব্য কর্ম্ম
করে চলো তবেই সে ধর্ম্ম হবে স্বধর্ম বা বেদযজ্ঞ।]
আহার করা দেহের
ধর্ম্ম, লোভ মনের ধর্ম্ম। নির্লোভ হয়েও আহার করা চলে। বিশ্রাম করা দেহের ধর্ম্ম,
অলসতা মনের ধর্ম্ম। অলস না হয়েও বিশ্রাম করা চলে। যুদ্ধ রাষ্ট্রধর্ম্ম, হিংসা মনের
ধর্ম্ম। অহিংস নির্ব্বৈর হয়েও যুদ্ধ করা চলবে না কেন? স্নেহময় হয়েও কি দণ্ড্যজনকে
দণ্ড দেওয়া চলে না? বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ আর্য্যঋষিদের কথাকেই কাব্যে স্থান দিয়ে
লিখেছেন----
“ দণ্ডিতের সাথে—দণ্ডদাতা
কাঁদে যবে—সমান দরদে। সর্ব্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার”।
দণ্ডনীয়জনকে দণ্ড
দিয়ে যদি দণ্ডদাতা সুখী হয়, তবে বুঝতে হবে কোথাও তার স্বার্থ লুক্কায়িত আছে। যদি
সে ব্যথিত হয়, দণ্ডিত ব্যক্তির সাথে বেদনায় সে আহত হয়, তবে বুঝতে হবে তার দণ্ড দান
স্বার্থগন্ধহীন, শুধুই কর্ত্তব্যের প্রেরণা।
আর্য্যঋষিদের
শিক্ষা ছিল মানুষকে বিশ্ববোধে জাগ্রত করে তোলে শান্তি- ঐক্য ও সাম্যের প্রতিষ্ঠা
করা এই পৃথিবীর বুকে। তাই আর্য্যঋষিরা মানুষের সামাজিক কর্ত্তব্যকে গুণানুসারে ভাগ
করে দিয়েছিলেন, সুষ্ঠু মানব সমাজ বিশ্বের বুকে গড়ে তোলার জন্য। যে সত্ত্বগুণী সে
সমাজকে ঊর্ধ্বে তুলবে। যে রজোগুণী সে সমাজকে মাটিতে অর্থাৎ এই পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে
রাখবে, শান্তি – ঐক্য ও সাম্যের প্রতিষ্ঠার দ্বারা। সত্ত্বগুণী দিবে আত্মার খাদ্য,
রজোগুণী দিবে দেহের খাদ্য। যে সত্ত্ব – রজমিশ্রিত গুণশালী, সে নৈতিক ভিত্তিতে সমাজ
রক্ষা করবে। তার নাম ক্ষত্রিয়। ক্ষত্রিয় শব্দের অর্থ ক্ষত হতে যিনি ত্রান করেন।
মানব সমাজে
যেখানে ক্ষত বা ক্ষয় বা ক্ষতি দেখা দিবে, ক্ষত্রিয়ের কার্য্য হবে তা হতে মানব
সংহতিকে রক্ষা করা। সেই ক্ষতি যার দ্বারাই হোক, কোন ব্যক্তি বা জাতি বা আদর্শবাদ—ক্ষত্রিয়ের
কর্ত্তব্য হবে তার সাথে যুদ্ধ করা। যুদ্ধ কেবল ক্ষত্রিয়ের কর্ত্তব্য নয়—এই জন্যই
সে সৃষ্ট,এটাই তার স্বধর্ম্ম। যে যখন দেশের শাসন কর্তা হবে, তখন সে স্বধর্ম্ম পালন
করে মানব মানব সংহতিকে রক্ষা করবে। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয়
ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়।

No comments:
Post a Comment