বিশ্বমানব শিক্ষা ও
বেদযজ্ঞ অভিযান(৮৮) তারিখঃ- ২৫/ ১০/ ২০১৭
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ--[ বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে তোমরা সদায় যিনি সর্বজয়ী ও
জ্ঞানময় তাঁর উপাসনা করে এগিয়ে চলো।]
বেদ যজ্ঞ হচ্ছে মানব জীবনকে সদায়
উন্নত ও সত্যমুখী করে ধরে রাখার এক প্রক্রিয়া, যা প্রচীনকাল থেকে চলে আসছে মানব
কল্যাণমুখী হয়ে। উপাসনা- গবেষণা ও সাধনা আলাদা কিছু নয়। যারা সর্বজয়ী ও জ্ঞানময়
পবিত্র সত্তাকে নিয়ে উপাসনা- সাধনা বা গবেষণা চালায় তারা সেই সত্তায় লীন হয়ে যায়।
তাদের আর নিজস্ব বলতে কিছু থাকে না। সর্বজয়ী ও জ্ঞানময় পবিত্র সত্তাকে নিয়ে চিন্তা
করতে করতে তারা খুঁজে পায় তাঁকে নিজের হৃদয় মন্দিরে। তাঁকে নিজের মধ্যে অবস্থান
দেখে তারা নির্বিকার –নিরাকার হয়ে নিজের দেহ-মন-প্রাণ উৎসর্গ করে তাঁর চরণে, তখনি
তিনি সাকার হয়ে জেগে ওঠেন ও তাঁর কাজ শুরু করেন নিজের ইচ্ছায়। এই অবস্থায় মানুষের
মধ্যে ঈশ্বরের পূর্ণ শক্তি ও জ্ঞানের লীলা খেলা চলে মানুষকে সুপথে বা তাঁর পথে
আনার জন্যে। মানুষ তখন কোনো কাজ করে না – তার দেহের জাগ্রত দেবতা কাজ করে চলে
সর্বজয়ী ও জ্ঞানময় পবিত্র সত্তা রূপে। সেইকালে তার দেহ হয়ে ওঠে ঈশ্বরের
জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঘর। সেই ঘর থেকে ঈশ্বর নিজের ইচ্ছামতো জ্ঞান- বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা
করে চলেন-- তাঁর সৃষ্টির মঙ্গলের জন্যে। মানুষের ভুলে যাওয়া তত্ত্ব নূতন রূপ দিয়ে
প্রকাশ করেন—পথভ্রষ্ট মানুষকে উদ্ধার করার জন্যে। তাঁর সত্য কেবল তিনিই জানেন—তাই
তিনি নিজে সত্য প্রকাশ করে মানুষকে সত্যের পথ দেখিয়ে চলেন বিভিন্ন উপায়ে। সাহিত্য,
দর্শন, কলা, বিজ্ঞান, শিল্প সর্বত্র তিনি বিরাজ করেন সর্বজয়ী ও জ্ঞানময় পবিত্র
সত্তা রূপে। সারা বিশ্ব জুড়ে রথী- মহারথীর সৃষ্টি করেন তিনি নিজ ইচ্ছায় তাঁকে ঘিরে
একটি বলয়ের মধ্যে। বিশ্বমানব শিক্ষার মঞ্চে বেদ যজ্ঞের বলয় কলি ও সত্যযুগের
সন্ধিক্ষণে একটি সর্বশক্তিমান বলয়। এই চক্র বা বলয় ভেদ করে মানুষের পালাবার কোনো
পথ নেই। ভালো- মন্দ সকল সৃষ্টিকে তিনি ধারণ করেছেন এই বলয়ের মধ্যে। সবাইকে তিনি
বিশ্বমানব শিক্ষার জ্ঞানতরীতে নিয়ে মহাশূন্যময় জগতের সপ্তলোক ভ্রমণ করিয়ে যথাযোগ্য
মর্যাদা দান করবেন নিজ ইচ্ছা অনুসারে। বিশ্বমানব শিক্ষার সুত্র ধরে তিনি পৃথিবীকে
ভারমুক্ত করে এখানে সত্যযুগের প্রতিষ্ঠা করে বেদ ভিত্তিক বা জ্ঞান ভিত্তিক
সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠা করবেন। আগামী পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে বিশ্বমানব শিক্ষা
জ্ঞানতরী বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে পারাপার করবে জীবকে বিভিন্ন লোকে তাঁর সৃষ্টিকে নূতন
রূপে সাজাবার জন্যে। হরি ওঁ তৎ সৎ।

No comments:
Post a Comment