Friday, 6 October 2017

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৬৯) তাং ০৬/ ১০/ ২০১৭


  বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৬৯) তারিখঃ—০৬/ ১০/ ২০১৭         আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ--  [ বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ে একমন- প্রাণ ও আত্মা হয়ে গড়ে তোলো পবিত্র সংসার]

নারী-পুরুষ আলাদা লিঙ্গ হলেও মন- প্রাণ ও আত্মা তাদের আলাদা নয়। ঈশ্বরের সৃষ্টি নারী পুরুষ, সৃষ্টিকে পৃথিবীর বুকে ধরে রাখার জন্যেউভয়ের অন্তরে একই জ্ঞান ও শক্তি দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবীর মাটি দিয়েই। তাই তো মাটির টান অস্বীকার করার শক্তি মানুষের নেই। এই মাটির টানেই নার-পুরুষ রেখে চলেছে যুগ যুগান্তর ধরে তাদের বংশধর।গড়ে তুলেছে নারী-পুরুষ মিলিতভাবে তাদের ভালবাসার সংসার। সনাতন ধর্ম্মে সৃষ্টির প্রারম্ভকাল থেকে ভৈরব- ভৈরভীর তন্ত্র সাধনা চলে আসছে, সুখের সংসার গড়ে তোলার জন্য। সাংসারিক ধর্ম্মের মধ্যেই রয়েছে সিদ্ধি- ঋদ্ধি – বিভূতি – ঐশ্বর্য –বৈভব ও অভাবমুক্ত জীবন। পৃথিবী তাদের ঘর সেই কথা প্রেমের টানে ভুলে গিয়ে বাসা বেঁধেছে সুখের টানে এক কোণে অন্তরে গভীর আশা নিয়ে। এতো আশা, এতো ভালবাসা নিয়ে যাদের সংসার শুরু হয়, সেখানে বিচ্ছেদের ভয় কেন? নারী আর পুরুষ দুটি ডানা উড়ে যাবার জন্য স্বর্গলোকে। কেউ এক ডানা মেলে উড়ে যেতে  পারে নাঈশ্বর এই সৃষ্টি এমন সুক্ষ বিজ্ঞান দ্বারা করেছেন যে তোমাদের উপায় থাকবে না কোনো শুভ কাজ করার একে অপরকে ছেড়ে। নারী ও পুরুষের শক্তি মিলিত হলেই নূতন সৃষ্টি সম্ভব।তাই উভয়ে মিলে গড়ে তোলো পবিত্র সংসার। যে ঘর ঈশ্বরের জ্ঞান বিজ্ঞানের ঘরের সাথে সর্বদা যুক্ত থাকবে সে ঘরে শয়তান বাসা বাঁধতে পারবে না।ঘর করতে এসে তোমরা যদি শয়তানের ঘরের সাথে যুক্ত হও, তবে সংসারের সমস্ত পবিত্রতা হারিয়ে ফেলবে। সংসার আবর্জনার স্তূপে পরিণত হবে। সেই আবর্জনার স্তূপ থেকে নিজের স-সত্য-সুন্দর- জ্যোতির্ময় রূপকে তুলে নিয়ে যেতে পারবে না ঈশ্বরের ঘরে। ঝামেলা ঝঞ্ঝাট এড়িয়ে যত পবিত্র থাকতে পারবে সংসারে তত নিজেদের শক্তি বাড়বে, ততই শান্তির বাসা হয়ে উঠবে তোমাদের সংসার। তোমরা তখন উপলব্ধি করতে পারবে তোমাদের ছোট ঘর বা সংসার বিশ্ব সংসারের সাথে যুক্ত ও ঈশ্বরের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঘরের সাথে যুক্ত। ঈশ্বর তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন নিজের ঘরের সাথে যুক্ত রেখে তাঁর অধীনে কাজ করাবার জন্যে। তাঁর ঘর কত বড়ো কেউ তা হিসেব করে বলতে পারবে না। তাঁর ঘরে কত কর্মচারী তার হিসেব কেউ দিতে পারবে না। তিনিই সব জানেন। তাঁর কথা বলা বা বর্ণনা দেওয়ার শক্তি কেবল তাঁরই আছে। হরি ওঁ তৎ সৎ।


No comments:

Post a Comment