Friday, 27 October 2017

গীতা অভ্যাস যোগঃ ৩৩ থেকে ৩৯ শ্লোক

[ পবিত্র গীতা মানবজাতির জীবন দর্শন। এই গ্রন্থ পুনঃ পুনঃ পাঠেই মানুষের জীবনের পরিবর্তন হয়। মানুষের মন যে চঞ্চল তা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এই দুর্নিবার মনকে বশীভূত করার পথও দেখিয়েছেন। কু-অভ্যাস ত্যাগ করে সু- অভ্যাস ও বৈরাগ্য, এই দুই উপায়ে মনকে নিগৃহীত করতে হবে। কোনও বিষয়ে পুনঃ পুনঃ যত্ন করার নাম অভ্যাস। বহির্মুখী চঞ্চল মনকে অন্তর্মুখী করে আত্মস্থ করতে যে পুনঃ পুনঃ চেষ্টা সেটাই হচ্ছে মানব জীবনের ধ্যান। আজকে অভ্যাস যোগের ৩৩ থেকে ৩৯ মন্ত্র উচ্চারিত হচ্ছে, তার মধ্যে মহান অর্জ্জুনের উক্তি ৫টি এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ ২টি।]
৩৩) অর্জ্জুন বললেন—হে মধুসূদন, তুমি এই যে সমত্বরূপ যোগতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছ, মনের চঞ্চল স্বভাববশতঃ এই ভাব স্থায়ী হয় বলে আমার মনে হয় না।
৩৪) হে কৃষ্ণ, মন অতি চঞ্চল, দৃঢ় ও প্রবল। ইহার ধর্ম্ম; শরীর ও ইন্দ্রিয়াদির বিক্ষোভ উৎপন্ন করা। এই জন্যে আমার মনে হয় বায়ুকে কোন পাত্রে আবদ্ধ করা যেমন দুঃসাধ্য, মনকে নিরোধ করাও তেমনি অত্যন্ত কঠিন।
৩৫) শ্রীভগবান বলেন—হে মহাবাহু অর্জ্জুন, মন যে নিরোধ করা দুষ্কর ও চঞ্চল, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে হে কৌন্তেয়, ধ্যানের অভ্যাস এবং ঐহিক ও পারলৌকিক বিষয় ভোগে বিতৃষ্ণা দ্বারা উহাকে সংযত করা যায়।
৩৬) অভ্যাস ও বৈরাগ্য দ্বারা যার চিত্ত সংযত হয়নি তার পক্ষে যোগ অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য – ইহা আমার অভিমত। কিন্তু পুনঃ পুনঃ যত্নশীল ও জিতেন্দ্রিয় ব্যক্তি, বিহিত উপায়ে এই যোগ লাভ করতে পারেন।
৩৭) অর্জ্জুন বললেন—হে কৃষ্ণ যিনি প্রথমে শ্রদ্ধা সহকারে যোগাভ্যাসে প্রবৃত্ত হন, কিন্তু যত্নের অভাবে মার্গ হতে ভ্রষ্ট হওয়ায় যোগে সিদ্ধি লাভ করতে পারেন না, তিনি কি প্রকার গতি প্রাপ্ত হন?
৩৮) হে মহাবাহু, তিনি তো ব্রহ্মপ্রাপ্তির উপায়ভূত যোগমার্গে সাফল্য লাভ না করায় মোক্ষ হতে বঞ্চিত হন এবং কাম্য কর্ম্মের ত্যাগ হেতু স্বর্গাদি থেকেও বিচ্যুত হন। সুতরাং দুই দিক থেকে ভ্রষ্ট হয়ে তিনি বিচ্ছিন্নমেঘখণ্ডের মত কি নাশপ্রাপ্ত হন?
৩৯) হে কৃষ্ণ, তুমি আমার সংশয় নিঃশেষ রূপে ছিন্ন করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া এ সন্দেহ দূর করার মত উপযুক্ত অন্য কেউ নেই।
[ ভক্তি সহকারে পবিত্র এই গীতার মন্ত্র উচ্চারণ করলেই মানুষের মন থেকে সব সন্দেহ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই দূর করে দেন। জয় শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রী গীতা মাতার জয়। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। সকলের মঙ্গল হোক ও সকলেই মোক্ষ লাভ করে ভগবানের পাদপদ্মে আশ্রয় লাভ করুক এই কামনা করি।]

No comments:

Post a Comment