Sunday, 29 October 2017

গীতা জ্ঞানবিজ্ঞান যোগঃ ১৪ থেকে ১৯ শ্লোক

[জাতীয় গ্রন্থ পবিত্র গীতার সামগ্রিক জ্ঞানই ঈশ্বরীয় জ্ঞান। মানুষের দৃষ্টি ব্যাষ্টিতে, ঈশ্বরের দৃষ্টি সমষ্টিতে। মানুষের সত্যগ্রহণ খণ্ড খণ্ড ভাবে, ঈশ্বরের সত্যানুভুতি অখণ্ডভাবে। আমরা দেখি টুকরা টুকরা, ঈশ্বর দেখেন গোটা। আজকে গীতার জ্ঞানবিজ্ঞানযোগঃ অধ্যায়ের ১৪ থেকে ১৯ শ্লোক সকলের পাঠের জন্য প্রদত্ত হল – এই বেদযজ্ঞ আসরে।]
১৪) আমার ত্রিগুণাত্মিকা অলৌকিকী মায়া অতিক্রম করা অত্যন্ত কঠিন। যারা আমাকে আশ্রয় করে আমার শরণাগত হয়ে আছে তাঁরাই এই মায়া নদী উত্তীর্ণ হয়।
১৫) যারা দুষ্কৃতকারী ও বিবেকবুদ্ধিহীন সেই নরাধমগণ মায়ার প্রভাবে জ্ঞান হারিয়ে আসুর ভাব আশ্রয় করায় আমার শরণাপন্ন হয় না।
১৬) হে ভারতকুলশ্রেষ্ঠ, চার প্রকার সুকৃতিশালী লোক আমার ভজনা করেন। তারা কেউ বিপদগ্রস্থ, কেউ তত্ত্বজ্ঞান লাভ করতে ইচ্ছুক, কেউ অর্থ অভিলাষী, কেউ বা জ্ঞানী ভক্ত।
১৭) তাদের মধ্যে আমাতে নিষ্কাম বুদ্ধিতে অবস্থিত এবং একমাত্র আমাতেই ভক্তিমান জ্ঞানীই শ্রেষ্ঠ। আমি জ্ঞানীর অত্যন্ত প্রিয়, তিনিও আমার অত্যন্ত প্রিয়।
১৮) ইহারা সকলেই মহান। কিন্তু জ্ঞানীকে আমার আত্মা বলেই মনে করি। কারণ সেই সমাহিতমনা জ্ঞানী আমাকে সর্ব্বোৎকৃষ্ট গতি মনে করে আমাকেই আশ্রয় করেন।
১৯) বহু জন্ম অতীত হওয়ার পর ‘সকল বস্তুই বাসুদেব’ এই প্রকার জ্ঞান লাভ করে জ্ঞানী সাধক আমাকে পেয়ে থাকেন। তবে এরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ। [গীতা বিশ্বমানবের জাতীয় গ্রন্থ, এই গ্রন্থ মানুষকে শান্তি, ঐক্য ও সাম্যের সত্য পথ দেখিয়েছেন।  জয় বেদ্ভগবান বাসুদেবের জয়। জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়। জয় ভারতমাতা ও বিশ্বমাতার জয়। জয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীশ্রীগীতার জয়।]

No comments:

Post a Comment