[ ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ ষষ্ট অধ্যায়ের অভ্যাসযোগে বলেছেন—যিনি সকল প্রাণির সুখ- দুঃখকে নিজের
সুখ ও দুঃখের ন্যায় অনুভব করেন, তিনিই মহান ও সর্ব্বশ্রেষ্ঠ যোগী। ভগবানকে দর্শন
করে ভক্ত যেমন আনন্দ পায়, ভগবানও ভক্তকে দর্শন করে তেমনি আনন্দলাভ করে থাকেন।
বিশ্বের কোন শাস্ত্রগ্রন্থে জীবের সাথে ঈশ্বরের এতো মধুর সম্পর্কের কথা উল্লেখ
নেই। তাই গীতা সার্ব্বজনীন গ্রন্থ, যা পাঠ করলে মানুষের বিবেক- জ্ঞান- বুদ্ধি
জাগ্রত হতে থাকে। আজকে সকলের জন্য পাঠ ধ্যানযোগ বা অভ্যাসযোগের ২৯ থেকে ৩২ শ্লোক।
২৯) যোগদ্বারা
সমাহিতচিত্ত যোগীর সর্ব্ব বিষয়ে সমদৃষ্টি হয়। তখন তিনি সকল জীবের মধ্যে ব্রহ্মকে
দর্শন করেন এবং ব্রহ্মের মধ্যে সকল জীব আছে বলে বুঝতে পারেন।
৩০) যিনি
সর্ব্বভূতে সকলের আত্মস্বরূপ আমাকে দর্শন করেন এবং সর্ব্বাত্মা আমাকে সর্ব্বভূতকে
দর্শন করেন, তাঁর কাছে আমি প্রত্যক্ষ হই এবং তিনিও আমার কাছে অদৃশ্য থাকেন না।
৩১) যে যোগী আমাকে সকল প্রাণী হতে অভিন্ন বলে বুঝতে
পারেন, সেই যোগী বিষয়সকলের মধ্যে অবস্থান করলেও আমাতেই স্থিত থাকেন।
৩২) হে অর্জ্জুন,
যিনি সকল প্রাণীর সুখ- দুঃখকে নিজের সুখ ও দুঃখের ন্যায় অনুভব করেন, আমার মতে তিনি
সর্ব্বশ্রেষ্ঠ যোগী।
[মানব জীবনে শোক, দুঃখ, ব্যাথা, বেদনা ইত্যাদি এলে মানুষ নিজস্ব জ্ঞান
হারিয়ে ফেলে। তখন তার দেহ থেকে জ্ঞান শক্তি চলে
যায়। এই সময় তার কি করা উচিত আর কি করা অনুচিত তা ভেবে পায় না। এই ভাবনার মাঝে সে
কেবল জীবনের অশুভ ইঙ্গিত গুলি দেখতে পায়। এই বিষাদের ছায়া তার জীবনকে এমন অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে ফেলে যে সে আর
ভবিষ্যৎ জীবনের আলো দেখতে পায় না। এই অবস্থা কেবল অর্জুনের জীবনে নয় প্রত্যেক মানব জীবনে আসে। সাধারণ মানুষ
অজ্ঞানবশতঃ কিংকর্তব্য বিমূঢ়
হয়ে পড়ে এবং জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। অর্জ্জুন মহাবীর তাছাড়া তাঁর রথের সারথি জ্ঞান।
তিনি কিভাবে এই জ্ঞান সারথিকে পরিত্যাগ করে আপন রথ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করবেন?
আমাদের জীবন অর্জুনের ন্যায় হয়ে উঠলে জীবনের
কোন সমস্যাকেই সমস্যা বলে মনে হবে না। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতার জয়।]

No comments:
Post a Comment